সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৭ অপরাহ্ন

আ.লীগের ঝটিকা মিছিল ঘিরে ভয়ংকর ছক, নেপথ্যে কারা?

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২২ Time View

ডেস্ক নিউজ : রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ঝটিকা মিছিল ঘিরে ভয়ংকর ছকের তথ্য মিলেছে। গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে উঠে এসেছে, এসব কর্মসূচির নেপথ্যে রয়েছেন দলটির পলাতক ও আত্মগোপনে থাকা কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের নগদ অর্থ দিয়ে সংগঠিত করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।

সূত্র জানায়, অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য এ ধরনের কার্যক্রমের নেপথ্য অর্থায়ন ও ইন্ধনদাতা হিসাবে পতিত সরকারের এমন কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে যাদের কেউ আছেন জেলে, কেউ দেশে আত্মগোপনে, কেউ বিদেশে থেকে অর্থায়ন করছেন। এই তালিকায় রয়েছেন সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর নাসির উদ্দিনসহ আওয়ামী লীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

এদিকে গুলশানে বড় ধরনের ঝটিকা মিছিলের ঘটনা ভাবিয়ে তুলেছে পুলিশ প্রশাসনকে। এ ঘটনায় পুলিশের ব্যর্থতা ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণে ডিএমপির পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের ৭২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বড় ধরনের ঝটিকা মিছিল করে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনার দিন ১১ সেপ্টেম্বর ও তার পরদিন (১২ সেপ্টেম্বর) অভিযান চালিয়ে সরাসরি মিছিলে অংশ নেওয়া ৩২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিশেষ অভিযানে আরও ৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত আগস্ট মাসে সারা দেশে নিষিদ্ধ ছাত্র লীগের পক্ষ থেকে ১৪৩টি ঝটিকা মিছিল করা হয়। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ৪৩টি এবং গ্রেফতার হয়েছে ২০৫ জন। চলতি মাসের প্রথম ৯ দিনে ছাত্রলীগের ৩১টি ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সাতটি মামলা হয়েছে এবং গ্রেফতার হয়েছেন ৫০ জন। অন্যদিকে চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ২২টি ঝটিকা মিছিল এবং একটি গোপন বৈঠকসহ আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নসংক্রান্ত ৩৬টি ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

গোয়েন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে হঠাৎ ঝটিকা মিছিল বের করে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর কৌশল হিসাবে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নগদ অর্থ দিয়ে সংগঠিত করা হচ্ছে। এসব অর্থের জোগান আসছে সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সংসদ-সদস্য, মেয়র ও স্থানীয় কাউন্সিলরদের তহবিল থেকে। মিছিলে অংশ নিতে আসা কর্মীদের দৈনিক নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ টাকা ও যাতায়াত খরচ দেওয়া হয়। নেপথ্যে থাকা পলাতক নেতাদের প্রতিনিধি ও সহযোগীরা ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার অর্থ লেনদেন তদারকি করছে। এ বিষয়ে হুন্ডি, বিকাশ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেওয়া অর্থের লেনদেন রেকর্ড পর্যালোচনা করছে গোয়েন্দারা।

আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই দেশের বাইরে আত্মগোপনে বা পলাতক রয়েছেন। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। দেশের বাইরে অবস্থান করেও দেশের জ্বালানি খাতের অস্থিরতা এবং রাজনৈতিক ‘স্যাবোটাজে’র জন্য পর্দার আড়ালে যুক্ত রয়েছেন। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির লক্ষ্যেই তিনি ঝটিকা মিছিলে অর্থায়ন করছেন।

গুলশানে ঝটিকা মিছিলের অর্থায়নে নাম আসা আওয়ামী লীগ নেতা নাসির উদ্দিনের বিষয়ে জানতে চাইলে গোয়েন্দা সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও বিভিন্ন পদে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০২০ সালের ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রার্থী হন এবং বিজয়ী হয়ে ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৪ সালের আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল বের করার সময় হাতেনাতে আটক হওয়া ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অর্থায়ন ও পরিকল্পনার বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য মিলেছে। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে আমরা কিছু নাম পেয়েছি। তাদের উদ্দেশ্য অনেক বড়। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সব বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ও তাদের পেছনে থাকা অর্থদাতাদের আইনের আওতায় আনতে ডিবি ও থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারের উপকমিশনার (ডিসি) আকতার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। গুলশানে ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সিনিয়ররা আমাকে কোনো তথ্য দেননি। তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।’ তবে ডিসি (সদর দপ্তর) শাহরিয়ার আলী বলেন, ‘দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি হয়েছে। প্রশাসনিক বিষয় হওয়ায় কমিটি সদস্যদের নাম বা এ সংক্রান্ত অন্য কোনো তথ্য জানানো যাচ্ছে না।’

গোয়েন্দারা জানান, আগামী ডিসেম্বরে দেশে আসার ঘোষণা দিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ঘোষণা বাস্তবায়নে একদিকে কূটনৈতিক তৎপরতা এবং অন্যদিকে দেশকে অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবেই সারা দেশে ঝটিকা মিছিল করছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগসহ দলটির ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সংগঠন চাঙ্গা করতে দলটির শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নানা ধরনের বার্তা দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ‘মিছিল-মিটিং করতে গিয়ে যারা গ্রেফতার হবেন, আগামীতে দলে তাদেরই মূল্যায়ন করা হবে। এ ধরনের বক্তব্যে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/দুপুর ১:১২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit