আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদের চলমান সংঘাতের জেরে ইয়েমেনে চলতি মাসে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দেশটির একটি সরকারি সংস্থা এ তথ্য নিশ্চিত জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে ১ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২১ হাজার ৫৮৩টি পরিবারের মোট ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪৩ জন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
‘বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা বিষয়ক নির্বাহী ইউনিট’ এ তথ্য নথিবদ্ধ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আটটি প্রদেশে এই বাস্তুচ্যুতির ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমে তাইজ ও লাহিয, দক্ষিণে এডেন, আবিয়ান ও শাবওয়া, পশ্চিমে আল-হুদাইদাহ এবং পূর্বে হাদরামুত ও আল-মাহরাহ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে তাইজ প্রদেশে। সেখানে ১৫টি জেলায় মোট ১১ হাজার ৫৩৪টি পরিবারের ৮০ হাজার ৭৯২ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে লাহিয প্রদেশ, যেখানে নয়টি জেলায় ৫ হাজার ৪৭২টি পরিবারের ৩৮ হাজার ৩০৪ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
সরকারি সংস্থাটি এডেনে ১ হাজার ৬২২টি পরিবারের ৭ হাজার ১৬২ জন মানুষের আগমনও রেকর্ড করেছে। এদের মধ্যে অধিকাংশকেই বিভিন্ন জেলার স্থানীয় পরিবারগুলো আশ্রয় দিয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, আল-হুদাইদাহর হেইস ও আল-খাওখাহ জেলায় ১ হাজার ৪৭১টি পরিবারের ১০ হাজার ২৯৭ জন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে এসেছে এবং আবিয়ানে এসেছে আরও ১ হাজার ২৭৮টি পরিবারের ৮ হাজার ৯৪৬ জন মানুষ।
এছাড়া হাদরামুতে ১১০টি, আল-মাহরাহতে ৭০টি এবং শাবওয়াতে ২৬টি বাস্তুচ্যুত পরিবারকে নথিবদ্ধ করা হয়েছে।সংস্থাটি আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংস্থাগুলোর প্রতি বাস্তুচ্যুত মানুষদের জন্য ‘জরুরি ও জীবন রক্ষাকারী সহায়তা’ প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, সহায়তায় বিলম্ব হলে সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে এবং আশ্রয়দানকারী সম্প্রদায়ের ওপর চাপ বাড়তে পারে।
ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল এবং তাইজ প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক সংঘাত ব্যাপক মাত্রায় বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বাস্তুচ্যুতির এই ঘটনা ঘটছে। এসব এলাকায় হুথি বিদ্রোহীরা অগ্রসর হয়ে সরকারি বাহিনীর দখলে থাকা বিভিন্ন অবস্থানের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। জুলাইয়ের শুরুর দিকে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ উত্তরাঞ্চলের তাইজ, মারিব ও আল-জাওফ এবং মধ্য ইয়েমেনের আল-বায়দা এলাকায় লড়াই নতুন করে শুরু হয়েছে।
সেপ্টেম্বর মাসে এই সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করে। এ সময় হুথিরা আল-হুদাইদাহ ও তাইজ প্রদেশের বেশ কিছু কৌশলগত অবস্থানের (যার মধ্যে কৌশলগত শহর মোখাও অন্তর্ভুক্ত) নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে এবং বাব আল-মানদাব প্রণালিতে অবস্থিত মায়ুন দ্বীপ পর্যন্ত নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে।
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে হুথিরা রাজধানী সানা ও বেশ কয়েকটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই ইয়েমেন যুদ্ধাবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এরপর ২০১৫ সালের মার্চ মাসে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে সৌদি-নেতৃত্বাধীন একটি জোট এই সংঘাতে হস্তক্ষেপ করে।
কিউএনবি/অনিমা/২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/রাত ৯:৫৩