আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লিতে চলছে ভোটার তালিকা সংশোধনের (এসআইআর) কাজ। ইতিমধ্যেই খসড়া তালিকা প্রকাশ হয়েছে। সেই প্রক্রিয়ায় খসড়া তালিকা থেকে বাদ গেছে প্রায় ৩২ লাখ ভোটারের নাম। চলমান এই প্রক্রিয়ায় নামের বানান ভুল, ২০০২ সালের এসআইআর তালিকায় ম্যাপিং না হওয়া, ভোটার তালিকায় তথ্যের অসঙ্গতির (লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি) কারণে দেশটির একাধিক রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তাকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
সেই তালিকায় নাম রয়েছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর থেকে শুরু করে সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদভানি, দেশটির পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি, কংগ্রেসের সিনিয়র সাংসদ কপিল সিবাল, সিনিয়র কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভি, সাবেক উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড় এবং তার স্ত্রী সুদেশ ধনকড়, ভারত সরকারের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা অধ্যাপক অজয় কুমার সুদ, স্বাস্থ্য সচিব পুনিয়া সলিলা, সেবি চেয়ারম্যান তুহিন কান্ত পান্ডে, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুব্রামানিয়াম স্বামী, দেশটির সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি মদন লোকুরসহ একাধিক হেভিওয়েট ব্যক্তিদের।
এমনকি দিল্লির তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও তার পরিবারের সদস্যদের নামও লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকায় রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য ভোটার তালিকা স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত করতেই এই পদক্ষেপ। কমিশন এও জানিয়েছে যে, এ প্রক্রিয়াটি শাস্তিমূলক নয় বরং সংশোধনমূলক এবং এর লক্ষ্য হলো ভবিষ্যৎ নির্বাচনের আগে নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও সততা জোরদার করা।
নোটিশ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনার এস এস সান্ধুর নামে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কারণ ভোটার রেকর্ডে তার নামের বানানে অমিল রয়েছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও তার স্ত্রী কিয়োটো এস জয়শঙ্করের নাম নোটিশ লিস্টে রয়েছে ভেরিফিকেশনের জন্য। আইনজীবী কপিল সিবল ও পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রির নামে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কারণ ২০০২ সালের এসআইআর তালিকায় তাদের ম্যাপিং হয়নি। ৯৮ বছর বয়সী সিনিয়র বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি, তার মেয়ে প্রতিভা আদভানি, পুত্রবধূ গীতিকা আদভানির নামও রয়েছে। নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিদের সকলকেই শুনানিতে ডাকা হবে।
তবে লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির কারণে দিল্লির বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নোটিশ পাঠানোয় সবচেয়ে বেশি শোরগোল পড়ে গেছে। এনিয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, প্রথমে তাকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সের জন্য নোটিশ ধরানো হয়েছিল, যদিও পরে ‘বুথ লেবেল অফিসার’ (বিএলও) মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে তার সমস্ত নথি যাচাই করেন।
কিউএনবি/অনিমা/২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/রাত ৯:২৩