ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশের মুসলিম বাঙালির শ্রেষ্ঠ অনুভূতি স্বাধীনতা, প্রিয় সুর ‘আমার সোনার বাংলা…’ Best combination লাল-সবুজ। পদ্মা মেঘনা গৌরি যমুনা বিধৌত সোনা ছোঁয়া মেঠো প্রান্তর বাঙালির ভালোবাসার ঠিকানা। আরবি ‘হুররিয়্যাতুন’ স্বাধীনতার সমার্থক Freedom, Independence এবং ‘হুব্বুল ওয়াতান’ বা Patriotism-এর সমার্থক স্বদেশপ্রেম। মায়াময় আপন নিবাসের চারপাশ, পায়ের নিচের মাটি, মাথার ওপরের আকাশ একজন মানুষের বড়ই আপন—দূর-বহু দূরের অজানা জনপদ ও জনতা থেকে আলাদা ‘অহংকারের ঠিকানা’র প্রতি অনুরাগে বলা হয় ‘স্বদেশপ্রেম ঈমানের অংশ’।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা, শাসনকাজে জনগণের অংশগ্রহণ তথা গণতান্ত্রিক সমাজ বির্নিমাণ ও জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রামের মূল চেতনা। কেননা মজলুম জনগণের হাহাকার আল-কোরআনের শাশ্বত আবেদন, ‘আর তোমাদের কী হলো যে দুর্বল পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে—যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের অত্যাচারীদের এই জনপদ থেকে উদ্ধার করো। তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য অভিভাবক পাঠাও এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী পাঠাও। ’ (সুরা নিসা, আয়া : ৭৫)
পবিত্র কোরআনের একটি সুরার নাম ‘ফাতহ’ The Victory অর্থাৎ বিজয়, এতে মহান আল্লাহর ঘোষণা : ‘দান করেছি তোমায় আমি নিশ্চয়/নিশ্চিত পরিষ্কার একটি বিজয়’। (কাব্যানুবাদ, সুরা ফাতহ, আয়াত : ০১) আল-কোরআনের বাণী আমাদের বিজয় দিবসের প্রেরণা। মহান আল্লাহ মক্কা বিজয়ের পরিপ্রেক্ষিতে অবতীর্ণ সুরা নসরে বলেন, ‘যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য ও বিজয় আসবে, তখন আপনি দেখবেন মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বিনে প্রবেশ করছে। তখন হে রাসুল, আপনি আপনার প্রতিপালকের প্রশংসা করুন এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয়ই তিনি তাওবা কবুলকারী, পরম ক্ষমাশীল। ’
অন্যদিকে একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে পবিত্র কোরআনের ঘোষণা—‘বলুন (হে রাসুল) আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহে তোমরা উল্লাস প্রকাশ করো। ’ (সুরা ইউনুস, আয়াত : ৫৮)
এ আয়াতটিও আমাদের বিজয় উৎসবের প্রেরণা হতে পারে।
ইতিহাস সাক্ষী আলেকজান্ডার, হিটলার, নেপোরিয়ান, মুসোলিনি অথবা হালাকু খান, চ্যাঙ্গিস খান ও অন্যদের বিজয়াভিযানের পরতে পরতে রয়েছে রক্তপাতের নিষ্ঠুরতা।
প্রিয় নবীও (সা.) প্রতিপক্ষের আক্রমণে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বিপন্ন, রক্তাক্ত ও মাতৃভূমিতে বসবাসের অধিকার বঞ্চিত হয়েছেন। অথচ তাঁরই মক্কা বিজয়ে রচিত হয় অনন্য আদর্শ। ফলে মক্কার কোরাইশ নেতা আবু সুফিয়ান স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেন।
শান্তিরদূত, রাহমাতুল লিল আলামিন মক্কা বিজয়ের পরই রক্তপাত, ক্ষয়ক্ষতি ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তার জন্য ঘোষণা করলেন—
ক. যারা আপন ঘরের দরজা বন্ধ করে থাকবে তারা নিরাপদ,
খ. যারা আবু সুফিয়ানের ঘরে আশ্রয় নেবে তারা নিরাপদ,
গ. যারা কাবাগৃহে আশ্রয় নেবে তারা নিরাপদ।
শুধু তা-ই নয়, বিনা যুদ্ধে মক্কা বিজয়ের পর শান্তি সমাবেশে প্রিয়নবী (স.) পরম শত্রুর উদ্দেশে উচ্চারণ করলেন ‘সাধারণ ক্ষমা’। উদারতার সুশীতল ছায়ায় মানুষকে শোনালেন ইসলামের ক্ষমার চাদরে ঢেকে দেওয়ার ঘোষণা, পবিত্র কোরআনের বাণী উদ্ধৃত করে বলেন, ‘আজ তোমাদের প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই…। ’ (সুরা ইউসুফ, আয়াত : ৯২)
স্বদেশপ্রেম ও স্বাধীনতা মানব সত্তার চিরন্তন অহংকার। শক্তি ও ক্ষমতার জোরে কারো স্বাধীন ও শান্তির স্বদেশকে পদানত করা ইসলামের শিক্ষা নয়। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন, মানবতাবিরোধী অত্যাচারী ফিরাউনের কবল থেকে হজরত মুসার (আ.) নেতৃত্বে হীনবল মানবসত্তাকে স্বদেশ ও স্বাধীনতার পথ দেখালেন। পবিত্র কোরআনের ভাষায় : ‘সেই দেশে যাদের সে দুর্বল রাখে/তাদের প্রতি মোর অনুগ্রহ থাকে। /তাদের—আমি সেথা নেতা বানাইয়া/সে দেশের অধিকারী দেই করিয়া। ’ (কাব্যানুবাদ-সুরা কাসাস : ০৫)
স্বদেশপ্রেমের ঈমানি চেতনায় আমাদের কর্তব্য, দেশের স্বার্থে নিজ নিজ অবস্থান থেকে যথাযথ দায়িত্ব পালন করা।
লেখক : বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, গাজীপুর
কিউএনবি/আয়শা/১৬ ডিসেম্বর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/দুপুর ১২:২৮