আন্তর্জাতিক ডেস্ক : টানা তৃতীয় বছরের মতো মানবিক সহায়তাকর্মীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী স্থান হিসেবে রয়ে গেছে গাজা। ২০২৫ সালে সেখানে ১৮৬ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক দফতর (ওসিএইচএ)।
বিশ্ব মানবিক দিবস উপলক্ষে বুধবার (১৯ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃতিতে ওসিএইচএ জানায়, ২০২৫ সালে ত্রাণকর্মী নিহতের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সুদান। দেশটিতে ওই বছর ৭১ জন মানবিক সহায়তাকর্মী নিহত হন।
মানবিক সহায়তাকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থা হিউম্যানিটারিয়ান আউটকামসের এইড ওয়ার্কার সিকিউরিটি ডেটাবেসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে মোট ৯০৭ জন মানবিক সহায়তাকর্মী নিহত, আহত কিংবা অপহৃত হয়েছেন। এটি ত্রাণকর্মীদের ওপর সহিংসতার নতুন রেকর্ড।
ওসিএইচএ জানায়, গত বছর বিশ্বজুড়ে ৩৫০ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। এ সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য কম হলেও মানবিক সহায়তাকর্মীদের ওপর সহিংসতার সামগ্রিক মাত্রা কমার কোনো লক্ষণ নেই। এ ছাড়া ৩২২ জন আহত এবং ২৩৫ জন অপহৃত হয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও জরুরি ত্রাণ সমন্বয়কারী টম ফ্লেচার বলেন, ‘মাত্র তিন বছরে এক হাজারের বেশি ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’
তিনি বলেন, শুধু বিষয়টি তুলে ধরলে পরবর্তী ত্রাণকর্মীকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে না। রাষ্ট্রগুলোকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলতে হবে এবং বেসামরিক নাগরিক ও মানবিক সহায়তাকর্মীদের সুরক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা এসব আইন লঙ্ঘন করবে, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক দফতর আরও জানিয়েছে, ২০২৬ সালেও ত্রাণকর্মীদের ওপর সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। এ বছর এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে অন্তত ৮২ জন ত্রাণকর্মী নিহত, ৯৭ জন আহত এবং ৩৯ জন অপহৃত হয়েছেন।
ড্রোনে বাড়ছে ঝুঁকি
কম খরচে তৈরি করা যায় এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য সশস্ত্র ড্রোনের বিস্তার বেসামরিক নাগরিক ও মানবিক সহায়তাকর্মীদের জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চলে এ ঝুঁকি বেশি।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে সুদানে বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর ৮০ শতাংশই ঘটেছে সশস্ত্র ড্রোন হামলায়। এসব হামলায় বাজার ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
ইউক্রেনে শুধু এপ্রিল মাসেই ড্রোন হামলায় ৮০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। রাশিয়াতেও ড্রোন হামলায় বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, কলম্বিয়ায় অস্ত্রবাহী ড্রোনের হামলা ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে চার গুণ বেড়েছে।
ত্রাণকর্মীরাও এসব হামলার শিকার হচ্ছেন। মার্চে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলায় একজন মানবিক সহায়তাকর্মী নিহত হন। মে মাসে মাত্র এক সপ্তাহে ইউক্রেনে চারটি মানবিক সহায়তাবাহী বহরে হামলা চালানো হয়।
টম ফ্লেচার বলেন, অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত ড্রোন পুরোনো এক বিপদের নতুন রূপ হয়ে উঠেছে—বেসামরিক জীবনকে ইচ্ছাকৃত বা বেপরোয়াভাবে ধ্বংস করা। প্রযুক্তি পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু যুদ্ধের আইন পরিবর্তন হয় না। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
কিউএনবি/অনিমা/১৯ অগাস্ট ২০২৬,/রাত ৯:৫২