খোরশেদ আলম বাবুল শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে বন্ধুর বিয়েতে বেড়াতে এসে লঞ্চ দুর্ঘটনায় তিন বন্ধুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার ভোররাত ৪টার দিকে মেঘনার শাখা জযন্তী নদীর সাইক্ষা ব্রিজের সাথে লঞ্চের ধাক্কা লাগে। লঞ্চের ছাদে থাকা ল্যাম্পপোস্ট ও পানির ট্যাঙ্কি ভেঙ্গে লঞ্চের ছাদে ঘুমিয়ে থাকা যাত্রিদের উপর পড়ে। তখন ঘটনাস্থলেই ২ জনের মৃত্যু হয়।
এই সময় আরো ৩ জন আহত হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে আরো একজননে মৃত্যু হয়। অপর গুরুতর আহত দুই জনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রি ও চালকের অসতর্কতার জন্য এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে লঞ্চ ঘাটের ইজারাদার এবং স্থানীয়রা দাবী করেছেন। ঘটনা পরবর্তী পুলিশ ঘাতক লঞ্চ, লঞ্চের চালক ও খালাসীকে আটক করেছে।
পুলিশ ও লঞ্চ টার্মিনাল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ৯ঃ২৫ মিনিটে একই কোম্পানীর ঈগল-১০ ও ১০ঃ২৫ মিনিটে স্বর্ণদ্বীপ প্লাস লঞ্চ ঢাকা থেকে শরীয়তপুরের গোসাইরহাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসার কথা ছিল। মালিক পক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুই লঞ্চের যাত্রি আড়াই তলা স্বর্ণদ্বীপ প্লাস লঞ্চে বোঝাই করে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসে। লঞ্চে যাত্রির অতিরিক্ত চাপ থাকায় অনেক যাত্রি দোতলার ছাদে উঠে বিছানা করে ঘুমিয়ে থাকে। ভোর চারটার দিকে লঞ্চটি সাইক্ষা ব্রিজের নিচ দিয়ে দ্রুত গতিতে অতিক্রম করে।
তখন লঞ্চের আড়াই তলার ছাদে থাকা ল্যাম্পপোস্ট ও পানির ট্যাঙ্কি ব্রিজের সাথে ধাক্কা লেগে নিচে ঘুমিয়ে থাকা তানজির হোসেন (২১), শান্ত-শাকিল (২৫), সাগর (২৫), হিরা (২৪) ও সাগর রাড়ীর (১৮) উপর পড়ে যায়। ঘটনাস্থলে তানজিল ও শান্ত-শাকিলের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে সেখানে সাগরের মৃত্যু হয়। আহত সাগর রাড়ী ও হিরাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
নিহত তানজিল গোসাইরহাটের কোদালপুর গ্রামের শাহা আলী মোল্যার ছেলে। নিহত শান্ত-শাকিল টাঙ্গাইল জেলা বাসস্ট্যান্ড এলাকার নাজিম উদ্দিনের ছেলে ও হিরা জামালপুর জেলার বিঘলি এলাকার বোরহান আলীর ছেলে। তারা সকলে বন্ধুর বিয়েতে অংশগ্রহণ করার জন্য গোসাইরহাটের কোদালপুরে যাচ্ছিল। দুর্ঘনটনাস্থল সাইক্ষা এলাকার সুমন বেপারী, ফারুক বেপারী ও আলী মিয়া বেপরী বলেন, ব্রিজটির নিচ দিয়ে যাত্রিবাহী লঞ্চ, পণ্যবাহী কার্গো জাহাজ ও নৌ-যান চলাচল করে। পানি থেকে ব্রিজের উচ্চতা কম থাকায় মাঝে মধ্যেই লঞ্চ ব্রিজে ঠেকে যায়।
তখন ব্রিজের আগেই যাত্রি নামিয়ে দেওয়া হত। আজ লঞ্চটি দ্রুত গতিতে যাচ্ছিল। তখন বিকট শব্দ শুনি। এসে দেখি লঞ্চের ছাদে থাকা পানির ট্যাঙ্কি ও ল্যাম্পপোস্ট ভেঙ্গে পড়ে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। অনেকে আহত হয়েছে। চালকের অসাবধানতা এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। লঞ্চ ঘাটের ইজারাদার মোজাম্মেল হক শিকদার বলেন, গতকাল একই মালিকের দুইটি লঞ্চ ঢাকা থেকে ছেড়ে আসার কথা ছিল।
তারা দুই লঞ্চের যাত্রি একটি লঞ্চে নিয়ে আসছিল। যাত্রির চাপে অনেক যাত্রি ছাদে উঠে যায়। ভোর রাতে যখন এই দুর্ঘটনা ঘটে তখন যাত্রিরা ঘুমিয়ে ছিল। ঘুমন্ত যাত্রিদের উপর লঞ্চের ছাদে থাকা পানির ট্যাঙ্কি পড়ে যায়। এই দুর্ঘটনার জন্য লঞ্চের মালিক ও চালক দায়ী। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সাইদ বলেন, ঘটনা পরবর্তী পুলিশ নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে। ঘাতক লঞ্চ, লঞ্চ চালক নুরুজ্জামান (মাস্টার) ও খালাসি এমরানকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
কিউএনবি/আয়শা/২৩ অক্টোবর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/বিকাল ৩:৪৭