শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাঙামাটি শহরে ডিবির অভিযানে ২০ পিস ইয়াবাসহ রিটন চাকমা আটক নোয়াখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মা-ছেলের মৃত্যু তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও টেকসই নদীশাসনের প্রত্যয়, লালমনিরহাটে তিন মন্ত্রীর ব্যারাজ ও ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন লন্ডনে এক পরিবারের ৪৩ সদস্যের বসবাস, এ যেন এক টুকরো বাংলাদেশ আটোয়ারীতে আগমনী কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধী সমাজকল্যাণ সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভা, গাছের চারা বিতরণ ও অফিস ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পরিবর্তন করা হচ্ছে সেই দুই ইউনিয়নের নাম পুরোনো ভিডিও দিয়ে নোয়াখালীতে মিছিলের গুজব ছড়াচ্ছে আ.লীগ:পুলিশ নওগাঁয় আর.সি.সি রাস্তার উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন যাত্রী ছাউনিতে মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর সন্তান প্রসব নোবিপ্রবি উপাচার্যের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়

মুহাররমের যে ৫ করণীয়ের কথা বললেন আজহারী

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬
  • ২৩ Time View

ডেস্ক নিউজ : মুহাররম ইসলামী বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস এবং আল্লাহ তাআলার সম্মানিত হারাম মাসগুলোর অন্যতম। এ মাস শুধু নতুন বছরের সূচনা নয়; বরং আত্মশুদ্ধি, তাওবা, ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক মহামূল্যবান সুযোগ। কুরআন ও হাদিসের আলোকে এ মাসে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল রয়েছে, যা একজন মুমিনের ইমানকে আরও দৃঢ় এবং জীবনকে আরও আল্লাহমুখী করে তুলতে পারে। জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার ড. মিজানুর রহমান আজহারী মুহাররম মাসের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ করণীয় বিষয় তুলে ধরেছেন—

মুহাররমে আমাদের করণীয়

১. রোজার মাধ্যমে ইবাদতে নিমগ্ন হওয়া

বিশেষত ১০ মুহাররম তথা আশুরার দিনে এবং তার পূর্ববর্তী বা পরবর্তী একটি দিনে রোজা রাখা সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। হজরত আবু কাতাদাহ (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, আশুরার রোজার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন। (মুসলিম ১১৬২)

২. নিজস্ব সংস্কৃতি ও স্বাতন্ত্র্যবোধ বজায় রাখা

রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন জানতে পারলেন যে ইহুদিরাও আশুরার দিনে রোজা রাখে, তখন তিনি ঘোষণা করলেন, আগামী বছর বেঁচে থাকলে আমি ৯ তারিখেও রোজা রাখব। (সলিম:১১৩৪)

রাসুলের (সা.) এই নির্দেশনা সুস্পষ্ট বার্তা দেয় যে, ইসলাম অন্য ধর্ম ও সংস্কৃতির অনুকরণ থেকে মুসলিম উম্মাহকে সর্বদা স্বাতন্ত্র্য রক্ষার নির্দেশ দেয়।

সুতরাং ৯ ও ১০ মুহাররম একত্রে রোজা রাখা শুধুমাত্র আমল নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর স্বাতন্ত্র্য পরিচয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ। যা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মুসলিম হিসেবে লালন করা আবশ্যক।

পাশাপাশি হিজরি সাল মুসলিম উম্মাহর সভ্যতা ও সংস্কৃতিগত স্বাতন্ত্র্যের অন্যতম অকাট্য দলিল। খ্রিস্টানদের যেমন নিজস্ব ইংরেজি সাল রয়েছে, তেমনি মুসলিমদের রয়েছে হিজরি সাল। তাই এই নতুন হিজরি বর্ষের সূচনায় কোনো অপসংস্কৃতির অনুকরণ না করে, ৯ ও ১০ মুহাররম একত্রে রোজা রাখা এবং হিজরি তারিখ ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের মুসলিম পরিচয়ের গৌরব ও স্বাতন্ত্র্যকে সমুন্নত রাখার সংকল্প করা উচিত।

৩. তাওবা ও ইস্তিগফারে সর্বোচ্চ মনোনিবেশ করা

এই মাসে এমন একটি দিন রয়েছে, যে দিন আল্লাহ তাআলা একটি সম্প্রদায়ের তাওবা কবুল করেছিলেন। (তিরমিজি ৭৪১)

এই মাসটি ক্ষমা ও আত্মসমর্পণের মাস—এই সুযোগকে অবহেলায় হাতছাড়া করা কোনোভাবেই বিবেকসম্মত নয়।

৪. সকল প্রকার পাপাচার থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকা

হারাম মাসে পাপের ভার ও পরিণাম উভয়ই অধিকতর গুরুতর। কুরআনের নির্দেশ— ‘এই মাসগুলোতে তোমরা নিজেদের প্রতি জুলুম কর না।’— এই নির্দেশ আমাদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা।

৫. আত্মসমীক্ষা ও আত্মপুনর্গঠনের সংকল্প গ্রহণ করা

হিজরি নববর্ষের সূচনা জীবনের সামগ্রিক গতিপথ পুনর্বিবেচনার এক সুবর্ণ মুহূর্ত। বিগত বছরের আমল ও চরিত্রের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করে নতুন বর্ষে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করাই হিজরি নববর্ষের প্রকৃত শিক্ষা।

যে উম্মত তার নিজস্ব বর্ষপঞ্জির প্রতি উদাসীন, সে উম্মত আল্লাহর নির্ধারিত বরকতের মৌসুমগুলো থেকে অনিবার্যভাবে বঞ্চিত হয়।

আসুন, এই মুহাররমে কেবল আচারিক উদযাপনে সীমাবদ্ধ না থেকে এই মাসের প্রকৃত দাবিগুলো পূরণে সচেষ্ট হই। তাওবার মাধ্যমে অতীতকে পরিশুদ্ধ করি, সুদৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে ভবিষ্যতকে আল্লাহমুখী করি।

মহররম মাসের ফজিলত ও করণীয় আমল

হে আল্লাহ! আমাদের জন্য মহররম মাসে বরকত দান করুন এবং আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা আপনার সম্মানিত মাসগুলোকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে এবং আপনার দিকে তাওবার সাথে প্রত্যাবর্তন করে। আমিন।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৯ জুন ২০২৬,/রাত ৯:০০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit