মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন

পানি পান করার ১০ সুন্নত

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২ নভেম্বর, ২০২২
  • ১০৬ Time View

ডেস্ক নিউজ : মানবজীবনে পানির গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষসহ পৃথিবীর যাবতীয় প্রাণীর জীবনচক্র পানির ওপর নির্ভরশীল। আর মহান আল্লাহই পানির সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করেন। আল্লাহ বলেন, ‘আমি আকাশ থেকে বৃষ্টিবর্ষণ করি পরিমিতভাবে, অতঃপর আমি তা ভূপৃষ্ঠে সংরক্ষণ করি, আমি তা অপসারিত করতেও সক্ষম।

’ (সুরা মুমিনুন, আয়াত : ১৮)

সুস্থ জীবনযাপনে নিয়মিত পানি পান করা অপরিহার্য। হাদিসে পানি পান করার সুন্নত বর্ণিত হয়েছে। নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো।

শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়া : জাবির বিন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ ও খাবারের সময় আল্লাহকে স্মরণ করবে, তখন শয়তান বলে, এখানে তোমাদের রাত্রিযাপন ও খাবারের কোনো সুযোগ নেই। আর ঘরে প্রবেশের সময় আল্লাহকে স্মরণ না করলে শয়তান বলে, তোমরা রাত্রিযাপন করতে পারবে। আর খাবারের সময় আল্লাহকে স্মরণ না করলে রাত্রিযাপন ও খাবার উভয়টি পেয়েছ। ’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২০১৮)

বসে পান করা : রাসুল (সা.) দাঁড়িয়ে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) দাঁড়িয়ে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২০২৪)

তবে জমজমের পানি রাসুল (সা.) দাঁড়িয়ে পান করেছেন। যেমন ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেছেন যে নবী করিম (সা.) জমজমের পানি একটি বালতি থেকে দাঁড়িয়ে পান করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৬১৭)

ডান হাতে পান করা : হাফসা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুল (সা.) ডান হাতকে পানাহার ও কাপড় পরিধানের জন্য ব্যবহার করতেন। এবং বাম হাতকে অন্য কাজে ব্যবহার করতেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩২)

পাত্রে শ্বাস না ফেলা : ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) পাত্রে নিঃশ্বাস ফেলতে বা ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১৮৮৮)

তিন শ্বাসে পান করা : আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) তিন শ্বাসে পানি পান করতেন। পাত্র মুখের কাছে আনলে বিসমিল্লাহ পড়তেন। আবার সরিয়ে নিলে আলহামদুলিল্লাহ পড়তেন। এভাবে তিনি তিনবার করতেন। (তাবারানি, হাদিস : ৮৪৭)

পাত্রের মুখ দিয়ে পান না করা : বড় পাত্রের মুখে মুখ দিয়ে পান করা অনুচিত। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুল (সা.) বড় পাত্রের মুখে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন এবং প্রতিবেশীকে তার ঘরের দেয়ালের ওপর খুঁটি গাড়তে নিষেধ করেছেন।

সোনা ও রুপার পাত্রে পান না করা : সোনা ও রুপার পাত্রে পানাহার করতে বারণ করা হয়েছে। হুজায়ফা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা মিহি ও মোটা রেশম জাতের কাপড় পরিধান কোরো না। সোনা ও রুপার পাত্রে পান কোরো না এবং এর বাসনেও আহার কোরো না। কারণ এসব দুনিয়ায় কাফিরদের জন্য এবং পরকালে তোমাদের জন্য। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৬৩২)

পরিবেশনকারী শেষে পান করবে : আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দলের মধ্যে পানি পরিবেশনকারী সবার শেষে পান করবে। ’ (সহিহ মুসলিম হাদিস : ৮১৬)

রাতে পানাহারের পাত্র ঢেকে রাখা : জাবির বিন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা পাত্রগুলো ঢেকে রাখো। পাত্রগুলো বন্ধ করে রাখো। ঘরের দরজাগুলো বন্ধ কোরো। সন্ধ্যাবেলা তোমাদের শিশুদের ঘরে রাখো। কারণ এ সময় জিনেরা ছড়িয়ে পড়ে এবং ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আর ঘুমের সময় বাতিগুলো নিভিয়ে দাও। কেননা অনেক সময় ছোট ইঁদুর জ্বলে থাকা বাতির সলতে টেনে নিয়ে যায় এবং গৃহবাসীকে জ্বালিয়ে দেয়। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৩১৬)

সবশেষে আল্লাহর প্রশংসা করা : পান করার পর আল্লাহর প্রশংসা করা সুন্নত। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ ওই বান্দার প্রতি সন্তুষ্ট হন যে খাবার গ্রহণের পর তাঁর প্রশংসা করে কিংবা পান করার পর তাঁর প্রশংসা করে। ’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫০২২)

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০২ নভেম্বর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/দুপুর ২:১৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

May 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit