ডেস্ক নিউজ : কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে গঙ্গাধর নদী দিয়ে গভীর রাতে নৌকাযোগে ৫০ কেজি ওজনের ৩৯টি বস্তা সার পাচারের সময় আটক করে স্থানীয় জনতা। সার পাচার ও আটকের বিষয়ে কোন দায় নিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন।
রোববার স্থানীয় কৃষকদের তালিকা করে সরকারী দামে জব্দকৃত সার বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে নারায়নপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের আউয়ালের ঘাট এলাকায় সার পাচারের ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে একটি নৌকাযোগে সার নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে নৌকাটি আটকানো হয়। এসময় নৌকায় ৩৯টি বস্তায় এক হাজার ৯৫০ কেজি সার পাওয়া যায়। পরে সারগুলো স্থানীয়রা জব্দ করে স্থানীয় নেতা ফরিদুল জোয়ারদারের জিম্মায় জমা রাখা হয়।
নৌকার মাঝি আনিসুর রহমান জানান, নারায়ণপুরের ব্যবসায়ী মোস্তফা মোল্লার কাছ থেকে ১৭শ’ টাকা বস্তা দরে এই সার কিনে নিয়েছে বল্লভেরখাষ ইউনিয়নের মাদারগঞ্জ বাজারের তেল বীজ ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন। তারা শুধু পরিবহন করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মোস্তফা মোল্লা স্থানীয় ডিলারের খুচরা বিক্রয় প্রতিনিধি।
স্থানীয়দের অভিযোগ তারা সারা পান না। অথচ চোরাই বাজারে চরা মূল্যে পর্যাপ্ত সার পাওয়া যায়। সেসব সার এভাবেই পাচার হয়ে যায়।
স্থানীয় নেতা ফরিদুল জোয়ারদার জনান, রাতে নৌকায় পাচারকালে ৩৯টি বস্তা সার আটক করা হয়। সেগুলো আমার পাশের বাড়িতে জমা রাখা হয়। রোববার সকালে স্থানীয় কৃষকদের তালিকা করে সরকারী দামে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে।
সার বিক্রির টাকা কে পাবে প্রশ্নে তিনি জানান, যার সার সে (আলতাফ)পাবে। এ বিষয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অবগত আছেন বলে তিনি জানান।
আলতাফ এতগুলো সার কোথায় পেল জানতে চাইলে তিনি জানান, সার কোথায় পেল তা জানিনা। তবে এই সারের চালান বা রশিদ পাননি তারা। এই সার অবৈধ উপায়ে নিয়ে আসা হয়েছে কিনা প্রশ্নে তিনি জানান, অবশ্যই অবৈধ উপায়ে সংগ্রহ ও বিক্রির উদ্দেশ্য ছিলো।
নারায়ণপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, মোস্তফা মোল্লা সাব ডিলার। তিনি আলতাফ হোসেনের শ্যালক (স্ত্রীর বড় ভাই)। আলতাফ হোসেন মোস্তফার মাধ্যমে এই সার নিয়ে আসছে। এগুলো আমাদের বরাদ্দের সার না। যাত্রাপুর থেকে নিয়ে এসেছে। সেই সার স্থানীয়দের প্রয়োজন আছে বলে তারা আটক করেছে। আটক সার সকালে (রবিবার) স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বিক্রি করে দিয়েছে বলে শুনেছি।
অভিযুক্ত আলতাফ হোসেন এই সার তার স্বীকার করে জানান, এখন কৃষকদের মাঝে সার বিতরণ করছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানাবে বলে ফোন রেখে দেন তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন এ সারের দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি জানান, এ সার তাদের হিসাবের না এবং আলতাফ ডিলার বা সাব ডিলার না। তিনি হয়তো কৃষকদের নিকট থেকে এই সার ক্রয় করেছেন।
কৃষকরা যেখানে সার পায়না সেখানে কিভাবে বিক্রি করবে? এই প্রশ্নের কোন জবাব দেননি তিনি। তবে এতগুলো সার একজন ব্যবসায়ী কোথা থেকে এবং কেন সংগ্রহ করলো সে বিষয়ে অনুসন্ধান করবেন বলে জানান তিনি।
এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, এমন ঘটনা আমার জানা নেই। আমি এই বিষয় খোঁজ নিচ্ছি।
কিউএনবি/অনিমা/১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/দুপুর ১:৩৪