মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন

ফুলবাড়ীতে ১৫ কোটি টাকার হাঁড়িভাঙা আম বেচাকেনার সম্ভাবনা॥

মোঃ আফজাল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি ।
  • Update Time : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
  • ৬৩ Time View

মোঃ আফজাল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর জনপ্রিয় আম হাঁড়িভাঙা। এ আমের চাষ ও জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। এ আম বদলে দিয়েছে আশপাশের মানুষের ভাগ্য। ফুলবাড়ীতে ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে হাঁড়িভাঙা আম। এবার হাঁড়িভাঙার ফলন ভালো।

উপজেলা কৃষি বিভাগ ১৫ জুন থেকে পরিপক্ব হাঁড়িভাঙা আম বাজারজাত শুরু করেছেন আমবাগানের মালিক ও ব্যবসায়ীরা। আমচাষিরা গাছ থেকে আম সংগ্রহ করে বিভিন্ন আড়তসহ হাটবাজারে বিক্রি করছেন। গত শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে উপজেলার শিবনগর যাওয়ার পথে চোখে পড়ে রাস্তার দুই ধারে সারি সারি হাঁড়িভাঙা আমের বাগান। গাছে থোকায় থোকায় আম আম পাড়া শুরু করেছেন গত দশদিন আগ থেকে।

তারা বলেছেন, অতিরিক্ত গরমে এ বছর নির্ধারিত সময়ের আগেই আম পাকা শুরু হয়েছে। কৃষি বিভাগ ও চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাঁড়িভাঙা আম জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত পাওয়া যায়। পাকা আম মাঝারি মাত্রার সুগন্ধ ছড়ায়। বর্তমানে ফুলবাড়ী উপজেলা ছাড়াও জেলার বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট, পার্বতীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁড়িভাঙা আম চাষের বিস্তার ঘটছে।

শিবনগর গ্রামের কৃষক মেহেদী হাসান বলেন, আগে তিনি দুই একর জমিতে ধান ও আলুর চাষ করতেন। আট বছর আগে সেই জমিতে হাঁড়িভাঙা আমের বাগান করেছেন। জমির ফসল বিক্রি করে আগে বছরে তার লাভ হতো ৯৫ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। গত বছর তিনি বাগানের আম বিক্রি করে পেয়েছিলেন সাড়ে তিন লাখ টাকা। এবার তিনি আরও বেশি লাভের আশা করছেন।

এক একর জমিতে আমের বাগান করেছেন বুজরুক সমশেরনগর গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন। গত তিন বছরে আম বিক্রি করে গড়ে তিনি আয় করেন দেড় লাখ টাকার বেশি। তিনি বলেন, ধান চাষ আর আম চাষে লাভের পার্থক্য হচ্ছে আকাশ-পাতাল। উপজেলার আলাদিপুর ইউনিয়নের রাঙামাটি এলাকার রহমত আলী বলেন, গত চার বছর আগে তিন একর জমিতে হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাগান করেন।

গত বছর থেকে বানিজ্যিকভাবে আম বিক্রি করতে পারছেন। ফলন ও দাম দুই-ই ভালো পাচ্ছেন। গত বছর তিনি দেড় লাখ টাকার আম বিক্রি করেছেন। এ বছর ফলন ও দাম দুই-ই ভালো হওয়ায় এবার লাভের পরিমাণ বাড়বে বলে আশা করছেন।
উপজেলার বেজাই মোড়, বারাইহাট, ফুলবাড়ীসহ পার্শ্ববর্তী কালীহাটে সবচেয়ে বড় আমের বাজার। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা আম কিনতে এইসব বাজারে আসেন। মৌসুমের শুরুতে প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ২৫ ট্রাক আম দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যান বেপারীরা।

স্থানীয় আম ব্যবসায়ী জিয়াউল ইসলাম ও বাবু মিয়া বলেন, দিন যাচ্ছে, বাজারে হাঁড়িভাঙা আমের চাহিদাও বাড়ছে। আম ঘিরে ছোট-বড় অনেক ব্যবসার প্রসার ঘটেছে। কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে হাজারো মানুষের। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষি সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, উপজেলা প্রতিবছর হাঁড়িভাঙা আমের চাষ বাড়ছে। লাভ বেশি হওয়ায় লোকজন ধানি জমিতে আমের বাগান করছেন। ৪৬০ হেক্টর জমিতে ৩ লাখ ৫৪ হাজার হাঁড়িভাঙাসহ বিভিন্ন প্রজাতির আমের গাছ আছে।

গত বছর ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার আম বিক্রি হয়েছে। এ বছর ১৪ থেকে ১৫ কোটি টাকার বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সব মাটিতে এ আমের চাষ করা যায়। তবে এঁটেল ও দো-আঁশ মাটি এই আম চাষের জন্য বেশি উপযোগী। এক একর জমিতে বছরে সব মিলিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা পাওয়া যায়। মাঝারি প্রতিটি গাছে সার ও কীটনাশক বাবদ বছরে খরচ হয় ৫০০-৬০০ টাকা। পাঁচ বছর বয়সী প্রতিটি গাছের আম বিক্রি করে গড়ে চার হাজার টাকা পাওয়া যায়।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২০ জুলাই ২০২৬,/রাত ৯:০৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit