ডেস্ক নিউজ : আল্লাহ বলেন, ‘আমি আপনার আগে কোনো মানুষকে অনন্ত জীবন দান করিনি, সুতরাং আপনার মৃত্যু হলে তারা (মুশরিকরা) কি চিরজীবী হয়ে থাকবে?’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ৩৪) তাফসির : আগের আয়াতগুলোতে সৃষ্টি জগতের ছয়টি নিদর্শনের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আলোচ্য আয়াতে মানুষের চিরজীবী না হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সব কিছুর মতো মানুষও একসময় বিনাশ হবে। মুশরিকরা ভেবেছিল, মুহাম্মদের মৃত্যুর পর তাঁর ধর্মও শেষ হয়ে যাবে।
তাই তারা রাসুল (সা.)-এর মৃত্যুর অপেক্ষায় থাকে। তাদের এমন ধারণার জবাবে আল্লাহ প্রিয় নবী (সা.)-কে জানান, আগের নবী-রাসুলদের মতো আপনার মৃত্যু ঘটলেও ইসলাম ধর্ম টিকে থাকবে। অথচ কাফির-মুশরিকদের মনোভাব এমন যেন তারা অমর হয়ে থাকবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘ভূপৃষ্ঠে যা কিছু আছে সবই বিলুপ্ত হবে। শুধুমাত্র আপনার রব বহাল থাকবেন যিনি মহিমাময় ও মহানুভব। ’ (সুরা আর রহমান, আয়াত : ২৬-২৭)
মহান আল্লাহ পৃথিবীতে মানুষের স্বাভাবিক বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় সব উপকরণ দিয়েছেন। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মানুষ পার্থিব সব উপকরণ উপভোগের সুযোগ পাবে। সময়টি মানুষের চিরস্থায়ী ঠিকানা পরকালের জন্য শস্যক্ষেত্র তথা প্রস্তুতির সময়। পার্থিব জীবনের ভালো ও মন্দ কাজের ফল পরকালে ভোগ করতে হবে। এ জন্য পার্থিব জগতে মানুষকে সচ্ছলতা ও দুঃখ-কষ্টের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। এরপর সবাইকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। অর্থাৎ ভূপৃষ্ঠে কোনো প্রাণী চিরজীবী বা অমর নয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা যেখানেই থাক না কেন মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই, এমনকি সুউচ্চ সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান করলেও। ’ (সুরা নিসা, আয়াত : ৭৮)
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুল (সা.)-এর মৃত্যুর পর তাঁকে দেখতে আবু বকর (রা.) আসেন। তিনি রাসুল (সা.)-কে চুমু দিয়ে বলেন, হে আল্লাহর নবী, হে আল্লাহর বন্ধু, হে আল্লাহর সঙ্গী! অতঃপর পবিত্র কোরআনের এই আয়াত পড়েন, ‘আমি আপনার আগে কোনো মানুষকে অনন্ত জীবন দান করিনি। ’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ৩৪) (বাইহাকি)
যাঁদের মতে হজরত খিজির (আ.) অন্য মানুষের মতো মারা গেছেন তাঁরা আলোচ্য আয়াতকে প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন। তিনি নবী বা রাসুল বা ওলি হোন না কেন, তিনি একজন মানুষ ছিলেন। তাই এই আয়াতের আলোকে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। (ইবনে কাসির : ১৩৫/৩)
তা ছাড়া একটি হাদিসে মানুষের সংক্ষিপ্ত জীবন লাভ ও মৃত্যুর বিষয়টির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেছেন, জীবনের শেষ দিকে রাসুল (সা.) একদিন রাতে আমাদের সঙ্গে নামাজ পড়েন। সালামের পর তিনি দাঁড়িয়ে বললেন, ‘তোমরা এই রাত সম্পর্কে কিছু জান? এই রাতের এক শ বছর পর আজ যারা পৃথিবীতে আছে তাদের কেউ থাকবে না। ’ ইবনে ওমর (রা.) বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে মানুষের দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়। মূলত এর মাধ্যমে তিনি একটি যুগের সমাপ্তি বুঝিয়েছেন। (কিংবা এখানে শেষ যুগে মানুষের সাধারণ বয়সসীমা উদ্দেশ্য)। (বুখারি, হাদিস : ৬০১, মুসলিম, হাদিস : ২৫৩৭)
গ্রন্থনা : মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ
কিউএনবি/আয়শা/১৩ নভেম্বর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/বিকাল ৪:০৩