শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম

পৃথিবীতে পাহাড় সৃষ্টির রহস্য

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২২
  • ৫৭৩ Time View

ডেস্ক নিউজ : আল্লাহ বলেন, ‘এবং আমি ভূপৃষ্ঠের ওপর সুদৃঢ় পর্বতমালা তৈরি করেছি, যাতে তাদের নিয়ে তা দোল না খায় এবং তাতে তৈরি করেছি প্রশস্ত রাস্তা, যাতে তারা গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারে। এবং আকাশকে করেছি সুরক্ষিত ছাদ, কিন্তু এর নিদর্শনাবলি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ৩১) তাফসির : রহস্যঘেরা সৃষ্টি জগতের নানা প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মহান আল্লাহ মানবসমাজকে প্রশ্ন করেন। আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা পাহাড়ের রহস্যের কথা জানান।

সুউচ্চ পাহাড়-পর্বতের সৌন্দর্য যেমন মানুষকে মুগ্ধ করে, তেমনি তা সৃষ্টির রহস্যও খুবই অবাক করার মতো। মূলত ভূপৃষ্ঠের ভারসাম্য রক্ষায় পেরেক হিসেবে সুবিশাল পর্বতমালা সৃষ্টি করা হয়েছে। যেন পৃথিবী স্থির থাকে এবং এতে বসবাসে কারো সমস্যা না হয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনিই (আল্লাহ) ভূপৃষ্ঠকে বিস্তৃত করেছেন এবং এর মধ্যে পর্বত ও নদী সৃষ্টি করেছেন, তিনি সব ফল সৃষ্টি করেছেন দুই ধরনের, তিনি দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন, এতে অবশ্যই চিন্তাশীল সমপ্রদায়ের জন্য নিদর্শন আছে। ’ (সুরা রাদ, আয়াত : ৩)

ভূপৃষ্ঠ স্থির থাকার জন্য পাহাড়-পর্বত থাকা অতীব জরুরি। পাহাড় না থাকলে পৃথিবীতে বসবাস কঠিন হতো। ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি কি ভূপৃষ্ঠকে শয্যা হিসেবে সৃষ্টি করিনি। এবং পাহাড়-পর্বতকে (ভূমিতে প্রোথিত) কীলক বা পেরেক হিসেবে?’ (সুরা নাবা, আয়াত : ৬-৭)

মহান আল্লাহ ভূপৃষ্ঠকে মানুষের বসবাসের জন্য সুবিস্তৃত করে সৃষ্টি করেছেন। মানুষের জীবন যাপনের সব উপকরণ এতে রয়েছে। তবে এসব প্রাকৃতিক সম্পদের সব কিছু পরিমিত। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি ভূপৃষ্ঠকে বিস্তৃত করে করেছি, তাতে পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং তাতে সব বস্তু পরিমিতভাবে উদগত করেছি। তাতে জীবিকার ব্যবস্থা করেছি, এবং তোমরা যাদের জীবিকাদাতা নয় তাদের জন্যও। ’ (সুরা হিজর, আয়াত : ১৯-২০)

পবিত্র কোরআনে সুবিস্তৃত সৃষ্টি জগতের নানা অনুষঙ্গ বর্ণনার মাধ্যমে মানুষকে এর সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে পরিচিত করাই আল্লাহর উদ্দেশ্য। বিশাল জগতের বিস্ময়কর সৃষ্টি একজন স্রষ্টা ছাড়া কখনো সম্ভব নয়। আর কিয়ামতের আগে বিশাল পর্বতরাজিসহ পুরো জগৎ ধ্বংস করা হবে এবং দিগন্ত বিস্তৃত মসৃণ মাঠ তৈরি করা হবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা আপনাকে পর্বতগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, আপনি বলুন, আমার রব এগুলোকে সমূলে উৎপাটন করে বিক্ষিপ্ত করে দেবেন। অতঃপর তিনি তাকে মসৃণ সমতল ময়দানে পরিণত করবেন। আপনি তাতে বক্রতা ও উচ্চতা দেখবেন না। ’ (সুরা তাহা, আয়াত : ১০৫-১০৭)

হাদিসে শনিবার ভূপৃষ্ঠ এবং রবিবার পাহাড়-পর্বত সৃষ্টির কথা এসেছে। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুল (সা.) আমার হাত ধরে বলেছেন, ‘আল্লাহ শনিবার মৃত্তিকা তথা ভূপৃষ্ঠ সৃষ্টি করেছেন। রবিবার তাতে (স্থির রাখার জন্য) পর্বতমালা সৃষ্টি করেছেন। সোমবার তাতে গাছপালা সৃষ্টি করেছেন। মঙ্গলবার কষ্টদায়ক বস্তু (জীবনোপকরণ তথা লোহাসহ প্রত্নতাত্ত্বিক প্রাকৃতিক সম্পদ) সৃষ্টি করেছেন। বৃহস্পতিবার আলো (তথা চাঁদ, সূর্য, তারা ইত্যাদি) সৃষ্টি করেছেন। বৃহস্পতিবার চতুষ্পদ জন্তু তাতে ছড়িয়ে দিয়েছেন। শুক্রবার আসরের পর শেষ মুহূর্তে সর্বশেষ সৃষ্টি আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন। ’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ২৭৮৯)

গ্রন্থনা : মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৬ নভেম্বর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/দুপুর ১২:৪৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit