ডেস্ক নিউজ : ইসলাম নারীর মর্যাদা ও সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। তাই যেখানে তাদের সম্মান বা সুরক্ষা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেখানে বিশেষ বিধান দিয়ে সম্মান ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই বিবেচনায় ইসলামের বিধান হলো, মাহরাম ছাড়া একাকী সফর করা নারীদের জন্য বৈধ নয়। যাদের সঙ্গে চিরতরের জন্য বিবাহ অবৈধ, তাদের মাহরাম বা এগানা বলা হয়। এ ছাড়া অন্যদের গায়র মাহরাম বা বেগানা বলা হয়।
সাধারণ সফর ও হজের সফর—সব ক্ষেত্রে একই বিধান : মাহরাম ছাড়া নারীর সফর বৈধ নয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, যে নারী আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, তার পক্ষে কোনো মাহরাম পুরুষকে সঙ্গে না নিয়ে এক দিন ও এক রাত্রির পথ সফর করা জায়েজ নয়। (বুখারি, হাদিস : ১০৮৮)
কোনো কোনো হাদিসে এক দিন এক রাতের পরিবর্তে তিন দিন তিন রাতের কথা এসেছে। আবদুল্লাহ ইবন ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, কোনো নারীর সঙ্গে কোনো মাহরাম পুরুষ না থাকলে সে যেন তিন দিনের সফর না করে। (বুখারি : ১০৮৭)
আসলে এখানে দিন-রাত মুখ্য নয়, ইসলামের দৃষ্টিতে মাহরাম ছাড়া নারীর যেকোনো সফর বৈধ নয়। এখানে মূল কথা হলো, যদি ৪৮ মাইল (৭৮ কিলোমিটার) বা তার বেশি দূরত্বে সফর হয়, যতক্ষণ পর্যন্ত পুরুষদের থেকে নিজের কোনো মাহরাম আত্মীয় বা স্বামী সঙ্গে না থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো নারীর জন্য সফর করা জায়েজ নেই। এটি হজের সফর হোক বা উচ্চশিক্ষার জন্য সফর হোক।
তার মানে এই নয় যে নারীরা ঘরের বাইরে যেতে পারবে না। প্রয়োজন হলে অবশ্যই ঘরের বাইরে যাবে। আয়েশা (রা.) বলেন, এক রাতে উম্মাহাতুল মুমিনিন সাওদা বিনতে জামআ (রা.) কোনো কারণে বাইরে গেলেন। ওমর (রা.) তাঁকে দেখে চিনে ফেললেন। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! হে সাওদা! তুমি নিজেকে আমাদের কাছ থেকে লুকাতে পারনি। এতে তিনি নবী (সা.)-এর কাছে ফিরে গেলেন এবং উক্ত ঘটনা তাঁর কাছে বলেন। তিনি তখন আমার ঘরে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন এবং তাঁর হাতে গোশতওয়ালা একখানা হাড় ছিল। এমন সময় তাঁর কাছে ওহি অবতীর্ণ হলো। ওহি শেষ হলে নবী (সা.) বলেন, আল্লাহ প্রয়োজনে তোমাদের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। (বুখারি, হাদিস : ৫২৩৭)
যাই হোক, সফরকালীন সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ইসলাম সফরে নারীর সঙ্গে মাহরাম থাকা অপরিহার্য করে দিয়েছে। যেন সফরে মাহরাম পুরুষ নারীকে দুশ্চরিত্র লোকদের থেকে নিরাপদ রাখতে পারে এবং নারীর প্রয়োজনে তাকে সহযোগিতা করতে পারে। হাদিস থেকে এর ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ইবন আব্বাস (রা.) সূত্রে নবী (সা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোনো পুরুষ যেন অন্য নারীর সঙ্গে নিভৃতে অবস্থান না করে, কোনো স্ত্রীলোক যেন কোনো মাহরাম সঙ্গী ছাড়া সফর না করে। এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! অমুক যুদ্ধের জন্য আমার নাম লেখা হয়েছে। কিন্তু আমার স্ত্রী হজযাত্রী। তখন আল্লাহর রাসুল (সা.) বললেন, তবে যাও তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হজ করো। ’ (বুখারি, হাদিস : ৩০০৬)
মাহরাম ছাড়া নারীর একাকী সফর বৈধ না হওয়ার কারণ হলো, সফরে স্বামী ও মাহরাম নারীর যতটুকু সম্মান ও সুরক্ষা করতে পারে, অন্য কেউ তা রক্ষা করতে পারে না। আর আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুল (সা.) যে বিধান দিয়েছেন, মুসলমানরা তা মানতে বাধ্য। এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা আছে কী নেই, বদনাম হবে কী হবে না, তা বিবেচ্য নয়। আর হ্যাঁ, ইসলামের বিধান শুধু আত্মসমর্পণকারী মুসলিম নর-নারীর জন্য।
কিউএনবি/আয়শা/১৩ নভেম্বর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/দুপুর ২:৫৬