বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কমলগঞ্জে বাড়ির সিঁড়ির নিচ থেকে ৫টি কোবরা সাপের বাচ্চা উদ্ধার জলবায়ুর অভিঘাতে স্কুলে মেয়েদের ঝড়ে পড়া বাড়ছে: ইউনিসেফ বড়পুকুরিয়া বাইপাস সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে॥ রাবিপ্রবিতে যৌন হয়রানি ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সেমিনার দুর্গাপুরে ভারতীয় মদসহ আটক – ০১ দুর্গাপুরে যুবদলের উদ্যোগে মাদকবিরোধী মানববন্ধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাবিপ্রবি ছাত্রদলের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ “অসুস্থ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ১১ আর-ই ব্যাটালিয়নের মানবিক উদ্যোগ” জিতের সঙ্গে আবার সিনেমা করা প্রসঙ্গে যা বললেন স্বস্তিকা ইবাদত ও ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে চিত্রনায়িকা পপির জন্মদিন পালন

রাবিপ্রবিতে যৌন হয়রানি ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সেমিনার

আলমগীর মানিক,রাঙামাটি প্রতিনিধি।
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৩ Time View

আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : যৌন হয়রানি ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে অনেকেই সামাজিক ও পারিবারিক ভয়ের কারণে নীরব থাকেন। এতে ভুক্তভোগীর মানসিক ক্ষতির পাশাপাশি অপরাধীরাও অনেক সময় পার পেয়ে যায়। তাই যৌন হয়রানির ঘটনা গোপন না করে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানানো এবং আইনি প্রতিকার নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) একাডেমিক ভবন-১-এর সভাকক্ষে ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সাইবার নিরাপত্তা: সচেতনতা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। রাবিপ্রবির যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধকল্পে অভিযোগ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী।

অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাবিপ্রবির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ও এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল সায়েন্সস অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জুনাইদ কবির এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট নীলশ্রী চাকমা।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা জজ কোর্টের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট মাকসুদা হক। মূল প্রবন্ধে অ্যাডভোকেট মাকসুদা হক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান তুলে ধরেন। যৌন নিপীড়নের আচরণগত ও ভাষিক বিভিন্ন রূপের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীল মন্তব্য, হয়রানি ও সাইবার অপরাধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, হয়রানির শিকার হলে ঘটনার তথ্য, ছবি, ভিডিও, মেসেজ বা অন্যান্য ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করা জরুরি। প্রতিকারের জন্য প্রথমে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ কমিটিকে অবহিত করা, প্রয়োজনে জিডি ও থানায় মামলা এবং পরবর্তী সময়ে সাইবার ট্রাইব্যুনালে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাৎক্ষণিক সহযোগিতার জন্য ৯৯৯-এ যোগাযোগের পরামর্শও দেন তিনি।

অ্যাডভোকেট মাকসুদা হক বলেন, যৌন নিপীড়নের শিকার হলেও সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক ভয়ের কারণে অনেকে বিষয়টি প্রকাশ করেন না। এতে তারা হতাশা ও মানসিক সংকটে ভোগেন। তাই ভুক্তভোগীকে কাউন্সেলিংয়ের আওতায় এনে মানসিকভাবে শক্তিশালী করার পাশাপাশি আইনি প্রতিকারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এ ধরনের সামাজিক প্রবণতা দূর করা সম্ভব নয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণের পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগকারীর জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দিতে হবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও সহনশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে যৌন হয়রানির অভিযোগের ক্ষেত্রে **জিরো টলারেন্স নীতি** অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, যৌন হয়রানির অভিযোগ দ্রুততম সময়ের মধ্যে নীতিমালা অনুযায়ী সুষ্ঠুভাবে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাবিপ্রবিতে এ বিষয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক সেমিনার, প্রশিক্ষণ, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা, অভিযোগ প্রতিকার ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। প্রফেসর মাছুমা হাবিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের জায়গা নয়, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলারও প্রতিষ্ঠান। প্রযুক্তিকে মানবকল্যাণে ব্যবহার করতে হবে। সাইবার বুলিং ও যৌন হয়রানির ক্ষতিকর সামাজিক ও মানসিক প্রভাব সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে হবে।

তিনি ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিযোগ কমিটিতে আসা অভিযোগগুলো নীতিমালা অনুযায়ী দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি ক্যাম্পাসে এ বিষয়ে প্রচার বাড়ানোর আহ্বান জানান। এ ক্ষেত্রে ইউজিসির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। বিশেষ অতিথি অ্যাডভোকেট নীলশ্রী চাকমা তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, বর্তমান সময়ে যৌন হয়রানির ধরন বহুমাত্রিক হয়েছে। সচেতনতামূলক এ ধরনের সেমিনার শিক্ষার্থীদের মানসিক শক্তি বাড়াবে এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহসী করবে।

তিনি যৌন হয়রানির ঘটনা গোপন না রেখে আইনি প্রতিকারের আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষা, নৈতিকতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ জুনাইদ কবির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়ন যাতে না ঘটে সে বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবাইকে সচেতন হতে হবে। এ ধরনের আলোচনা পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, কোনো শিক্ষার্থী যৌন হয়রানির শিকার হলে দ্রুত শিক্ষক ও অভিযোগ কমিটিকে অবহিত করতে হবে। অভিযোগ পেলে দ্রুত ও আন্তরিকভাবে প্রতিকারের চেষ্টা করা হবে। রাবিপ্রবিও ইউজিসি ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো যৌন হয়রানির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। 

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে সমাজ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে পারে। সভাপতির বক্তব্যে রাবিপ্রবি ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী বলেন, সেমিনারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, অভিযোগ ও প্রতিকারের আইনি প্রক্রিয়া এবং শাস্তির বিধান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও ক্যাম্পাসে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ এবং প্রশিক্ষণের আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, সামাজিক সচেতনতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাবিপ্রবিকে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও মানবিক ক্যাম্পাসে পরিণত করা সম্ভব।

সেমিনারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন রাবিপ্রবির যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধকল্পে অভিযোগ কমিটির সভাপতি ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নেইংম্রাচিং চৌধুরী ননী। তিনি কমিটির বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। ভবিষ্যতে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়েও আরও সেমিনার আয়োজন করা হবে।

সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ঋষিতা চাকমা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, প্রক্টর, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:৫০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit