স্টাফ রিপোর্টার,মনিরামপুর(যশোর) : নাম তার প্রনয় কুমার বিশ্বাস। তিনি প্রায় ১০ বছরের অধিক সময় যশোরের মনিরামপুর সরকারি পাইলট বালক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক(বিপিএড) হিসেবে কর্মরত। তিনি ক্রীড়া শিক্ষক হলেও দীর্ঘদিন ধরে পাঠদান করে আসছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে। বিভিন্ন কারনে অকারনে তিনি এলাকায় বেশ সমালোচিত। তিনি এবার সামান্য অজুহাতে ছাত্রদের গালিগালাজসহ লাথি মেরে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে দিয়ে ফের সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিভাবক, শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। অন্যদিকে প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার না পাবার প্রতিবাদে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের সরকারি স্কুল থেকে অন্যত্র ভর্তি করছেন।
মনিরামপুর সরকারি পাইলট বালক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তাসীন মাহাদী জানায়, গত শনিবার তৃতীয় ঘন্ঠায় শ্রেণিক্ষকে শিক্ষক না থাকায় সে টিউবয়েলে পানি পান করতে যায়। পরে সে দরজায় দাড়িয়ে দেখতে পায় শ্রেণিকক্ষে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে পাঠদান করছেন শিক্ষক প্রনয় কুমার বিশ্বাস। এ সময় সে শিক্ষকের কাছে ভেতর ঢোকার অনুমতি চায়। কিন্তু তাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। এক পর্যায়ে মাহাদী অনুমতি ছাড়াই ভেতরে ঢোকে। আর এ অপরাধে সহপাঠিদের সামনে মাহাদীকে গালিগালাজ করে লাথি মেরে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে দেন শিক্ষক প্রনয় কুমার বিশ্বাস। শ্রেণিকক্ষে গালিগালাজসহ লাথি মারার অভিযোগ শুধু মাহাদীর নয়। এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে মাহাদীর সহপাঠি ইমন হোসেন, তাছিন মাহমুদ, আল মাহমুদ, রিফাত হোসেন, হাবিব খান, শাহরিয়ার কবির, তানজিমসহ আরো অনেক শিক্ষার্থীর।
মাহাদীর মা প্রাইমারি স্কুল শিক্ষক মনোয়ারা খাতুন বলেন, ছেলের মুখে এসব কথা শুনে তাকে নিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির অধিকাংশ ছাত্রের সাথে আলাপ করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। তিনি বলেন, অধিকাংশ ছাত্রের অভিযোগ সামান্য ত্রুটি পেলেই শিক্ষক প্রনয় কুমার বিশ্বাস শ্রেণিকক্ষের ভেতর ছাত্রদের গালিগালাজসহ লাথি মেরে থাকেন। অভিযোগ রয়েছে গত সপ্তাহে সামান্য অজুহাতে ষষ্ঠ শ্রেণির অপর এক ছাত্রকে লাথি মারতে মারতে বারান্দা থেকে শ্রেণিকক্ষের ভেতর নিয়ে যান। একই অভিযোগ করেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে সপ্তম শ্রেণির বেশ কয়েকজন ছাত্র। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতির্ক্রীয়ার সৃষ্টি হলে প্রনয় কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করা হয়।
কিন্তু প্রধান শিক্ষক তপন কুমার কোন পদক্ষেপ নেননি।ফলে বেশ কয়েকজন অভিভাবক তাদের সন্তানদের বর্তমান স্কুলে পাঠানো থেকে বিরত রয়েছেন। আবার মাহাদীর মা মনোয়ারা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রনয় কুমারের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি তার সন্তানকে ইতিমধ্যে উপজেলার চন্ডিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছেন। অপর অভিভাবক হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, সামান্য অজুহাতে প্রনয় কুমার বিশ্বাস ছাত্রদের গালিগালাজ দেওয়া সহ জুতাপেটাও করেছে ইতিপূর্বে। তিনি জানান, এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষককের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে সহকারি শিক্ষক(বিপিএড) প্রনয় কুমার বিশ্বাস জানান, তিনি বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের সাথে মিমাংশার উদ্যোগ নিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক প্রনয় কুমার এমন আচরণ আর করবেন না বলে অঙ্গিকার করেছেন।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র সরকার জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য বিগত ইউপি নির্বাচনে উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের গালদা খড়িঞ্চি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের মেম্বর পদে ফল পাল্টানোর অভিযোগে প্রিজাইডিং অফিসার সহকারি শিক্ষক প্রণয় কুমার বিশ্বাস সাময়িক বরখাস্ত হন।
কিউএনবি/আয়শা/০৪ অগাস্ট ২০২২, খ্রিস্টাব্দ/সন্ধ্যা ৭:৫১