ডেস্ক নিউজ : প্রত্যেক মুমিনের হৃদয়ে একটি গভীর আকাঙ্ক্ষা থাকে—আল্লাহ যেন তাকে ভালোবাসেন। কারণ আল্লাহর ভালোবাসা লাভের চেয়ে বড় সফলতা আর কিছু হতে পারে না। সম্পদ, সম্মান কিংবা দুনিয়ার পদ-মর্যাদা ক্ষণস্থায়ী; কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ভালোবাসাই একজন বান্দার প্রকৃত অর্জন। পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদিসে এমন কিছু মানুষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের প্রতি আল্লাহ বিশেষ ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। আসুন, সেই সৌভাগ্যবান বান্দাদের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য জেনে নিই—
মানুষ ভুল করবে—এটাই তার স্বভাব। কিন্তু যে ব্যক্তি নিজের ভুল বুঝতে পেরে লজ্জিত হয়, আল্লাহর কাছে ফিরে আসে এবং আন্তরিকভাবে তওবা করে, আল্লাহ তাকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্রতা অর্জন করে তাদেরও ভালোবাসেন।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২২২)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—
كُلُّ ابْنِ آدَمَ خَطَّاءٌ، وَخَيْرُ الْخَطَّائِينَ التَّوَّابُونَ
‘আদম সন্তানের সবাই ভুলকারী; আর ভুলকারীদের মধ্যে সর্বোত্তম তারা, যারা বেশি বেশি তওবা করে।’ (তিরমিজি ২৪৯৯)
২. যারা দুনিয়ার চেয়ে আখিরাতকে বেশি গুরুত্ব দেয়
প্রকৃত মুমিন জানে, এই পৃথিবী ক্ষণস্থায়ী; আখিরাতের জীবন চিরস্থায়ী। তাই সে দুনিয়াকে নয়, আখিরাতকে নিজের মূল লক্ষ্য বানায়। আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَى
‘আর আখিরাতই উত্তম এবং অধিক স্থায়ী।’ (সুরা আল-আ’লা: আয়াত ১৭)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—
كُنْ فِي الدُّنْيَا كَأَنَّكَ غَرِيبٌ أَوْ عَابِرُ سَبِيلٍ
‘দুনিয়ায় এমনভাবে বসবাস করো যেন তুমি একজন অপরিচিত পথিক বা মুসাফির।’ (বুখারি ৬৪১৬)
৩. যারা প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা করে দেয়
ক্ষমা করা দুর্বলতার নয়, বরং শক্তিশালী ইমান ও মহান চরিত্রের পরিচয়। আল্লাহ এমন উদার হৃদয়ের মানুষকে ভালোবাসেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ ۗ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ
‘যারা ক্রোধ সংবরণ করে, মানুষকে ক্ষমা করে দেয়—আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ১৩৪)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—
وَمَا زَادَ اللَّهُ عَبْدًا بِعَفْوٍ إِلَّا عِزًّا
‘যে ক্ষমা করে, আল্লাহ তার মর্যাদা ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করেন না।’ (মুসলিম ২৫৮৮)
৪. যারা নির্জনে আল্লাহর ইবাদত করে এবং তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখে
যে বান্দা লোক দেখানোর জন্য নয়, বরং একান্তে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ইবাদত করে, সে আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাত শ্রেণির সৌভাগ্যবান মানুষের কথা বলেছেন, যাদের আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাঁর আরশের ছায়ায় স্থান দেবেন। তাদের একজন হলেন—
وَرَجُلٌ ذَكَرَ اللَّهَ خَالِيًا فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ
‘সে ব্যক্তি, যে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তার দুই চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে যায়।’ (বুখারি ৬৬০, মুসলিম ১০৩১)
৫. যাদের হৃদয় আল্লাহর স্মরণে কোমল হয়ে যায়
আল্লাহর ভয়ে যার অন্তর কেঁপে ওঠে এবং ভালোবাসায় যার চোখ অশ্রুসিক্ত হয়, সে সৌভাগ্যবান বান্দাদের একজন। আল্লাহ তাআলা বলেন—
اللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ… تَقْشَعِرُّ مِنْهُ جُلُودُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ ثُمَّ تَلِينُ جُلُودُهُمْ وَقُلُوبُهُمْ إِلَىٰ ذِكْرِ اللَّهِ
‘আল্লাহ সর্বোত্তম বাণী নাজিল করেছেন… যারা তাদের রবকে ভয় করে, তাদের দেহ শিহরিত হয়ে ওঠে; এরপর তাদের দেহ ও হৃদয় আল্লাহর স্মরণে কোমল হয়ে যায়।’ (সুরা আয-যুমার: আয়াত ২৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—
عَيْنَانِ لَا تَمَسُّهُمَا النَّارُ: عَيْنٌ بَكَتْ مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ…
‘দুটি চোখকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না—তার একটি হলো সেই চোখ, যা আল্লাহর ভয়ে কেঁদেছে।’ (তিরমিজি ১৬৩৯)
আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়া কোনো বংশ, সম্পদ বা সামাজিক মর্যাদার ওপর নির্ভর করে না। এটি নির্ভর করে ইমান, আন্তরিক তওবা, আখিরাতমুখী জীবন, ক্ষমাশীলতা, গোপন ইবাদত এবং আল্লাহর স্মরণে সজীব হৃদয়ের ওপর। তাই আসুন, আমরা নিজেদের আমলকে শুদ্ধ করি, গুনাহ থেকে ফিরে আসি, মানুষের প্রতি উদার হই এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তার প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।
কিউএনবি/আয়শা/৩০ জুন ২০২৬,/বিকাল ৪:৪৪