মনিরুল ইসলাম মনি: শার্শা(যশোর) : বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থরবন্দর যশোরের বেনাপোল – ঢাকা রুটে ট্রেনে ক্যাবিন, বগি সংকটের কারনে সাধারন যাত্রীরা রেল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই সাথে শার্শা উপজেলার বানিজ্য শহর নাভারনে রেল ষ্টপেজ না থাকায় অনেক যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ট্রেনে যেতে নাভারন , শার্শা ও বাগআঁচড়া এলাকার যাত্রীদের সময় ব্যায় করে বেনাপোল অথবা যশোর থেকে ট্রেনে উঠে ঢাকার গন্তব্যে ফৌছাতে হয়। এ জন্য ট্রেনে টিকিট কেটে ভোগান্তির শেষ থাকে না।
বেনাপোল রেল সূত্রে জানাগেছে, বর্তমানের ঢাকা বেনাপোল রুটে দুটি শিপটে ট্রেন চালু রয়েছে। একটি বেনাপোল এক্সপ্রেস অপরটি রুপশী বাংলা। এ দুটি ট্রেনে বেনাপোল ও যশোর মিলে আসন সংখ্যা ৭৮৬টি। যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
এ ব্যাপারে বেনাপোল কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট এসোসিয়েমনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক বরাবর করা এক লিখিত অভিযোগে জানাগেছে, ঢাকা- বেনাপোল রুটে চলাচলরত ট্রেনের ক্যাবিন ও বগি চহিদামত না থাকায় বেনাপোলের সাথে সংযুক্ত অনেক সিএন্ডএফ ব্যাবসায়ী,আমদানিকারক, রপ্তানিকার ও সাধারন ব্যবসায়ীরা ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে। যে কারনে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের রাজস্ব ঘাটতির অনেকটা কারনে পরিনত হয়েছে।
এসব ব্যবসায়ীরা সময়মত ট্রেনের সুবিধা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছে। কারন ট্রেনে চাহিদামত বগি ও ক্যাবিন না থাকার কারনে ট্রেনের সুবিধা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে সুবিধা ভোগি যাত্রীরা। কুমে যাচ্ছে আয়। রাজস্ব হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সরকার।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েমনের সিনিয়র সহসভাপতি ও শার্শা উপজেলা বিএনপি’র প্রধান উপদেষ্ঠা আলহাজ্ব খায়রুজ্জামান মধু বলেন, বেনাপোল কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট এসোসিয়েমনের পক্ষ থেকে তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক বরাবর এক লিখিত অভিযোগ করেছেন ঢাকা-বেনাপোল রুটের ট্রেনে পর্যাপ্ত ও চাহিদা মত ক্যাবিন ও বগি সংযোজন করার জন্য। তিনি বলেন যাত্রিদের সুবিধার্তে শার্শা উপজেলার বানিজ্য শহর নাভারনে একটি ঢাকা – বেনাপোল রুটের একটি ষ্টপেজ জরুরী ভাবে প্রয়োজন।
তিনি বলেন বেনাপোল স্থল বন্দর বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থল বন্দর। বেনাপোল থেকে সরকার প্রতি অর্থ বছরে প্রায় ৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে। বেনাপোলে প্রায় ৮শতাধিক সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী রয়েছে। অনেকে রাজধানি ঢাকা থেকে রেনাপোলে এসে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে। অনেক সময় দেখা যায় ঢাকা- বেনাপোল ট্রেনে ক্যাবিন নাই, বগিতে ছিট নাই। এ জন্য তিনি বেনাপোল কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট এসোসিয়েমনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক বরাবর এসব সমষ্যা সমাধানের জন্য লিখিত অভিযোগ আকারে আবেদন করেছেন ।
তিনি এ বিষয়টি নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ ও দৃষ্টি কামনা করেছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বেনাপোল রেল ষ্টেশন মাষ্টার সাইদুজ্জামান বলেন চাহিদার তুলনায় ঢাকা- বেনাপোল রুটে ক্যাবিন ও বগির সমষ্যা রয়েছে। বর্তমান সময়ে ট্রেনে সুবিধা বেশি থাকায় ও নিরাপদ হওয়ায় যাত্রীর চাহিদা বেশি।তিনি বলেন সরকার খুব শীঘ্রই ভারত থেকে ২শ নতুন কোচ আসলে সমষ্যার সমাধান হবে। তিনি আরও বলেন ঢাকা – বেনাপোল রুটে নতুন কোচ সংযোজন হলে বানিজ্য শহর নাভারনে ষ্টপেজ হতে পারে বলে জানান।
কিউএনবি/আয়শা/১৯ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ১০:১২