আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার দাবি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না এবং দুই দেশের মধ্যে বৈঠকেরও কোনো সময়সূচি নির্ধারিত হয়নি।
রবিবার (২ আগস্ট) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি মানুষ হত্যা করতে চান না এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছানোই তাঁর পছন্দ। তাঁর দাবি ছিল, সোমবার বিকেলে ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে কোথায় এই আলোচনা হবে কিংবা কারা এতে অংশ নেবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
ট্রাম্পের বক্তব্যের একদিন পরই তা প্রত্যাখ্যান করেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। সোমবার (৩ আগস্ট) তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের কোনো আলোচনা হচ্ছে না। এমনকি দুই দেশের মধ্যে কোনো বৈঠকের সময়ও নির্ধারণ করা হয়নি।
বাঘাই আরও বলেন, আগামী কয়েক দিনে কোনো বিদেশি প্রতিনিধিদলকে তেহরানে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা নেই। একইভাবে ইরানের কোনো আলোচককে বিদেশে পাঠানোরও সিদ্ধান্ত হয়নি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বর্তমানে ইরাকে ধর্মীয় তীর্থযাত্রায় রয়েছেন বলে জানান বাঘাই। তিনি বলেন, আরাগচিকে বাদ দিলে ইরানের অন্য আলোচকেরা দেশে অবস্থান করছেন।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে ইরানের একমাত্র সক্রিয় আলোচনা চলছে ওমানের সঙ্গে। ওই আলোচনায় হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনা এবং সেখানে নিরাপদ নৌচলাচলের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
এদিকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তাও রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি অন্তত সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত ইরানের বাইরে থাকবেন।
রয়টার্স বলছে, ইরানের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্য গত পাঁচ মাসের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ সময়ে তিনি কয়েকবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। পরে কূটনৈতিক যোগাযোগের কথা উল্লেখ করে সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছেন।
তবে জুনে সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে করা একটি সমঝোতা স্মারক জুলাইয়ের শুরুতে ভেস্তে যাওয়ার পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তেহরান প্রকাশ্যেই অনাগ্রহ দেখিয়ে আসছে। সংঘাতের শুরুতে ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে দেশটির হামলার সক্ষমতা কমানো এবং দেশটির ধর্মীয় শাসকদের বিরুদ্ধে পরিবর্তনের পরিস্থিতি তৈরিকে তাঁর অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ঘোষিত এসব লক্ষ্য এখনো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি।
কিউএনবি/অনিমা/০৩ অগাস্ট ২০২৬,/রাত ৮:৪৯