মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সেনা পাঠাবে না যুক্তরাজ্য ইরানের বিদ্যুৎ স্থাপনা-খার্গ দ্বীপ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসে ট্রাম্পের হুমকি সংসদে হাসনাত ভুল স্বীকারের পর যা বললেন সালাহউদ্দিন সম্প্রচার চুক্তি বাতিল, বাংলাদেশে দেখা যাবে না আইপিএল যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবীতে দুর্গাপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ আটোয়ারীতে মাসিক সমন্বয় সভা ও আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত নোয়াখালীতে মাদক দ্বন্দ্বে তরুণ খুন, গ্রেপ্তার ৮ নতুন ছবির ঘোষণা সালমানের, মুক্তি ঈদে ইরান কেন হরমুজের ওপর পূর্ণ সার্বভৌমত্ব চাচ্ছে, শুধুই কি রাজস্ব নাকি অন্য কিছু ঢাবির চারুকলা অনুষদে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু

লকডাউন জীবন বাঁচাতে পারেনি

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ১০০ Time View

ডেস্ক নিউজ : কভিড মহামারীর সময় সারা বিশ্বের কৃষকরা করোনা-আক্রান্ত হয়েছেন সবচেয়ে কম। বিশ্বের ৯৯ শতাংশ কৃষক ও খামারি নিরাপদ ছিলেন। কৃষকদের মধ্যে যারা বেশি আক্রান্ত হয়েছেন তাদের অধিকাংশ ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে ছিলেন। এ পেশার যুবকরা সবচেয়ে কম আক্রান্ত হয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি এক হাজার করোনা-আক্রান্ত কৃষক বা খামারির মধ্যে মারা গেছেন গড়ে সাতজন।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক সেমিনারে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিআইডিএস সম্মেলন কক্ষে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্স ফেলো ড. কাজী ইকবালের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. আনানিশ চৌধুরী। তার উপস্থাপিত প্রবন্ধের নাম ‘নাডজড ইনটু লকডাউন? আ ডিফারেন্ট পারস্পেকটিভ অন দ্য গ্লোবাল রেসপন্স টু দ্য কভিড-১৯ প্যানডেমিক’।

গবেষণায় বলা হয়, কভিডে উন্নত দেশগুলোই বেশি সমস্যায় পড়ে। এসব দেশের যেকোনো মহামারী নিয়ন্ত্রণের জাতীয় পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু কারও পরিকল্পনাতেই ‘লকডাউন’ ছিল না। ড. আনানিশ চৌধুরী বলেন, কভিডে লকডাউনে তেমন কারোর লাভ হয়নি। সুইজারল্যান্ড কোনো লকডাউন দেয়নি; তারাও মৃত্যু ঠেকিয়েছে। ব্রিটেনে যারা কভিডে মারা গেছেন তাদের অধিকাংশ ঘরে ছিলেন। সুইডেনে যারা মারা যান তাদেরও বেশিরভাগ ঘরে ছিলেন।

তার মতে, প্রথম দিকে স্বল্পমেয়াদে লকডাউন ঠিক ছিল। তখন বোঝা যাচ্ছিল না, কোথা থেকে কী হচ্ছে। কিন্তু যখন সবকিছু পরিষ্কার হলো তখন কেন বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ লকডাউন দিয়েছিল? এর ফলে সব কর্মকা- বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের যে মানসিক ও শিক্ষাগত ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ হতে দুই প্রজন্ম লাগবে।

ড. আনানিশের গবেষণায় বলা হয়, লকডাউন যে জীবন রক্ষা করতে পারেনি তার প্রমাণ ইউরোপের ২৪টি দেশে কঠোর বা লঘু লকডাউন ছিল, কিন্তু মৃত্যু ঠেকানো যায়নি। মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ুও কমে গেছে। লকডাউনে অনেক অপারচুনিটি কস্ট (ব্যয়) হয়েছে। সেদিকে নজর দেওয়া হয়নি। নীতিনির্ধারকদের বোঝা দরকার ছিল যে, সম্পদ সীমিত।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি যে শুধু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বেড়েছে তা নয়। এর জন্য কভিডের সময় নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগও দায়ী। টিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই থেকে চার ডোজ টিকা দিয়েও অনেকে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। তাহলে টিকার পেছনে এত সম্পদ ব্যয় করার কী দরকার ছিল?

প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ১৯১৩ থেকে ১৯১৯ সাল পর্যন্ত বিশ্বে স্প্যানিশ ফ্লুতে মারা গিয়েছিল ২১৯ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন মানুষ। আর ২০১৯-২০ সালে কভিডে মারা গেছে ৬ দশমিক ৩১ মিলিয়ন মানুষ। স্প্যানিশ ফ্লুর চেয়ে কভিড কোনোভাবেই বড় দুর্যোগ ছিল না। তবে পার্থক্যটা হলো, স্প্যানিশ ফ্লুতে সব বয়সের মানুষই মারা গিয়েছিল, কভিডে একটু বয়স্ক মানুষ বেশি মারা গেছে।

বলা হয়, ১৯৫৭ সালের এশিয়ান ফ্লুতে মারা যায় ৪ দশমিক ৮১ মিলিয়ন মানুষ। ১৯৬৮ সালের হংকং ফ্লুতে মারা যায় ২ দশমিক ১৮ মিলিয়ন মানুষ। তবে সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক ছড়িয়েছে কভিড-১৯। কভিড মহামারীর আগেও বিভিন্ন রোগে মৃত্যুসহ স্বাভাবিক মৃত্যু বিশ্বব্যাপী কম হয়নি। কভিডের চেয়েও মৃত্যুর সংখ্যা ছিল অনেক বেশি।

কভিড-১৯ মহামারী চলার সময় ক্যানসার, কিডনি জটিলতা, ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে মানুষ মারা গেছে। এসব রোগের সঠিক চিকিৎসা ছিল না। এসব মৃত্যুর বিষয়ে গণমাধ্যম এবং লোকের মধ্যে খুব বেশি আলোচনা ছিল না। সবাই ব্যস্ত ছিল কভিডে মৃত্যুর হিসাব নিয়ে।

ইংল্যান্ড ব্যাংকে কর্মরত অর্থনীতিবিদ ডেভিড মাইলসের উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, ৪ লাখ ৪০ হাজার মানুষের জীবন বাঁচাতে যদি জিডিপির ৯ শতাংশ ক্ষতি হয় তাহলে ইংল্যান্ডের ক্ষতি হবে ৬৮ বিলিয়ন পাউন্ড। ২০ হাজার মানুষের জীবন বাঁচাতে যদি জিডিপির ৯ শতাংশ ক্ষতি হয় তাহলেও ক্ষতি হবে ১৯৪ বিলিয়ন ডলার। যদি ২০ হাজার মানুষের জীবন বাঁচাতে জিডিপির ১৫ শতাংশ ক্ষতি হয় তাহলে নিট ক্ষতি হবে ৩২৪ বিলিয়ন পাউন্ড। সুতরাং ক্ষতির বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া দরকার ছিল।

ড. কাজী ইকবাল বলেন, কভিডের সময় দেশগুলো ভেবেছে তারা জনগণের জন্য কিছু একটা করছে। দৃশ্যমান কিছু, যাতে মানুষ বুঝতে পারে সরকার তাদের পাশে আছে। যদি নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে তরুণরা থাকত তাহলে হয়তো এত লকডাউন হতো না।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১২ জানুয়ারী ২০২৩/সন্ধ্যা ৬:৩০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit