
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের রাজারহাটে দুর্নীতির অভিযোগে বদলী হওয়া কর্মকর্তার অর্ধ কোটি টাকার দুর্নীতি তদন্ত কার্যক্রমকে বাঁধাগ্রস্ত করার অভিযোগ উঠেছে “প্রয়োজনে রাশেদ” নামের এক কথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। দেশের স্বনামধন্য জাতীয় পত্রিকার কোন সাংবাদিক কোন কর্মকর্তা বা ব্যক্তির অনিয়ম দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করলে দুর্নীতিবাজের পক্ষ নিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সম্মানহানিমূলক লেখা লিখতেও দ্বিধা করে না কথিত সাংবাদিক প্রয়োজনে রাশেদ।
শুধু সাংবাদিক পরিচয় নয়, প্রয়োজনে রাশেদের ফেসবুক আইডিতে দেখা যায়, সে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে নিজেকে এনএসআমিন নামের একটি প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফিজিকাল এন্ড ক্যালচারাল অফিসার হিসেবে দাবী করে। শুধুমাত্র এসএসসি পাস করে কিভাবে এধরনের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিজিক্যাল এন্ড ক্যালচারাল অফিসার হওয়া যায় এনিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি একটি ঘটনা ঘটেছে রাজারহাটে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ড.মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান জুয়েল তার অফিসের হিসাব শাখার কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে অন্যের স্বাক্ষরে ভূয়া ভাউচারে বিভিন্ন খাতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার বিল উত্তোলন ও আত্নসাতের ঘটনা ঘটে। এনিয়ে দৈনিক সমকাল,কালেরকন্ঠ,খোলা কাগজ,যায়যায় দিন,আমার সংবাদ সহ বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এছাড়া স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল-২৪ এ নিয়ে সংবাদ সম্প্রচার করে। এঘটনায় গত ৩ফেব্রুয়ারী দৈনিক সমকালে রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার পর ওই দিনই কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ড.মঞ্জুর এ-মোর্শেদ তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। এছাড়া রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ড.আসাদুজ্জামান জুয়েলকে চাঁদপুরের উত্তর মতলব উপজেলায় বদলী করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ফুলের বাগান ও ভালো মানুষের প্রশংসা নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রয়োজনে রাশেদ নামের ফেসবুক আইডিতে ছবি সহ নানা পোস্ট করে আসছিল। বিনিময়ে পকেট খরচও জুটতো তার। কিন্তু রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড.আসাদুজ্জামান জুয়েলের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় তার বদলী ও তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি কোনভাবে মেনে নিতে পারছে না প্রয়োজনে রাশেদ। তাই তদন্ত কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে ফেসবুকে দৈনিক সমকাল পত্রিকার সাংবাদিক আসাদকে নিয়ে আপত্তিকর লেখা ও পোস্ট ছাড়তে দ্বিধা করছে না সে।
আসাদুজ্জামান আসাদ রাজারহাটের সিনিয়র সাংবাদিক দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি ও রাজারহাট প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক। পাশাপাশি তিনি একটি বেসরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক। ডা.আসাদুজ্জামান জুয়েলের বিরুদ্ধে তিনি সংবাদ প্রচার করায় ওই সাংবাদিকের ছবি ফেসবুকে দিয়ে আপত্তিকর, লেখা পোস্ট করে প্রয়োজনে রাশেদ। এঘটনায় কুড়িগ্রামের সাংবাদিক সমাজে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এ ব্যাপারে দৈনিক সমকালের রাজারহাট উপজেলা প্রতিনিধি প্রভাষক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, আমাকে নিয়ে আপত্তিকর লেখা ও পোস্ট ছাড়িয়ে পড়ায় আমার সামাজিক সম্মান ক্ষুন্ন করেছে কথিত সাংবাদিক “প্রয়োজনে রাশেদ”। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ আশা করছি।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়,গত এবং চলতি অর্থ বছরে ২৯টি কমিউনিটি ক্লিনিকে মাদার সাপোর্ট গ্রুপের ওরিয়েন্টেশনের আপ্যায়ন ও স্টেশনারী ক্রয় এবং কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রমের ভ্যাকসিনেটর ও স্বেচ্ছাসেবকদের আপ্যায়ন,পরিবহণ,জনসচেতনতা মূলক সভা ও প্রচার-প্রচারণায় ভুয়া ভাউচার দিয়ে ৪থেকে ৫গুন অতিরিক্ত বিল তৈরী করে অধিকাংশ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে। ওই দু’টি সহ কয়েকটি কর্মসূচীতে বিগত ২০২০-২০২১ এবং চলতি ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের এ সময় পর্যন্ত অর্ধকোটি টাকা ব্যয় করা হলেও কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হয়নি। এরআগে ২০২০-২১ইং অর্থ বছরে রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের এমএসআর এর টেন্ডারে ডা.আসাদুজ্জামান জুয়েল তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর এলাকার তার আত্নীয়ের লাইসেন্স এবং মহাখালি ঢাকার চাচাতো ভাইয়ের একটি লাইসেন্সে ঠিকাদারী কাজ বাগিয়ে নেয়ার চেস্টা করলেও অন্যান্য ঠিকাদার এবং সাংবাদিকরা জেনে ফেলায় তা তিনি করতে পারেননি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান হিসাব রক্ষক কাম অফিস সহকারি আশরাফুল ইসলাম জানান,কোভিড-১৯ কার্যক্রমের বিলগুলো আমার যোগদানের পূর্বের। মাদার সাপোর্ট ওরিয়েন্টেশনের বিলগুলোও আমার মাধ্যমে তৈরী করা হয়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা কার মাধ্যমে বিল তৈরী করিয়েছেন তা আমার জানা নেই। একই কথা বলেছেন,রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্েরর সাবেক হিসাব রক্ষক কাম অফিস সহকারী (বর্তমানে কুড়িগ্রাম সরকারি হাসপাতালে কর্মরত) আব্দুর রাজ্জাক। তাকে দিয়েও কোভিড-১৯ কার্যক্রমের বিল তৈরী করা হয়নি বলে তিনি জানান।
তবে এর আগে এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, কাজ করে বিল করা হয়েছে। শতভাগ কাজ করা সম্ভব নয়। হিসাব সহাকারী দিয়ে বিল না করার অভিযোগে বলেন, সবাই সব কাজ পারেনা। যে পারে তাকে দিয়ে করানো হয়। ভুয়া ভাউচারের বিষয়ে বলেন আমাদের লোকজন এগুলো লেখে। দোকানদাররা তো বোঝেনা। কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ড.মঞ্জুর এ মোর্শেদ রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ আসাদুজ্জামান জুয়েল এর বদলি ও তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান,বদলিতে তদন্তে বা তদন্তের পরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নিতে কোন সমস্যা থাকবেনা।
কিউএনবি/আয়শা/২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ/সন্ধ্যা ৭:১৫