মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বাতিল হবে না সিন্ধু চুক্তি: আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে পাকিস্তানের স্বস্তি বিশ্বনাথ পৌর শহরে দলছুট বানরের উৎপাত! আন্তর্জাতিক ফুটবলের কিংবদন্তি মেসির বিদায়! কৈলাস ভ্রমণ শেষে নেপাল সীমান্তে নিখোঁজ মার্কিন নারী ‘ধন্যবাদ অধিনায়ক’, মেসির বিদায়ে আবেগে ভাসলেন দি মারিয়া নিখুঁত নিশানার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়ংকর মারণাস্ত্র পাহাড় ধসের শঙ্কায় নেপাল সীমান্ত বন্ধ করল চীন হিমালয় ঘিরে মেগা প্রকল্পের দ্বৈরথ, বিপর্যয় আরও বাড়াচ্ছে? বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে ইসলামী ব্যাংকের ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন চুক্তি ‘না ছড়িয়ে রিপোর্ট করুন’, নিজের আপত্তিকর এআই ভিডিও নিয়ে চটলেন অভিনেত্রী

বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • ৪১ Time View

ডেস্কনিউজঃ অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে দেশের সাত জেলায় অন্তত ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো ৪০ জন।

বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১২ লাখ ১৬ হাজার ৮০৫ জনে পৌঁছেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৫২ হাজার ৪৯৩টি পরিবার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলায়। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল ৩টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বন্যাকবলিত জেলাগুলো হলো খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এসব জেলার ৫৭টি উপজেলা এবং ৮টি পৌরসভা বন্যা ও অতিবৃষ্টির প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মাহবুবুর রহমান তুহিন জানান, মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে। জেলাটিতে ৩২ জন মারা গেছেন।

নিহতদের মধ্যে ১৯ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। চট্টগ্রামে ১৫ জন, বান্দরবানে সাতজন, রাঙামাটিতে তিনজন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

আহত ৪০ জনের মধ্যে কক্সবাজারে ২৫ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে দুজন এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন। কক্সবাজারে এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সাত জেলায় মোট ৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৮৪৯ জন। চট্টগ্রামে ১১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৯৫ জন, বান্দরবানে ৬৭টি কেন্দ্রে ১৫০ জন, মৌলভীবাজারে ছয়টি কেন্দ্রে ২৪৯ জন এবং রাঙামাটির একটি কেন্দ্রে ৫৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন। তবে খাগড়াছড়িতে কোনো আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ অবস্থান করছেন না বলে সরকারি হিসাবে দেখানো হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে।

কক্সবাজারের ১০টি উপজেলার ৭১টি ইউনিয়ন এবং চারটি পৌরসভা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। জেলাটিতে ৩২ জনের মৃত্যু ও ২৫ জন আহত হওয়ার পাশাপাশি একজন নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গতদের জন্য ৪০ লাখ টাকা, ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, ১ হাজার বান্ডিল টিন এবং গৃহ নির্মাণে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা নগদ, ৪৪৫ মেট্রিক টন চাল ও ৪৫০ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণের তথ্যও দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

চট্টগ্রামের মহানগরসহ ১৬টি উপজেলায় আংশিক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। জেলার ১৭৬টি ইউনিয়ন বা এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ১৫ জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন। চট্টগ্রামের জন্য ৭৫ লাখ টাকা, ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, ১ হাজার বান্ডিল টিন ও গৃহ নির্মাণে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ১ হাজার ৪০ মেট্রিক টন চাল এবং ৪৬ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

বান্দরবানের সাতটি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে সাত জন নিহত ও দুই জন আহত হয়েছেন। দুর্গতদের মধ্যে ১৩ হাজার ১৯৩ প্যাকেট শুকনা খাবার এবং ১ হাজার ১৭৫ প্যাকেট শিশুখাদ্য বিতরণের তথ্য রয়েছে।

রাঙামাটির ৯টি উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা আক্রান্ত হয়েছে। সেখানে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। খাগড়াছড়ির ১০টি উপজেলার ৪১টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেখানে প্রাণহানির তথ্য নেই; একজন আহত হয়েছেন।

মৌলভীবাজারের সদর ও রাজনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন আক্রান্ত হয়েছে। সেখানে একজন মারা গেছেন। ছয়টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২৪৯ জন অবস্থান করছেন। হবিগঞ্জের সদর, বাহুবল ও বানিয়াচং উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নও বন্যাকবলিত হয়েছে।

৬৪ জেলায় মানবিক সহায়তা

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলায় মানবিক সহায়তার জন্য মোট ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং ৯ হাজার ৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৪ হাজার ২০০ বান্ডিল টিন এবং গৃহ নির্মাণে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

কিউএনবি/বিপুল/১৬.০৭.২০২৬/রাত ৯.০৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit