রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
হিলিতে মাদকসহ বিএনপির চার নেতাকর্মী গ্রেফতার মায়ের সঙ্গে অভিমান করে প্রাণ গেল অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর জাতীয় নেতা আব্দুল মালেক উকিলের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শারদীয় দুর্গাৎসব উপলক্ষে নওগাঁয় অসহায় দুস্থ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে সাংসদ জাহিদুল ইসলাম ধলু’র বস্ত্র বিতরণ রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে পাথর বেঁধে ডুবিয়ে রাখা যুবকের মরদেহ উদ্ধার, আটক ১ বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র আগামী ৩ মাসেও চালু হওয়ার সম্ভবনা নেই বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ  নওগাঁয় কুড়াল দিয়ে ভেঙে দিল গনেশ প্রতিমা মাটিরাঙ্গায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে তবলছড়ি বিএনপির পরিচ্ছন্নতা অভিযান। রাঙামাটিতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ২ মাটিরাঙ্গায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বিধবার পাশে উপজেলা বিএনপি।

চৌগাছায় গাছে গাছে আমের মুকুল মৌমাছির ভিড়

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ।
  • Update Time : রবিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ১৬৬ Time View

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) : যশোরের চৌগাছায় গাছে গাছে আমের মুকুল শুরু হয়েছে। মৌমাছিরা মুকুলে করছে ভিড়। প্রকৃতিতে যখন মাঘের হাওয়ার শীতের কাঁপন তখন শীত ভেদ করে পাতার ফাঁকে ফাঁকে দেখা মিলছে আমের সোনালি মুকুলের। ইতিমধ্যে মৌ মৌ ঘ্রাণ ছড়াতেও শুরু করেছে প্রকৃতিতে।

রোদ-কুয়াশার লুকোচুরির মধ্যেই উপজেলার জগদিশপুর ইউনিয়নের স্বর্পরাজপুর গ্রামের আম চাষী হাসান শাহ-রিয়ারের আমের বাগানের প্রকৃতি সাজাতে সোনালি মুকুল প্রস্ফুটিত হচ্ছে গাছে গাছে। তিনি এরই মধ্যে বাগান পরিচর্যায় নেমে পড়েছেন। এবার অনেক গাছে আগাম মুকুলের দেখা মিলছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন, মৌসুম শুরুর আগে গাছে মুকুল আসা তেমন ভালো নয়। কারণ আগেভাগে মুকুল আসায় কুয়াশায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে গাছে গাছে আগাম মুকুলে বাগানের মালিক পেটভরা এলাকার আব্দুল হামিদসহ অন্যান্য চাষিরা বেজাই খুশি।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নারায়নপুর ইউনিয়নের হাজরাখানা, পেটভরা, বন্দুলীতলা, হাকিমপুর ইউনিয়নের দুলালপুর, মাঠচাকলা, দেবীপুর, জগদিশপুর ইউনিয়নের স্বর্পরাজপুর, মির্জাপুর, মাড়–য়া, জগদিশপুর, পাতিবিলা ইউনিয়নের, মুক্তাদহ, পুড়াহুদা, নিয়ামতপুর এলাকায় অপেক্ষাকৃত ছোট ছোট আমগাছে মুকুল আসতে শুরু হয়েছে। কিছু কিছু গাছে মুকুলে ছেয়ে গেছে। সেই মুকুলের সৌরভ ছড়াচ্ছে বাতাসে। মৌমাছি মধু সংগ্রহে ব্যস্ত ভিড় করছে বাগানে। অন্যদিকে মুকুল আসা শুরুর পর থেকেই বাগানের পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন আম বাগানের মালিকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা য়ায়, এ অঞ্চলে ১২ থেকে ১৫ জাতের আম চাষ হয়ে থাকে। আর সারা বাংলাদেশে রয়েছে প্রায় ২শ ৭০ জাতের আম। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ফজলী, গোপাল ভোগ, মোহন ভোগ, ন্যাংড়া, হিমসাগর, কৃষাণ ভোগ, মল্লিকা, লক্ষণা, আম্রপলি, দুধসর, হাঁড়িভাঙ্গা, সিঁন্দুরী, আশ্বিনা আম। এ উপজেলায় ৬৫০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ রয়েছে। এদিকে এরইমধ্যে মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণে গাছে গাছে মৌমাছির গুঞ্জন শুরু হয়েছে। গাছের প্রতিটি শাখা-প্রশাখায় তাই চলছে মৌমাছির আনাগুনা। তাই বছর ঘুরে আবারও ব্যাকুল হয়ে উঠেছে আম চাষিরা।

