ডেস্ক নিউজ : দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। মানবাধিকার ও সুশাসন নিয়ে কাজ করা সংগঠন মুভমেন্ট ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড গুড গভর্নেন্স ফাউন্ডেশনের পক্ষে আজ বুধবার এই আবেদনটি করা হয়। রিটে শিক্ষা সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং মাউশির উপ-সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
আইনজীবী জাহিদ তালুকদার জানিয়েছেন, ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির নিয়ম চালু ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে বর্তমান সরকার সেই লটারি পদ্ধতি বাতিল করে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।
গত ১৬ মার্চ শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান এবং একই দিনে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রথম শ্রেণিতে লটারি বহাল থাকলেও দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষার বিধান রাখা হয়েছে।
আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন যে, লটারি পদ্ধতি বাতিল করে ভর্তি পরীক্ষা চালুর এই সিদ্ধান্ত কোনো গভীর গবেষণা, সঠিক মূল্যায়ন কিংবা অংশীজনদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা না করেই একতরফাভাবে নেওয়া হয়েছে। স্কুল পর্যায়ে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা চালু হলে কোমলমতি শিশুদের ওপর মানসিক চাপ বাড়বে এবং দেশজুড়ে কোচিং বাণিজ্য ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, ভর্তি পরীক্ষা চালু হলে সমাজে তীব্র বৈষম্য ও অসমতা তৈরি হতে পারে। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে কোচিং বা গৃহশিক্ষকের বাড়তি ব্যয় বহন করা সম্ভব না হওয়ায় তাদের সন্তানরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে।
এছাড়া এই প্রক্রিয়ার ফলে ভর্তি বাণিজ্য, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে। শিশুদের সুস্থ ও চাপমুক্ত বিকাশের স্বার্থেই এই রিট দায়ের করা হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে বিচারপতি এস. এম মনিরুজ্জামান ও বিচারপতি এস. এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের হাইকোর্ট বেঞ্চে এর শুনানি হতে পারে।
কিউএনবি/অনিমা/০৭ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ৯:৪৬