রোগীকে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসাকেন্দ্রে বিশেষভাবে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে এবং তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে বুধবার জানিয়েছে ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আক্রান্ত ওই চিকিৎসকের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের কাজ শুরু করেছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণ জনগণের জন্য সংক্রমণের ঝুঁকি খুবই কম। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সক্রিয় রয়েছে এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান তেদ্রোস আধানম গ্রেব্রিয়াসুস বলেছেন, “বাদবাকী বিশ্বের জন্যও ঝুঁকি কম। আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।”
গত মাসে মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গো ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেয়। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর কয়েকসপ্তাহ আগে থেকেই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছিল। ২৬০ জনের বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার জন।
আফ্রিকার বাইরে ইউরোপে ইবোলা শনাক্ত হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। যদিও কঙ্গোয় ইবোলা পজিটিভ ধরা পড়া এক মার্কিন চিকিৎসককে গত মাসে জার্মানির একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
কঙ্গোর প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও ইবোলা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, সেখােনে ২০ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং দুইজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইবোলাতে বেশি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন বিশেষত স্বাস্থ্যকর্মীরা। গত সপ্তাহে ডব্লিউ এইচও বলেছে, কঙ্গোতে ইবোলা আক্রান্ত ৭৫ জন স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে ১৭ জনই মারা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে, কারণ এই ইবোলা সংক্রমণের জন্য দায়ী বান্ডিবুগিও ধরনের ভাইরাস। এই ধরনের বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনও অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।
ফলে কঙ্গোয় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন দেশে তা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আন্তর্জাতিক স্তরে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ফ্রান্স কঙ্গো থেকে আসা ত্রাণকর্মীদের জন্য একটি ‘নিবেদিত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা’ গড়ে তুলেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।