আম চাষি ও বাগান মালিক আন্দারকোটা গ্রামের আলা উদ্দীন বলেন, মাঘের মাঝামাঝিতে গাছে মুকুল দেখে তারা বুঝছেন, আমের মৌসুম এসে গেছে। ভালো ফলনের আশায় জোরেশোরে বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত বাগান মালিকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার গাছগুলোতে মুকুলের সমারোহ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে এবার আমের বাপার ফলন হবে। কৃষি বিভাগ জানায়, আমের ফলন নির্ভর করে আবহাওয়ার ওপর। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বা¤পার ফলনের আশা করছেন বাগান মালিকরাও।

উপজেলার নারায়পুর আম চাষি নেপাল বলেন, তার একটি আম বাগান রয়েছে। অধিকাংশ গাছেই মুকুল দেখা দিয়েছে। তাও খুব সামান্য। সম্ভাব্য মুকুলের মাথাগুলোকে পোকা মাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য বিভিন্ন ঔষধ ¯েপ্র করা হচ্ছে। তবে কিছুদিন থেকে ঘন কুয়াশার কারণে মুকুল কিছুটা নষ্ট হয়েছে। উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, এবার শেষ সময়ে শীতের প্রকোপ থাকার পরেও আমের মুকুল এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অপেক্ষাকৃত উষ্ণ এলাকায় কিছু কিছু গাছে আগাম মুকুলের দেখা মিলেছে। ফালগুনের শুরুতেই এবার শতভাগ গাছেই প্রস্ফুটিত হবে মুকুল। আর এক সপ্তাহের মধ্যে পাল্টে যাবে আম বাগানের চেহারা। সোনালি মুকুলের সুবাসিত গন্ধে মুখরিত হবে বাগান। সে আভাস এখনই পাওয়া যাচ্ছে উপজেলার প্রকৃতিতে। তাই এই অঞ্চলের মানুষের আম গাছ ও মুকুলের যতœ নিতেই ব্যস্ত সময় কাটছে।

উপজেলার জগদিশপুর গ্রামের আমবাগান মালিক আমিনুর রহমান বলেন, আমার বাগানে কিছু কিছু গাছে মুকুল দেখা দিয়েছে। তবে ২০-২৫ দিনের মধ্যে সব গাছে মুকুল চলে আসবে। তিনি বলেন এ উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতেও চাষ হয়ে থাকে নানা জাতের আম। লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছরই বাড়ছে আম চাষের জমি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সমরেন বিশ্বাস বলেন, এখনও পুরোদমে গাছে মুকুল আসেনি। তবে কিছু কিছু গাছে এসেছে। এ সময় পরিচর্যার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু আমাদের সাধারণ চাষিদের বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে কিছু প্রতিষ্ঠান অতি মুনাফার লোভে অতিরিক্ত রাসায়নিক ও হরমোন প্রয়োগ করাচ্ছেন। এতে আমের গুণগত মান ঠিক থাকবে না। ফলে অতিরিক্ত রাসায়নিক প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকতে আমরা বাগান মালিকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।

 

কিউএনবি/আয়শা/২২ জানুয়ারী ২০২৩/সন্ধ্যা ৬:৩০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit