শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
দুর্গাপুরে রানীখং ধর্মপল্লী থেকে ঘন্টা চুরি,থানায় মামলা মিরপুর টেস্টে ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশের হার, সিরিজে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট ক্রিকেটে রাবাদার বিশ্বরেকর্ড সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে: আমিনুল হক বরিশালে এইচএসসিতে পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমেছে আ.লীগের প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল, এখন বিএনপিতে ভেড়ার চেষ্টা গরু চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে চোরকে ছেড়ে দিয়ে অপর ব্যক্তিকে মারপিট,ফুলবাড়ীতে প্রতিপক্ষদের ফাঁসাতে মার পিটের ঘটনায় নিহত ১॥ আইন পাশ হলেও, আইনের প্রয়োগ নেই, এতে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে দিনাজপুরের ১৩ টি উপজেলায় ব্যাপক হারে পলিথিন ব্যাগ ব্যবহৃত হচ্ছে॥ চৌগাছায় শিক্ষার্থীদের আইইএস বৃত্তি পরীক্ষা শুরু নরসিংদীতে বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার 

রাজশাহীতে গোপনে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২২ জুন, ২০২২
  • ১৮০ Time View

বাঘা(রাজশাহী)প্রতিনিধি : রাজশাহীর বাঘায় কিশোরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে গোপনে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বুধবার (২২ জুন) অবৈধভাবে গঠিত ম্যানেজিং কমিটি বৈধতাকরনের লক্ষ্যে একটি অভিভাবক সমাবেশ ডাকা হয় । কিন্তু উক্ত অভিভাবক সমাবেশে ৮০ ভাগ অভিভাবক অনুপস্থিত ছিলেন। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কমিটি গঠনের দাবিতে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

অভিভাবক সদস্য ও স্থানীয়দের অভিযোগে জানা গেছে, গত ২৫ জুন (২০২১) কিশোরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হলে ৬ মাসের জন্য অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। অ্যাডহক কমিটি থাকাকালিন নির্বাচনের মাধ্যমে নিয়মিত কমিটি গঠনের কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষক সু কৌশলে গোপনে প্রচার প্রচারনা ছাড়াই মাহাবুল ইসলাম নান্টুকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করেন।

এমনকি, গঠিত কমিটি সম্পর্কেও এর আগে কাউকে জানানো হয়নি। এছাড়া নির্বাচনের জন্য কোন তফসীল ঘোষনা করা হয়নি। কিংবা তফসিল ঘোষনা করা হলেও তা গোপন রাখা হয়েছিলো। বিদ্যালয়ের শতকরা ৮০ ভাগ অভিভাবক সদস্য কমিটি গঠনের বিষয়টি জানেননা। শুধু তাই নয়, কমিটিতে যাদের অভিভাবক সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেই মাদককারবারিসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি অ্যাডহক কমিটির সভাপতিকেও জানানো হয়নি। প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে গোপনে অবৈধভাবে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করেছেন বলেও তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বুধবার সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে প্রধান শিক্ষক অভিভাবক সদস্যদের নিয়ে মিটিং করছেন। সেখানে দেখা যায়, ১৮/২০ জন মহিলা ও ৬/৭ জন পুরুষ অভিভাবক সদস্য উপস্থিত রয়েছেন। বিদ্যালয়ে মোট অভিভাবক সদস্য ৩০০ থেকে ৩৫০জন। এত অল্প সংখ্যক অভিভাবক সদস্য নিয়ে মিটিং করার বিষয়ে জানতে চাইলে নব গঠিত কমিটির সভাপতি মাহাবুল ইসলাম নান্টু বলেন, কেন উপস্থিত হয়নি এটা আমার জানা নেই। আপনি কিভাবে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এমন প্রশ্নে আমাদের সময়কে তিনি বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসে ডেকে নিয়ে আমাকে সভাপতি করা হয়েছে। পরে আমি ও প্রধান শিক্ষক মিলে কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মনেনিত করেছি। কোন নির্বাচন হয়নি।

এ সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে উপস্থিত ক্ষুব্ধ অভিভাবক সদস্য রাইহান সরকার বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন ও মাহাবুল ইসলাম নান্টুর বাড়ি একই গ্রামে । প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির ছায়া সঙ্গী হিসেবে কাজ করার জন্য প্রধান শিক্ষক নান্টুকে সভাপতি হিসেবে বেছে নিয়েছেন। একটি মানুষ যদি নিজেই অপরাধ ও দুর্নীতিমুক্ত না হন তাহলে বিদ্যালয়কে কিভাবে দুর্নীতিমুক্ত করবেন।

প্রধান শিক্ষকের এ ধরনের হঠকারি ও দুরীভসন্ধিমুলক কর্মকান্ডের জন্য আমরা এলাকাবাসি চরম হতাশাগ্রস্ত ও ক্ষুব্ধ। এই বিদ্যালয়ের উন্নতি কল্পে এবং অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধ করতে খুব শিঘ্রই তফশিল ঘোষনা করে এলাকাবাসিকে একটি স্বচ্ছ কমিটি উপহার দেবার জন্য সংশ্লিষ্ঠ কর্তপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। আরেকজন অভিভাবক,বিদ্যালয়ের সাবেক কমিটি ও পাকুড়িয়া ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন বলেন, আজকের অভিভাবক সমাবেশ সম্পর্কে কিছুই জানিনা। হঠাৎ বাজারে এসে জানতে পারি, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি হয়েছে এবং আজ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ হচ্ছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশের প্রতিটা সেক্টরের দুর্নীতি কঠোরহস্তে দমন করে দেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে নিয়ে যাচ্ছেন, তখন প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন কার ইশারায় এইরুপ অবৈধ মনগড়া পকেট কমিটি প্রস্তুত করে সেটাকে বৈধতা দেবার অপচেষ্টা করছেন সেটা অনুসন্ধান করে প্রকাশ করার জন্য আপনাদের প্রতি অনুরোধ রইল। এসময় রুহুল আমিন,মকবুল মিয়া রাইসুল ইসলাম সহ শতাধিক অভিভাবক সদস্য ও এলাকাবাসি বলেন, এই উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবৈধ নিয়োগ বানিজ্য অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য ব্যাক্তিকে ম্যানেজিং কমিটিতে পদ পদবি দেওয়া সহ নানারকম অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

যার প্রমান হিসেবে বলা যায় বাঘা ইসলামি একাডেমী,কাদিরপুর, গড়গড়ি, চকরাজাপুর, ও কালিদাসখালি উচ্চ বিদ্যালয় সহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে জমা হয়েছে। কিন্তু অদৃশ্য এক শক্তিতে কোনও অভিযোগেরই সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার হয়না । তাই আমরা ন্যায় বিচার পেতে খুব শিঘ্রই সরাসরি আদালতে অভিযোগ দাখিল করব। এ সময় তারা আরও বলেন, প্রধান শিক্ষকের এই রকম অনিয়ম ও অনাচাররের কারনে অধিকাংশ অভিভাবক নিরব প্রতিবাদ হিসেবে নিজেদের সন্তানকে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে এক সময়ে বিদ্যালয়টিতে শতশত শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকলেও বর্তমানে বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থী সংকটের হুমকির সন্সুখিন হয়েছেন।

ওই বিদ্যালয়ের সর্বশেষ এডহক কমিটির সভাপতি মুকুল সরকার জানান, আমি এডহক কমিটির সভাপতি হলেও নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি গঠনের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ভালো বলতে পারবেন। আপনি উনার থেকে বিস্তারিত জানুন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, আমি মিটিংয়ে আছি। সময় করে স্কুলে আসেন, সব তথ্য দেয়া হবে।এ বিষয়ে সদ্য যোগদানকারি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ইউএনও) শারমিন আখতার বলেন, এ সংক্রান্ত কোন অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি ।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২২.০৬.২০২২ খ্রিস্টাব্দ/রাত ৯:৫০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit