বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
টি-টোয়েন্টিতে যে রেকর্ড প্রথমবার দেখল বিশ্ব ফুলবাড়ীতে জুলাই শহীদ দিবস পালনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত॥ ফুলবাড়ীতে ১ লক্ষ টাকার কারেন্টজাল ধ্বংস। প্রতিবন্ধী শিশু ও পরিবারের মাঝে গাছের চারা বিতরণ। অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ধস এবং বন্যা পরবর্তী করণীয় বিষয়ে জেলা তথ্য অফিসের সচেতনতামূলক প্রচার  মাটিরাঙ্গায় কাজ শেষ হতে না হতেই ভেঙে পড়েছে কোটি টাকার  প্রকল্প।ডিজাইন ত্রুটির কথা স্বীকার এলজিইডির। রাজধানীতে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আভাস দীর্ঘদিন ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত সাবেক সেনা কর্মকর্তা হরমুজের পর লোহিত সাগরও বন্ধের হুমকি ইরানের, নতুন জ্বালানি সংকটের শঙ্কা হাসনাত–সারজিসের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কথা জানালেন আব্দুল কাদের

হাসনাত–সারজিসের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কথা জানালেন আব্দুল কাদের

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • ১৮ Time View

ডেস্ক নিউজ : জুলাই গণ-আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় যখন আন্দোলনের সমন্বয় কঠিন হয়ে পড়েছিল, তখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে ৯ দফা দাবি ঘোষণা করে আলোচনায় আসেন অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের এই শিক্ষার্থীর ঘোষণাটি আন্দোলনে নতুন গতি এনে দেয়, যা পরবর্তীতে গণ-অভ্যুত্থানের রূপ নেয়। আন্দোলনের নানা সিদ্ধান্ত, অভ্যন্তরীণ আলোচনা এবং পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এবার হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের সঙ্গে নিজের মতপার্থক্য ও দ্বন্দ্বের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন আব্দুল কাদের।

৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে এক দফার ঘোষণা দেওয়ার সিদ্ধান্ত কীভাবে এসেছিল- এমন প্রশ্নের জবাবে গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে আব্দুল কাদের বলেন, ১ আগস্ট ছয় সমন্বয়ক ডিবি কার্যালয় থেকে মুক্ত হওয়ার পর সেদিন দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে আসিফ ভাই আমাকে ফোন করে বললেন, ‘তুই সাবধানে থাকিস, তোকে পেলে মেরে ফেলবে।’ এবং ১টা ১৩ মিনিটে তিনি আমাকে মেসেজ দিয়ে বলেন, ‘আমরা সিনিয়ররা বের হয়েছি; আমাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া কর্মসূচি দিও না।’ 

তারা কিছুদিন ডিবি কার্যালয়ে ছিলেন, বাইরের অবস্থা সম্পর্কে সেভাবে জানেন না, তাই আমি সাংবাদিকদের একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ২ আগস্ট দোয়া–মোনাজাত, প্রার্থনা ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করি। আসিফ ভাই সঙ্গে সঙ্গেই আপত্তি জানান। বড় আপত্তি আসে সন্ধ্যা নাগাদ। সন্ধ্যার পর থেকে অনেক সাংবাদিক আমাকে ফোন করে বলছিলেন, সারজিস আলম হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে আমার কর্মসূচিটি ডিলিট করে দিয়ে লিখেছেন, ‘এটা কাদেরের ব্যক্তিগত কর্মসূচি; কাদের উচ্চপর্যায়ের কোনো সমন্বয়ক নন; আমরা আলাপ–আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাব।’ পরে দেখতে পাই, সেই গ্রুপ থেকে আমাকে বের করে দিয়েছেন সারজিস। আমি ওই গ্রুপে আর কোনো বার্তা দিতে পারছিলাম না।

সে সময় নাহিদ ভাই আর আসিফ ভাইকে ফোনে পাচ্ছিলাম না। পরে সেই গ্রুপের অ্যাডমিন সমন্বয়ক আবদুল্লাহ সালেহীন অয়নকে দিয়ে সারজিসের মেসেজটা ডিলিট করাই। অয়ন আমাকে আবার গ্রুপে যুক্ত করে। সারজিসের ডিলিট করা কর্মসূচির বার্তা আমি আবার গ্রুপে দিলাম। সারজিসকেও গ্রুপ থেকে রিমুভ করে দিলাম। আসিফ ভাই আমাকে বললেন, ‘তোমাকে তো নিষেধ করছিলাম, কর্মসূচি দেওয়ার আগে আলোচনা করা উচিত ছিল।’ আমি বললাম, ভাই, আমি তো ভুল কিছু করিনি। ওই সময় নাহিদ ভাই ও আসিফ ভাইয়ের সঙ্গে হাসনাত ভাই ও সারজিস ভাই খুবই ঝামেলা করছিলেন। 

হাসনাত–সারজিস বলছিলেন, ‘তোমরা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছ, বিএনপি–জামায়াতের পায়ে আন্দোলন করছ, কাদেরকে থামাও।’ একপর্যায়ে আমি সাদিক ভাইকে (ডাকসুর বর্তমান ভিপি সাদিক কায়েম) ফোন করে বললাম, সারজিস তো এমন করছেন, তাদের থামান। সাদিক ভাই কী করেছিলেন জানি না, একপর্যায়ে সারজিস চুপ হয়ে যান। সে রাতে সিদ্ধান্ত হলো, যে ঝামেলা হয়েছে, তা নিয়ে ২ আগস্ট জুমার নামাজের পর বৈঠকে বসব। হাসনাত–সারজিসকে কোনোভাবেই বোঝানো যাচ্ছিল না। তারা আর আন্দোলন করতে চাইছিলেন না। তাদের সঙ্গে হাসিব আল ইসলামও ছিলেন। 

জুমার পর অনলাইনে আমাদের বৈঠক হয়। সেখানে তৎকালীন ছাত্রশক্তির নেতা–কর্মীরা ছিলেন। ওই বৈঠকে হাসিব বলেন, তিনি আন্দোলন চালিয়ে যেতে চান না। তার ঝুঁকি লাগছে। মানুষ মারা যাচ্ছে, এ দায় আমাদের। একপর্যায়ে আমি উত্তেজিত হয়ে বললাম, আন্দোলন কে করল না–করল, সেটা ব্যাপার নয়; কেউ যেন স্যাবোটাজ না করে। এ কথা বলার কারণ, সে সময় কর্মসূচি ঘোষণার কারণে হাসিব আমাদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে কয়েকটা পোস্ট দিয়েছিল। এরপর আসিফ ভাই অসহযোগ আন্দোলনের কথা বললেন। আমি এক দফা নিয়ে ভাবার কথা বললাম। কারণ, পরিস্থিতি নাজুক, আন্দোলন আমাদের হাত থেকে ফসকে যাচ্ছে।

২ আগস্ট আমাদের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে আন্দরকিল্লায় বিশাল মিছিল হয়। তবে ঢাকায় কর্মসূচি হয় ছোট পরিসরে। কারণ, ঢাকার কোন অংশে কে থাকবে, সেটা সমন্বয় করা যায়নি। এর আগে কর্মসূচিগুলোয় এলাকা ভাগ করে দেওয়া হতো; এই অংশে ছাত্রদল থাকবে, ওই অংশে শিবির। ২২–২৩ জুলাই থেকে প্রতিদিনই এ সমন্বয় করা হয়েছে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৬ জুলাই ২০২৬,/রাত ৯:০৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit