আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকার আশুলিয়ায় একটি অটোরিকশা গ্যারেজে নিরাপত্তা প্রহরীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে প্রায় ১৪ লাখ টাকা মূল্যের ব্যাটারি, চার্জার ও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গ্যারেজ মালিক মো. মোস্তফা মোল্লা আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে আশুলিয়ার ইয়ারপুর কবরস্থান রোড সংলগ্ন ‘মোস্তফা অটোরিকশা’ গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে। তবে ডাকাতি কিনা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে বলে জানান পুলিশ। নিরাপত্তা প্রহরী রিফাতের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতে প্রতিদিনের মতো গ্যারেজের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আড়াইটার দিকে ৭ থেকে ৮ জনের একটি দল গ্যারেজের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
পরে তারা চাপাতি ও চাকু দেখিয়ে তাকে জিম্মি করে হাত-পা দড়ি দিয়ে বেঁধে এবং মুখ কাপড় দিয়ে আটকে রাখে। অভিযোগ অনুযায়ী, পরে ডাকাতরা গ্যারেজে থাকা ৭৫টি ব্যাটারি, ২০টি চার্জার এবং নিরাপত্তা প্রহরীর ব্যবহৃত একটি রেডমি স্মার্টফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। রাত ৪টার দিকে নিরাপত্তা প্রহরী রিফাত নিজেই বাঁধন খুলে পাশের একটি বাড়িতে গিয়ে গ্যারেজ মালিক মো. মোস্তফা মোল্লাকে বিষয়টি জানান। পরে মালিক ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্যারেজের মালামাল না থাকার বিষয়টি দেখতে পান।
গ্যারেজ মালিক মো. মোস্তফা মোল্লা বলেন, ‘আমি ও আমার প্রতিবন্ধী বড় ভাই এই অটোরিকশা গ্যারেজের ব্যবসা করে কোনোমতে সংসার চালাই। গ্যারেজ থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যাওয়ায় আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। প্রশাসনের কাছে আমার মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, খবর পেয়ে তারা গ্যারেজে গিয়ে ব্যাটারি ও চার্জার দেখতে পাননি। তবে নিরাপত্তা প্রহরী দুই হাত ও দুই পা বাঁধা অবস্থায় ছিলেন বলে তারা জানতে পারেন। তাদের প্রশ্ন, দুই হাত ও দুই পা বাঁধা থাকলে নিরাপত্তা প্রহরী কীভাবে নিজেই বাঁধন খুললেন বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং খোয়া যাওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানান। এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল ও গ্যারেজ পরিদর্শন করেছে। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে এ ঘটনায় দস্যুতার মামলা রুজু করা হবে।