মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ভার আর বহন করতে পারছে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী খুলনায় ছেলেকে হত্যার দেড় মাস পর বাবাকে গুলি করে হত্যা একাদশে ভর্তির দ্বিতীয় ধাপের ফল প্রকাশ, ৮ অক্টোবর পর্যন্ত নিশ্চায়নের সুযোগ ‘বাংলাদেশ এখন টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল নিয়ে ভাবছে’ অহংকার রোনালদোকে জীবন্ত গিলে খাচ্ছে : দুগারি স্পেনের ম্যাচসহ টিভিতে আজকের যত খেলা হুথিদের হটিয়ে মোখা শহরের নিয়ন্ত্রণ নিল ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী যে কৌশলে বন্যপ্রাণী রক্ষায় সাফল্য পেল ভারত ধীরগতিতে মার্কিন সেবাখাত, লাফিয়ে বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয় বাব আল-মানদেব প্রণালিতে হুতিদের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের বড় পরাজয়: ইরান

যে কৌশলে বন্যপ্রাণী রক্ষায় সাফল্য পেল ভারত

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২২ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  : প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিটি প্রাণীরই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কিন্তু দ্রুত নগরায়ণ, বনভূমি সংকোচন, পরিবেশদূষণ ও মানুষের অসচেতন আচরণের কারণে দেশে দেশে বন্যপ্রাণী নানা সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। বন্যপ্রাণীদের নিরাপদে বেঁচে থাকার চ্যালেঞ্জ দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। তবে বন্যপ্রাণী রক্ষায় ভারত বেশ সফলতা অর্জন করেছে।

সবচেয়ে বড় উদাহরণ ভারতের জাতীয় প্রাণী বাঘ। ১৯৭০-এর দশকে বিলুপ্তির মুখে থাকা বাঘের সংখ্যা গত দুই দশকে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে প্রায় ৩ হাজার ৭০০-এ পৌঁছেছে। যেখানে মালয়েশিয়ার মতো ধনী ও কম জনঘনত্বের দেশে বাঘের সংখ্যা কমছে, সেখানে ভারতের এই সাফল্য এতটাই ঈর্ষণীয় যে তারা এখন কম্বোডিয়াতেও বাঘ রপ্তানি করতে যাচ্ছে। ১৯৭৩ সালে শুরু হওয়া ভারতের ‘প্রজেক্ট টাইগার’ আজ বিশ্বজুড়ে এক সফলতার নাম।

বাঘের পাশাপাশি গুজরাটে এশীয় সিংহ এবং আসামে একশৃঙ্গ গন্ডার সংরক্ষণেও বড় সাফল্য এসেছে। আসামের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যটিতে এখন গন্ডার শিকারের ঘটনা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। এই আত্মবিশ্বাসের ওপর ভর করে ২০২২ সাল থেকে আফ্রিকা থেকে চিতা এনে ১৯৫২ সালে বিলুপ্ত হওয়া চিতা প্রজাতিকে ভারতে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। শুধু বাঘ বা সিংহ নয়, মৃতদেহভোজী শকুনের মতো পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রাণীদের সংখ্যা বাড়াতেও বিশেষ প্রকল্প চলছে।

ভারতে বন্যপ্রাণী সুরক্ষার পেছনে সে দেশের জনমত ও ধর্মীয় সংস্কৃতির বড় ভূমিকা রয়েছে। বৃহত্তর ভারতীয় সমাজে প্রাণী হত্যা বা নির্যাতনকে অপরাধ হিসেবে দেখা হয়। ফলে এশিয়ার সবচেয়ে কঠোর বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইনগুলোর কিছু রয়েছে ভারতেই।

পোলিও নির্মূল এবং কোভিড-১৯ মহামারির সময় দ্রুত টিকা দেওয়ার মতো ভারত বন্যপ্রাণী সংরক্ষক নীতিতেও ‘মিশন মোড’ (নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও বিশেষ কর্মপরিকল্পনা) পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। ‘প্রজেক্ট টাইগার’-এর পথ ধরে পরবর্তীতে ‘প্রজেক্ট এলিফ্যান্ট’, ‘প্রজেক্ট স্নো লেপার্ড’, ‘প্রজেক্ট ডলফিন’ ও ‘প্রজেক্ট রাইনো’র মতো প্রকল্প সফল হয়েছে। ব্রিটিশ আমলে কাঠ সংগ্রহের জন্য তৈরি হওয়া ‘ইম্পেরিয়াল ফরেস্ট সার্ভিস’ স্বাধীনতার পর বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় নিয়োজিত করা হয়। পাশাপাশি পরিবেশবাদী এনজিও, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের সমন্বিত নাগরিক সমাজ রাষ্ট্রের এই কাজে শক্ত নজরদারি রাখছে।

অবশ্য এই সংরক্ষণ ব্যবস্থা পুরোপুরি নিখুঁত নয়। বন্যপ্রাণীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির ফলে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত এক মারাত্মক রূপ নিয়েছে, যা এখন ভারতের নতুন প্রশাসনিক ও মানবিক সমস্যা।

তবুও, সীমিত সম্পদের একটি উন্নয়নশীল দেশ হয়েও ভারত যেভাবে বন্যপ্রাণী রক্ষায় বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে, তা এক অনন্য অর্জন। পরিবেশবিদদের মতে, এই মডেল প্রমাণ করে যে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে দেশের দূষিত বায়ু, দমবন্ধ করা নদী কিংবা আবর্জনার ভাগাড়ের মতো জলবায়ু সংকটও দূর করা সম্ভব। কারণ মানুষ ও প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি আজ বাঘ, সিংহ আর হাতির বেঁচে থাকার জন্যও পরিষ্কার বাতাস ও পানির কোনো বিকল্প নেই।

সূত্র: দ্য ইকনোমিস্ট

কিউএনবি/অনিমা/০৬ অক্টোবর ২০২৬,/সকাল ৯:০৭

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit