বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
আফটারশকের আতঙ্কে ভেনেজুয়েলা, ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের খোঁজ হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬৪ হাজারের বেশি হাজি, মৃত্যু ৫৪ জনের চীনে প্রথম ‘বিনিয়োগ কার্যালয়’ খোলার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য সহজ শর্তে অর্থায়ন সম্প্রসারণের আহ্বান বাংলাদেশের চীনের সঙ্গে আরও গভীর শিল্প অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সমঝোতা স্মারক সই তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে বিশ্বের দ্রুততম সুপারকম্পিউটার এখন চীনের কঙ্গো ফেরত চিকিৎসকের মাধ্যমে ফ্রান্সে ঢুকলো ইবোলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতায় মধ্যস্থতা করে পাকিস্তানের লাভ কতটা?

আসন কমিয়েও মান নিশ্চিত করা না গেলে সবই বৃথা চেষ্টা

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
  • ৯৩ Time View

 

ডেস্ক নিউজ : সারা বিশ্বই শিল্পায়নের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বাংলাদেশেও সেই ছোঁয়া লেগেছে। ফলে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিতে পড়ালেখা করা শিক্ষার্থীদের চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কর্মবাজারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বিষয় খুব একটা বাড়ছে না। অন্যদিকে কম গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে আগামী শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক হাজার ৪০টি আসন কমানো হয়েছে।

কয়েক দিন আগে ২০২১ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। যাঁদের প্রথম পছন্দই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। অথচ আগামী ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে আসন কমার পাশাপাশি ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে থাকছে না ‘ডি’ ইউনিট। একদিকে ভালো ফল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া, অন্যদিকে প্রথম পছন্দের প্রতিষ্ঠানে আসন কমে যাওয়ায় দুর্ভাবনায় পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, আসন কমিয়ে যদি মান নিশ্চিত করা না যায় তাহলে তা বৃথা চেষ্টায় পরিণত হবে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বিষয়ে আসন কমানো অত্যন্ত যৌক্তিক। একই সঙ্গে তাঁদের কর্মবাজারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নতুন নতুন বিষয় খোলা ও চাহিদাসম্পন্ন বিষয়ে আসন বাড়ানোর উদ্যোগও নিতে হবে। জানতে চাইলে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেসব বিষয়ে আসন কমানো হয়েছে, সেটা আমি যৌক্তিক মনে করি। নৃত্যকলা, ফারসি, উর্দু, আরবির মতো অনেক বিষয়ে যারা ভর্তি হয়, তারা পড়ালেখা শেষ করেও সেই বিষয়গুলোই ভালোভাবে জানে না। অনেক শ্রেণিকক্ষে ৪০ জনের বেশি বসার জায়গা নেই। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের চেনেন না। তাহলে তিনি কিভাবে পড়াবেন? আবার হলে যতগুলো আসন রয়েছে ততজন শিক্ষার্থী থাকলে গণরুম বা গাদাগাদি করে থাকতে হবে না। ’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক মনজুরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানবিকে অনেক বেশি শিক্ষার্থী, কিন্তু বিজ্ঞানে সেভাবে নেই। মাইক্রোবায়োলজি, ভাইরোলজির মতো নতুন নতুন বিষয় খুলতে হবে। এখন যুগের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বিষয়গুলো খুলতে হবে এবং সেখানে আসন বাড়াতে হবে। ’সূত্র জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন বিষয় ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ। কিন্তু ডিনস কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এসব বিভাগে আসনসংখ্যা অপরিবর্তিত থাকছে। জীববিজ্ঞান অনুষদের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান, অণুজীববিজ্ঞান এবং মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগে আসন অপরিবর্তিত থাকছে। বিজ্ঞান অনুষদের পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত ও ফলিত গণিত বিভাগে আসন অপরিবর্তিত রাখতে চান ডিনরা।

এ ছাড়া সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের নৃবিজ্ঞান, মুদ্রণ ও প্রকাশনা এবং টেলিভিশন, ফিল্ম ও ফটোগ্রাফি বিভাগে অপরিবর্তিত থাকছে আসনসংখ্যা। আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ভূতত্ত্ব বিভাগেও আসন অপরিবর্তিত থাকছে। চারুকলা অনুষদের গ্রাফিক ডিজাইন, প্রিন্টমেকিং, প্রাচ্যকলা, মৃিশল্প, ভাস্কর্য, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগে আসন অপরিবর্তিত থাকছে। ইনস্টিটিউটগুলোর মধ্যে পরিসংখ্যান গবেষণা ও শিক্ষণ ইনস্টিটিউট, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট, শক্তি ইনস্টিটিউট, ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ এবং লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটে আসনসংখ্যা অপরিবর্তিত থাকছে।

যেসব অনুষদে আসন কমছে-বাড়ছে : ডিনস কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, কলা অনুষদে ৫১৫টি কমিয়ে আসনসংখ্যা এক হাজার ৮৭৫ থেকে এক হাজার ৩৬০ করা হয়েছে। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে ২০০ আসন কমিয়ে এক হাজার ২৫০ থেকে এক হাজার ৫০ করা হয়েছে। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ১৫৭টি কমিয়ে আসনসংখ্যা এক হাজার ২২২ থেকে এক হাজার ৬৫ করার সুপারিশ করা হয়েছে। জীববিজ্ঞান অনুষদে ৯০টি কমিয়ে ৫৮৫ থেকে ৪৯৫ করা হয়েছে। বিজ্ঞান অনুষদে আসনসংখ্যা দুটি বাড়িয়ে ৪৬৮ থেকে ৪৭০ করা হয়েছে। আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদে ১০টি কমিয়ে ২৪৫ থেকে ২৩৫ করা হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদে ১০টি আসন বাড়িয়ে ২৩৫ থেকে ২৪৫ করার সুপারিশ করেন ডিনরা। চারুকলা অনুষদে পাঁচটি আসন কমিয়ে ১৩৫ থেকে ১৩০ করা হতে পারে। আইন অনুষদে ২০টি কমিয়ে ১১০ করা হয়েছে। ফার্মেসি অনুষদে ১০টি বাড়িয়ে আসন ৬৫ থেকে ৭৫ করা হয়েছে। অন্যদিকে ১০টি ইনস্টিটিউটে ৪০টি আসন কমিয়ে ৯১৫ থেকে ৮৭৫ করা হয়।

আসনসংখ্যা অপরিবর্তিত থাকা কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাইফুদ্দিন মো. তারেক বলেন, ‘আমরা বিভাগ থেকে মনে করেছি, যেটা আছে সেটা চলতে পারে। কারণ সিট বাড়ানোই আসল কথা নয়। আমাদের বিভাগের সক্ষমতা অনেক কম। এখন সংখ্যা যেটা আছে, সক্ষমতার তুলনায় সেটাই অনেক বেশি। বরং আরো কমানো উচিত। নয়তো বিভাগের সক্ষমতা আরো বাড়ানো উচিত। ’আসনসংখ্যা ১০টি কমিয়ে ৫০ থেকে ৪০ করা অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের (সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ) চেয়ারপারসন, সহকারী অধ্যাপক খন্দকার ফারজানা রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অপরাধবিজ্ঞানের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে, এটা সত্য। আমাদের বিভাগের সক্ষমতাও পর্যাপ্ত রয়েছে। তবে চাকরির বাজার সে তুলনায় সম্প্রসারিত হয়নি। এমনকি বিভাগের অ্যালমানাইও সেই তুলনায় বাড়েনি, যারা চাহিদা অনুযায়ী চাকরির বাজার সম্প্রসারিত করতে ভূমিকা রাখবে। এ কারণেই হয়তো আমাদের আসনসংখ্যা কমানো হয়েছে। তবে বিভাগের পক্ষ থেকে আসন অপরিবর্তিত রাখতে বলা হয়েছিল। ’

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ‘মানুষের মধ্যে অ্যামপ্লয়মেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। কিছু কিছু বিষয় থাকে সেখান থেকে পাস করার পর চাকরি থাকে না। সেগুলোর আসন কমালে ক্ষতির কিছু নেই। আমরা ইউজিসি থেকে কর্মবাজারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বিষয় খোলা ও সেখানে আসন বাড়ানো এবং মানসম্মত শিক্ষার ওপর বেশি গুরুত্ব দিই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষেরও হয়তো সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। ’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চিন্তা-ভাবনা করেই আসন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু আসন কমিয়ে যদি মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে তাদের উদ্যোগ সফল হবে না। তবে এ বছর অনেক বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পাস করেছে। আবার আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন কমছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা তৈরি করতে পারে। করোনার এই সময়ে এই বিষয়গুলোও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে মনে রাখা উচিত। ’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘আমরা প্রয়োজনভিত্তিক উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করব। শিক্ষার্থীরা যে বিষয়ে পড়াশোনা করবেন, সেই বিষয়ের ওপর তাঁদের দক্ষতা যেন পরিপূর্ণ হয়, তার জন্য সুযোগ-সুবিধা আরো বাড়াতে হবে। শ্রেণিকক্ষের আকার অথবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষার্থীদের যে অনুপাত হয়, সেই বিবেচনায় শিক্ষার্থীসংখ্যা নির্ধারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসনসংখ্যা কমানো হচ্ছে। ’

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ/দুপুর ১২:৩৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit