বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন

ব্যক্তির সম্পদে সমাজ ও পরিবারের অধিকার

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ১৩৮ Time View

ডেস্ক নিউজ : মালিকানাধীন সম্পদে নিজের ভোগাধিকার আসলে কতটুকু—এ বিষয়ে হাদিসে খুবই যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যা এসেছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মানুষ বলে, আমার সম্পদ আমার সম্পদ। অথচ তিনটিই হলো তার সম্পদ, যা সে খেয়ে নিঃশেষ করে দিল। অথবা যা সে পরিধান করে পুরনো করে দিল। কিংবা যা সে দান করল এবং সঞ্চয় করল। এ ছাড়া অবশিষ্টগুলো তার থেকে চলে যাবে এবং তা মানুষের জন্য রেখে যেতে হবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ৭৩১২)

ইসলাম ব্যক্তির সম্পদের ওপর সমষ্টির অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছে। পবিত্র কোরআনে নিকট-আত্মীয়দের অধিকার বর্ণনা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘আর তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক কোরো না। আর মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম, অভাবগ্রস্ত, নিকট-প্রতিবেশী, দূর-প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথী, মুসাফির ও তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের প্রতি অনুগ্রহ করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ দাম্ভিক, অহংকারীকে পছন্দ করেন না।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৩৬)

অনুরূপভাবে কোরআন ব্যক্তির সম্পদের ওপর তার প্রতিবেশীদের অধিকারও প্রদান করেছে। এর অর্থ হচ্ছে, প্রত্যেক পাড়ায়, মহল্লায়, অলিগলিতে তুলনামূলকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিদের উচিত সংশ্লিষ্ট পাড়া, মহল্লা ও গলির অসচ্ছল লোকদের সহায়তা দান করা। এই দ্বিবিধ দায়িত্বের পর কোরআন সাহায্যের মুখাপেক্ষী বা সাহায্যপ্রার্থীকে নিজের সামর্থ্যানুযায়ী সাহায্য করার জন্য প্রত্যেক সচ্ছল ব্যক্তির ওপর দায়িত্ব অর্পণ করে। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘মানুষের ধনসম্পদে প্রার্থিত (অভাবগ্রস্ত) ও বঞ্চিতদের অধিকার আছে।’ (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ১৯)

আর বঞ্চিত বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যে আপনার কাছে সাহায্য চাইতে আসে না; কিন্তু সে নিজের জীবিকা সংস্থান করতে পারে না—এ কথা আপনি জানেন। আপনার অর্থসম্পদে এহেন ব্যক্তিরও অধিকার আছে। এ অধিকারগুলো ছাড়াও ইসলাম মুসলমানদের আল্লাহর পথে দান করার সাধারণ নির্দেশ দিয়ে তাদের অর্থস্পদে গোটা সমাজ ও রাষ্ট্রের অধিকারও কায়েম করেছে। এর অর্থ হচ্ছে, মুসলমানকে দানশীল, উদার হৃদয়, সহানুভূতিশীল ও মানব-দরদি হতে হবে।

স্বার্থসিদ্ধির প্রবণতা পরিহার করে নিছক আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে প্রতিটি সৎকাজে এবং ইসলাম ও সমাজের বিভিন্ন প্রয়োজন পূর্ণ করার জন্য অর্থ ব্যয় করতে হবে। এটি একটি প্রচণ্ড শক্তিশালী নৈতিক শক্তি। এই স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দানের পর ইসলাম আর একটি দানকে অপরিহার্য করে দিয়েছে। সেটি হচ্ছে জাকাত। সঞ্চিত ও সংরক্ষিত অর্থ, ব্যবসার পণ্য, বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা, কৃষিজাত দ্রব্য ও গবাদি পশুর ওপর জাকাত ধার্য করা হয়।

এ ছাড়া ইসলামে একটি উত্তরাধিকার আইন আছে। কোনো ব্যক্তি কমবেশি যে পরিমাণ সম্পদ সম্পত্তি রেখে মারা যাক না কেন—একটি নির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী তাকে বিস্তৃত ক্ষেত্রে ছড়িয়ে দেওয়াই এর উদ্দেশ্য। সেটি হলো ইসলামের উত্তরাধিকার আইন। সর্বপ্রথম পিতা-মাতা, স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েরা সম্পত্তির অধিকারী হয়, অতঃপর ভাই-বোনরা হয় উত্তরাধিকারী এবং তাদের পর হয় নিকটবর্তী আত্মীয়স্বজন। যদি কোনো ব্যক্তি মারা যায় এবং তার কোনো পর্যায়ের কোনো উত্তরাধিকারী না পাওয়া যায়, তাহলে গোটা জাতিই তার উত্তরাধিকারী হবে এবং তার সম্পত্তি বায়তুল মালের (রাষ্ট্রীয় কোষাগার) অন্তর্ভুক্ত হবে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৯ জানুয়ারী ২০২৩/বিকাল ৫:৩৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

May 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit