বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
আওয়ামী লীগের সঙ্গে একটি গুপ্ত দলের সম্পর্ক প্রমাণিত: রিজভী ফ্রান্সের দাঙ্গা ও ভারতের আন্দোলনের যোগসূত্র কোথায়, অনুসন্ধানে যা উঠে এসেছে প্যারিসে লুণ্ঠন, মুহূর্তেই শেষ বাংলাদেশি হাসানের ১০ বছরের শ্রম-সঞ্চয় রিয়াদে ম্যাক্রোঁর আকস্মিক ‘সংহতি’ সফর ফ্রান্সে ক্ষোভের আগুন, বিক্ষোভের নতুন বার্তা নিয়ে ইউরোপের ১০১ সংগঠন ত্রিপক্ষীয় সম্মেলনে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন পুতিন, জিনপিং ও ট্রাম্প: ক্রেমলিন ট্রাম্প-জেলেনস্কির পারস্পরিক অবিশ্বাস: যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন সম্পর্কে চরম অবনতি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: এনবিসি ফ্রান্সে ফের বিক্ষোভের ডাক, সহিংসতা কঠোর হাতে দমনের ঘোষণা ম্যাক্রোঁর ইরান যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র, তবে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান চান ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে চীনের নস্ত্রাদামুসের চাঞ্চল্যকর ভবিষ্যদ্বাণী

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪২ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাগ্রহণ এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধ নিয়ে করা তার আগের ভবিষ্যদ্বাণীগুলো অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাওয়ার পর, চীনা-কানাডিয়ান অধ্যাপক জিয়াং শুয়েকিন এখন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচিত এক নাম। 

এবার যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে সম্প্রতি একেবারে নতুন এবং চাঞ্চল্যকর কিছু ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন এই অধ্যাপক। এ বছরের ২৩ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিনে অনুষ্ঠিত এক মিটআপে এই ‘চীনা নস্ত্রাদামুস’ বলেন যে, ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে পারেন, একসময় দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারে এবং অস্টিন শহরটি আমেরিকার ক্ষমতার মূল কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। 

তার এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলো একদিকে যেমন রিপাবলিকানদের মুখে হাসি ফোটাবে, অন্যদিকে বৈশ্বিক রাজনীতিতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। ‘আমেরিকান প্রফেসি’ বা আমেরিকান ভবিষ্যদ্বাণী শীর্ষক তার সর্বশেষ বক্তৃতায় জিয়াং স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন পূর্বাভাস তুলে ধরেন। তার প্রথম এবং অন্যতম প্রধান ভবিষ্যদ্বাণী ছিল ট্রাম্পের তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা। দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় ট্রাম্প তার তৃতীয় মেয়াদ নিশ্চিত করবেন।’ 

চলতি বছর ৮০ বছর বয়সি ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। এনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, এটি করার বিভিন্ন উপায় বা পদ্ধতি রয়েছে। এমনকি ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের ব্যানারে বর্তমানে ‘ট্রাম্প ২০২৮’ লেখা লাল রঙের ক্যাপ বিক্রি করা হচ্ছে, যা মূলত আসন্ন নির্বাচনে তাকে প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী কেউ পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রেসিডেন্ট পদে থাকতে পারেন না। সংবিধানের ২২তম সংশোধনীতে পরিষ্কার বলা আছে যে, কোনো ব্যক্তি দুবারের বেশি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হতে পারবেন না। এই সংবিধানে পরিবর্তন আনতে হলে মার্কিন সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ এবং তিন-চতুর্থাংশ রাজ্য সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। 

যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধ এবং ‘বলকানাইজেশন’

ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আরও গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করে জিয়াং বলেন, আমেরিকা একপর্যায়ে গৃহযুদ্ধ এবং দেশের ‘বলকানাইজেশনের’ (টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়ার) মুখোমুখি হতে পারে। এমনকি দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘খ্রিস্টান এআই থিওক্রেসি’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা পরিচালিত ধর্মীয় রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আগামী ৩০ বছরের জন্য তার এই হিসাব-নিকাশ বলে জানান এই অধ্যাপক। 

অস্টিন হবে আমেরিকার নতুন কেন্দ্রবিন্দু

আমেরিকার অভ্যন্তরে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক পরিবর্তনের কথাও বলেছেন জিয়াং। তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, উপকূলীয় শহরগুলোর পরিবর্তে মার্কিন প্রভাব ধীরে ধীরে দেশের মূল ভূখণ্ডের ভেতরের দিকে সরে যাবে। বিশেষ করে টেক্সাসের অস্টিন শহরটি ভবিষ্যতে আমেরিকার সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্রভাবের প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে তিনি মনে করেন। 

তার মতে, নিউইয়র্ক বা লস অ্যাঞ্জেলেস তাদের বর্তমান গুরুত্ব কিছুটা হারাতে পারে এবং অস্টিন রাজনৈতিক রাজধানী না হলেও দেশের এক নতুন সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। 

কেন ট্রাম্প তৃতীয় মেয়াদে আসতে পারেন?

ট্রাম্পের তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পক্ষে বেশ কিছু যুক্তি দিয়েছেন জিয়াং। তার মতে, ট্রাম্প ২০২৮ সালের পরও ক্ষমতা ধরে রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং তিনি এতে সফলও হবেন। মার্কিন সাম্রাজ্যের স্বার্থ রক্ষার্থে ট্রাম্পের মতো নেতার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তার ধারণা, ট্রাম্প আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমেরিকার ক্ষমতা ব্যবহারে পূর্বসূরিদের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রাসী ও বদ্ধপরিকর। বক্তৃতার অন্য একটি অংশে বৈশ্বিক বাণিজ্য পথ ও সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কথা বলেন জিয়াং। 

তার মতে, আন্তর্জাতিক প্রভাব ধরে রাখতে আমেরিকা বিশ্বের প্রধান প্রধান সামুদ্রিক জলপথ বা চোকপয়েন্টগুলো নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করবে। যুদ্ধের কারণে বিশ্ব বিপর্যস্ত হলে ভবিষ্যতের তেল বা জ্বালানির একমাত্র নিরাপদ উৎস হিসেবে পশ্চিম গোলার্ধকে বেছে নিতে পারে ওয়াশিংটন। চীনের এই দূরদর্শী শিক্ষাবিদের ভবিষ্যদ্বাণীগুলো মার্কিন রাজনীতি এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার গতিপ্রকৃতি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। 

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:২৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit