আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের অর্থনীতিতে তৈরি হয়েছে এক অনন্য মাইলফলক। এক দশকের সামান্য বেশি সময়ে প্রায় ৫০ কোটি মানুষকে দারিদ্র্যের চরম অভিশাপ থেকে মুক্ত করেছে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি।
বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চীনের চেয়েও দ্রুতগতিতে নিজেদের নাগরিকদের দারিদ্র্যের হাত থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে ভারত।
সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসের ‘পোভার্টি অ্যান্ড ইক্যুইটি ব্রিফ’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারতের প্রায় ৪৯ কোটি ৬০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপর উঠে এসেছে। এ সময়ে দেশটির জনসংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও এই অর্জনকে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও বিস্ময়কর বলে অভিহিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে চীনকে পেছনে ফেলে ভারত বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশে পরিণত হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১১ সালে ভারতে দৈনিক তিন ডলার বা তার কম আয়ে জীবনযাপন করা চরম দরিদ্র মানুষের হার ছিল ২৭.১ শতাংশ, যা ২০২৩ সালে আশাতীতভাবে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২.৬ শতাংশে। অন্যদিকে, ২০২১ সালের ক্রয়ক্ষমতা সমতার (পিপিপি) ভিত্তিতে দৈনিক ৪.২০ ডলারের নিম্ন-মধ্যম আয়ের দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের হার ২০১১ সালের ৫৭.৭ শতাংশ থেকে কমে ২০২৩ সালে ১৬.১ শতাংশে নেমে এসেছে।
এর আগে ২০২২ সালে বিশ্বব্যাংক ও চীনের অর্থ মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল যে, চীন প্রায় ৮০ কোটি মানুষকে দারিদ্র্যমুক্ত করেছে, তবে সেজন্য তাদের সময় লেগেছিল দীর্ঘ চার দশক। ১৯৭৮ সালে অর্থনৈতিক সংস্কার শুরু করার পর চীন ২০২০ সালের মধ্যে এই সফলতা অর্জন করে। অর্থনীতিবিদদের মতে, চীন ও ভারতের এই পরিমাপ সরাসরি তুলনাযোগ্য না হলেও ভারতের অর্জনটি বিশেষ নজর কেড়েছে, কারণ ভারতের অর্থনীতির আকার চীনের তুলনায় অনেক ছোট। বর্তমানে চীনের ২০.৮৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির বিপরীতে ভারতের অর্থনীতির আকার প্রায় ৪.৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা চীনের অর্থনীতির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।
ভারতে এই দ্রুত দারিদ্র্য নিরসনের পেছনে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ এবং সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী ও খাদ্য ভর্তুকির সম্প্রসারণ মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। ২০১৪ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের টাকা সরাসরি সুবিধাভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়ার ‘ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ পদ্ধতি চালু করেন, যা মধ্যস্বত্বভোগীদের দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ বন্ধ করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
সূত্র: আরটি
কিউএনবি/অনিমা/৩১ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ৯:৩৪