শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম

ধনী হওয়ার উপায় জানানো লেখকের নিজেরই ঋণ ১.২ বিলিয়ন ডলার

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২২ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বখ্যাত আর্থিক শিক্ষা-বিষয়ক বই ‘রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড’-এর লেখক রবার্ট কিওসাকি (৭৯) প্রায় ১২০ কোটি মার্কিন ডলার বা ১.২ বিলিয়ন ডলার ঋণের সঙ্গে যুক্ত। তার বিস্তৃত রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগের বিপরীতে নেওয়া এই বিপুল ঋণকে তিনি ব্যর্থতা হিসেবে দেখেন না। বরং আয়বর্ধক সম্পদ গড়ে তুলতে ঋণকে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের কৌশল হিসেবে তুলে ধরেন।

সম্প্রতি ‘গেট রিচ এডুকেশন’ পডকাস্টে নিজের ঋণের কথা উল্লেখ করে কিওসাকি বলেন, আমি প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলারের ঋণে আছি।’ তবে প্রয়োজনীয় আর্থিক শিক্ষা ছাড়া সাধারণ মানুষকে অন্ধভাবে তার পথ অনুসরণ না করার পরামর্শ দেন তিনি। কিওসাকি বলেন, ‘১৯৭৪ সাল থেকে আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত পড়াশোনা করেছি। ঋণকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইলে আগে এ সম্পর্কে সঠিক শিক্ষা নেওয়া জরুরি।’
সাময়িকী ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিওসাকির সাবেক স্ত্রী ও ব্যবসায়িক অংশীদার কিম কিওসাকি বলেন, এই ১.২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে। পুরো অর্থ কিওসাকির ব্যক্তিগত দায় নয়; বরং অংশীদারদের সঙ্গে যৌথ মালিকানায় থাকা প্রায় এক হাজার ৫০০টি অ্যাপার্টমেন্ট ও আবাসন প্রকল্পের বিপরীতে নেওয়া ঋণ এটি।
কিমের ভাষ্য, মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে কিওসাকি প্রায়ই ঋণের এই বড় অঙ্কটি সামনে আনেন। এরপর তিনি ব্যাখ্যা করেন, বিনিয়োগের বিপরীতে নেওয়া ঋণ কেন লাভজনক হতে পারে। ‘ভ্যানিটি ফেয়ার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঋণ কিওসাকির বিশেষ বিনিয়োগ কৌশলের অংশ। তার কেনা রিয়েল এস্টেটের মূল্য বাড়লে সেই বর্ধিত ইক্যুইটির বিপরীতে ব্যাংক থেকে নতুন করে ঋণ নেন তিনি। এরপর ওই অর্থ পরবর্তী বিনিয়োগে ব্যবহার করেন।
সম্ভাব্য আর্থিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি কমাতে প্রতিটি বিনিয়োগ আলাদা লিমিটেড লায়াবিলিটি কোম্পানির (এলএলসি) অধীনে রাখেন কিওসাকি। এতে একটি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অন্যগুলো সুরক্ষিত থাকে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি খারাপ হলে আমার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলা যাবে। ধনীরা ফায়ারওয়াল বা সুরক্ষাব্যবস্থা তৈরি করে এভাবেই ব্যবসা পরিচালনা করে।’সাময়িকীটির হিসাব অনুযায়ী, বছরে প্রায় ৩০ লাখ ডলার আয় করা কিওসাকির ব্যক্তিগত অংশের ঋণ আনুমানিক তিন কোটি থেকে ছয় কোটি ডলারের মধ্যে হতে পারে।
কিওসাকির এই কৌশল নিয়ে আবাসন ও আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ট্যাক্স ম্যাভেরিক এআই’-এর প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড এ. পেরেজ বলেন, রিয়েল এস্টেট সম্পদের বিপরীতে বড় অঙ্কের ঋণ থাকা অস্বাভাবিক নয়। কর সাশ্রয়ের ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর হতে পারে। তবে এতে বন্ধকের কিস্তি ও সুদের বোঝা বাড়ে এবং নগদ প্রবাহ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
অন্যদিকে সতর্ক করেছেন আর্থিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘জেপিটিডি পার্টনার্স-এর প্রতিষ্ঠাতা জন পুল। তার মতে, ঋণ যেমন সুফল দিতে পারে, তেমনি বড় বিপদের কারণও হতে পারে। বিশেষ করে ১.২ বিলিয়ন ডলারের মতো ঋণ ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত দক্ষ ও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
জন পুল বলেন, সম্পদের মূল্য বাড়তে থাকলে ঋণ চমৎকার ফল দেয়। কিন্তু বাজার বিপরীত দিকে ঘুরলে এটি মারাত্মক আর্থিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। কিওসাকি একে ধনীদের ঋণ বলতে পারেন, তবে সাধারণ বিনিয়োগকারী সতর্ক না থাকলে খুব দ্রুত দেউলিয়া হয়ে যেতে পারেন।’
রবার্ট কিওসাকি ১৯৯৭ সালে নিজ উদ্যোগে ‘রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড’ প্রকাশ করেন। বইটি পরে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং চার কোটি ৪০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়। এতে তিনি তার জন্মদাতা বাবা ও শিক্ষাবিদ রালফ কিওসাকির প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে বন্ধুর বাবা ও হোটেল ব্যবসায়ী রিচার্ড কিমির সম্পদ গড়ার বাস্তবমুখী কৌশলের তুলনা তুলে ধরেন।
আর্থিক শিক্ষাকে কেন্দ্র করে সফল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তোলা কিওসাকি ২০০৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যৌথভাবে ‘হোয়াই উই ওয়ান্ট ইউ টু বি রিচ’ বইটিও লেখেন।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/রাত ৮:১৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit