জসীম উদ্দিন জয়নাল,পার্বত্যাঞ্চল প্রতিনিধি : খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা পৌর এলাকায় সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত, দিনমজুর এবং কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পরিস্থিতি মোকাবিলা ও মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে এসব পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যােগে মাটিরাঙা পৌরসভা প্রাঙ্গণে এই মানবিক সহায়তা তুলেদেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উম্মে তাহমিনা মিতু। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, টানা ভারী বর্ষণে মাটিরাঙা পৌরসভার বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে জলজটের সৃষ্টি হয়। এতে দৈনন্দিন খেটে খাওয়া ও শ্রমজীবী মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে দৈনন্দিন উপার্জন হারিয়ে মারাত্মক কষ্টে দিনাতিপাত করছিলেন। এসব দুর্গত ও অসহায় মানুষের কষ্ট লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য সহায়তার উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন।
মাটিরাঙা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উম্মে তাহমিনা মিতুর সার্বিক সহযোগিতায় পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বন্যাকবলিত ও ক্ষতিগ্রস্ত ৭০টি পরিবারের মাঝে পরিবারপ্রতি ২০ কেজি করে চাল তুলে দেওয়া হয়। ত্রাণ বিতরণকালে মাটিরাঙা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. ইশতিয়াক আহম্মেদ, তদারকি কর্মকর্তা অরুণ কান্তি পাল, মাটিরাঙা পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজালাল কাজল,পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক ইব্রাহিম পাটোয়ারী,সহ অন্যান্য উপকারভোগী ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে মাটিরাঙা পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজালাল কাজল বলেন, “দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারও যেন খাদ্যকষ্টে না ভোগে, সে বিষয়ে প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল অত্যন্ত সচেষ্ট রয়েছে। প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত ও কর্মহীন পরিবারের কাছে জরুরি খাদ্য সহায়তা পৌঁছাতে আমরা সরেজমিনে সকল ওয়ার্ডে গিয়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করেছি। মানবিক সহায়তার এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে
মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে তাহমিনা মিতু, বলেন, “টানা বর্ষণে কর্মহীন হয়ে পড়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোনো পরিবারই যাতে খাদ্যাভাব কিংবা কষ্টে না থাকে, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন সর্বদা সতর্ক রয়েছে। সরকারের এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারই সহায়তার আওতা থেকে বাদ যাবে না।”এছাড়া দুর্যোগকালীন সময়ে যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। উপজেলা প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো।
কিউএনবি/আয়শা/২১ জুলাই ২০২৬,/রাত ৮:১২