বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৫ পূর্বাহ্ন

গেইট ব্যারিয়ারের অভাবে ঘটতে পাড়ে বড় দুর্ঘটনা

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২২
  • ১৩৯ Time View

 

ময়না আকন্দ,জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনের পশ্চিম পার্শ্বে পৌর শহরের গেইটপাড় এলাকার ব্যস্ততম প্রধান সড়কের উপর অনেক দিন ধরে রেলওয়ে গেইট ব্যারিয়ার না থাকায় যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় রকমের দুর্ঘটনা। জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনটি একটি জংশন স্টেশন। এই স্টেশন থেকে দুইটি রেলপথ দেওয়ানগঞ্জ বাজার স্টেশন ও তারাকান্দি রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত চলে গেছে।সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর শহরের গেইটপাড় এলাকাটি শহরের সবচেয়ে ব্যস্ততম একটি জনবহুল এলাকা। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এ রেলপথ দুটি দিয়ে প্রায় ১২জোড়া ট্রেন চলাচল করে থাকে।

গেইটপাড় এলাকায় টি-৯৪নং গেইট ব্যারিয়ারটি স্থাপিত। পূর্বে এখানে সিঙ্গেল সড়ক থাকাকালীন সময়ে একটি সিঙ্গেল গেইট ব্যারিয়ার ছিল। কিন্ত ২০১৯ সাল থেকে ব্যস্ততম এই এলাকায় যানজন নিরসনের জন্য একটি রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। এই ওভারপাস নির্মাণ কাজ শুরুর আগে সড়কের দু’পাশের জায়গা অধিগ্রহন করে সড়কটি প্রশস্ত করা হয়। পূর্বে সিঙ্গেল সড়কের জন্য একটি গেইট বেরিয়ার থাকলেও বর্তমানে সড়কটি ডাবল হওয়ায় পূর্বের গেইট বেরিয়ারটি এখন আর কোন কাজেই আসছে না। গেইটপাড় এলাকাটিতে ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক, অটো রিক্সা, সিএজি চালিত অটো রিক্সা, বাস, ট্রাক আর মানুষের জটলা সব সময় লেগেই থাকে।

জামালপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে জানা যায়, দিনে কিংবা রাতে গেইটপাড় এলাকাটিতে জটলা লেগে থাকার কারনে সরকার এই স্থানটিতে একটি রেলওয়ে ওভার পাস নির্মার্ণের উদ্যোগ নেয়। এ লক্ষ্যেই ২০১৭ সাল থেকে এই এলাকায় ভূমি অধিগ্রহনের কাজ শুরু করা হয়। এরপর ২০১৯ সাল থেকে ওভারপাস নির্মাণের কাজ শুরু করা হলেও মাঝ পথে তা থেমে যায়। ওভারপাসটি ২০২২ সালের জুন মাসে সমাপ্ত হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তিতে এর সমাপ্ত কাজ বর্ধিত করে ২০২৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত নির্ধারন করা হয়েছে। বর্তমানে ওভারপাসটির নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।সড়কের দুই পাশে ভূমি অধিগ্রহনের কারনে সড়কটি বর্তমানে বেশ প্রশস্থ। এছাড়াও খানাখন্দে ভরা এই সড়কটি দিয়ে চলাচলের সময় মাঝে মধ্যেই যানবাহনগুলো বিকল হয়ে পরে। এ সময় হঠাৎ কোন ট্রেন চলে আসলে পথচারীদের ডাক চিৎকারে এলাকায় এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

জামালপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো.আছাদ উজ জামান বলেন, ট্রেন চলাচলের সময় গেইটপাড় এলাকায় টি-৯৪ নাম্বারের গেইট বেরিয়ারটি দিয়ে প্রশস্থ হওয়া পুরো সড়ক বন্ধ করা যায় না। ফলে ওই পথ দিয়ে কোন ট্রেন যাতায়াত করার সময় গেইটে দায়িত্বরত গেইটম্যানদেরকে বেশ ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। সড়কের অর্ধেকটায় গেইট ব্যারিয়ার ফেলে অবশিষ্ট সড়কে দুই হাত তুলে অনেক কষ্টে তাদেরকে যানবাহন নিয়ন্ত্রন করতে হয়। সড়কের মাঝখানে ডিভাইডার তৈরী করে নতুন করে দুই পাশে দুইটি গেইট বেরিয়ার স্থাপন করা খুবই জরুরী। এই গেইট ব্যারিয়ারের জন্য আমাদেরকে সব সময় উৎকন্ঠার মধ্যে থাকতে হয়। তিনি আরও বলেন, আমি ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী, বিভাগীয় প্রকৌশলী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) ও  উপ-সহকারী প্রকৌশলী (কার্য) বরাবর আবেদন করেছি।

এ ব্যাপারে জামালপুর উপ-সহকারী প্রকৌশলী (কার্য) মো.রেজাউল হক বলেন, রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণের লক্ষ্যে গেইটপাড় এলাকায় সড়ক প্রশস্থ করায় আমাদের পূর্বে গেইট বেরিয়ারটি এখন আর কোন কাজে আসছে না। সড়ক প্রশস্থ হওয়ায় আমারা সড়কের মাঝখান দিয়ে একটি ডিভাইডার নির্মাণের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে কথা বলেছি। সড়ক ডিভাইডারটি নির্মাণ করা হয়ে গেলে সড়কটিকে ওয়ানওয়ে সড়ক করা হবে। তখন একপাশ দিয়ে যানবাহনগুলো যাবে আর অন্য পাশ দিয়ে আসবে। ওই সময় দুই পাশে দুইটি গেইট বেরিয়ার স্থাপন করা হলে আর দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।এব্যাপারে জামালপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল বাশার মো.সাদ্দাম হোসেন বলেন, গেইট বেরিয়ারের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমার সাথে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এ বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করেনি। বিষয়টি নিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আমার কাছে আসলে আমি অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো। 

কিউএনবি/অনিমা/২৪শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ/বিকাল ৫:৪৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit