মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নেত্রকোনায় আদালতের আদেশ ঘিরে জমি নিয়ে উত্তেজনা, জোরপূর্বক দখলচেষ্টার অভিযোগ ‘ফাইনালের আগে কী হয়েছিল?’ সন্দেহ আর্জেন্টাইন ফুটবলারের মায়ের মনেও ট্রুম্যান থেকে ট্রাম্প: ইসরাইল লবির চাপে বারবার নতি স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টরা? পার্বতীপুরের পল্লীতে ৪ শতক বসত ভিটা নিয়ে প্রতিপক্ষের মারপীটে ৩ জন আহত। হার্দিককে ছাড়ার গুঞ্জনে যা বলল মুম্বাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না: ইরান ‘জেলেনস্কিই ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় সমস্যা’ শতভাগ নিষেধাজ্ঞা-প্রতিরোধী রুশ যাত্রীবাহী বিমানের সফল উড্ডয়ন থাড ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর তোড়জোর বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে আবারও অন্ধকারে কিউবা

যানবাহনে নামাজ আদায়ে কিবলামুখী হওয়া কি বাধ্যতামূলক?

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬
  • ৫৬ Time View

স্পোর্টস ডেস্ক : নামাজ মুমিনের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি এমন একটি ফরজ আমল, যা সুস্থতা-অসুস্থতা, শান্তি-অশান্তি কিংবা অবস্থান পরিবর্তনের কারণেও মওকুফ হয় না। এমনকি সফরেও মুসলমানের ওপর নামাজের দায়িত্ব বহাল থাকে। তবে ইসলামের সৌন্দর্য হলো— এটি মানুষের সামর্থ্য ও বাস্তব পরিস্থিতিকে বিবেচনায় রেখে বিধান প্রদান করেছে।

আজকের যুগে মানুষ বাস, ট্রেন, লঞ্চ কিংবা উড়োজাহাজে দীর্ঘ সময় ভ্রমণ করে। অনেক সময় নামাজের ওয়াক্ত এসে যায়, কিন্তু কিবলামুখী হয়ে স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায়ের সুযোগ থাকে না। তখন প্রশ্ন জাগে— যানবাহনে নামাজ পড়া যাবে কি? কিবলামুখী হওয়া কি বাধ্যতামূলক? ইসলাম এ বিষয়ে কী নির্দেশনা দিয়েছে?

নামাজ কখনো মওকুফ নয়

আল্লাহ তাআলা বলেন—

أَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ

‘তোমরা নামাজ প্রতিষ্ঠা করো এবং যাকাত আদায় করো।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ৪৩)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন—

إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا

‘নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্ধারিত সময়ে ফরজ করা হয়েছে।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ১০৩)

এ আয়াতগুলো প্রমাণ করে যে, নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা মুমিনের দায়িত্ব। তাই সফরে থাকলেও যথাসম্ভব সময়মতো নামাজ আদায় করতে হবে।

সফরে নামাজ আদায়ের নীতিমালা

ইসলাম সহজতার ধর্ম। তাই কোনো ব্যক্তি যদি এমন পরিস্থিতিতে পড়েন যেখানে স্বাভাবিক নিয়মে নামাজ আদায় করা সম্ভব নয়, তাহলে তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নামাজ আদায় করবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—

فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ

‘তোমরা সাধ্যানুযায়ী আল্লাহকে ভয় করো।’ (সুরা আত-তাগাবুন: আয়াত ১৬)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

إِذَا أَمَرْتُكُمْ بِأَمْرٍ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ

‘আমি তোমাদের কোনো কাজের নির্দেশ দিলে তোমরা তা সাধ্যানুযায়ী পালন কর।’ (বুখারি ৭২৮৮, মুসলিম ১৩৩৭)

বাস ও অন্যান্য স্থলযানে নামাজের বিধান

বাসে সাধারণত দাঁড়িয়ে পূর্ণ রুকু-সিজদাসহ নামাজ আদায় করা কঠিন হয়। তাই—

গন্তব্যে পৌঁছে ওয়াক্তের মধ্যে নামাজ আদায় করা সম্ভব হলে অপেক্ষা করা যাবে।

ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আশঙ্কা থাকলে সুযোগমতো গাড়ি থামিয়ে নেমে নামাজ আদায় করা উচিত।

যদি নামার সুযোগ না থাকে অথবা নামলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়, তাহলে সিটে বসেই ইশারা বা সামর্থ্য অনুযায়ী নামাজ আদায় করা যাবে।

পরবর্তীতে সতর্কতামূলকভাবে নামাজ পুনরায় আদায় করা উত্তম।

ট্রেনে নামাজ আদায়

ট্রেনে পর্যাপ্ত জায়গা থাকলে এবং দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা সম্ভব হলে যথারীতি নামাজ পড়তে হবে।

ট্রেন স্টেশনে থেমে থাকলে প্ল্যাটফর্মে নামাজের সুযোগ থাকুক বা না থাকুক, ট্রেনের ভেতর নামাজ আদায় করা জায়েজ। চলন্ত ট্রেনে নামাজ পড়াও ফিকহবিদদের মতে বৈধ।

মসজিদের সামনে কবরস্থান থাকলে সেখানে নামাজ পড়া যাবে কি?

লঞ্চ ও নৌযানে নামাজ

যদি লঞ্চ নোঙর করা থাকে এবং স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া সম্ভব হয়, তাহলে দাঁড়িয়েই নামাজ আদায় করতে হবে।

কিন্তু—

  • সাগর উত্তাল হওয়ার কারণে দাঁড়ানো সম্ভব না হলে বসে নামাজ পড়া যাবে।
  • চলন্ত নৌযানে ভারসাম্য রক্ষা কঠিন হলে বসে নামাজ আদায় করা বৈধ।
  • মাথা ঘোরা বা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও বসে নামাজ পড়ার অনুমতি রয়েছে।

উড়োজাহাজে নামাজের বিধান

উড়োজাহাজেও নামাজ আদায় করা যাবে। ইসলামী শরিয়তে আকাশে অবস্থানকারী ব্যক্তির জন্যও নামাজ ফরজ।

কাবা শরিফের সরাসরি দেয়ালকে সামনে রাখা আবশ্যক নয়; বরং কাবার দিক বরাবর ঊর্ধ্বমুখী পুরো আকাশসীমাই কিবলার অন্তর্ভুক্ত। তাই বিমানযাত্রীগণ তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী কিবলা নির্ধারণ করে নামাজ আদায় করবেন।

যানবাহনে কিবলামুখী হওয়া কি বাধ্যতামূলক?

সাধারণ অবস্থায় ফরজ নামাজের জন্য কিবলামুখী হওয়া আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা বলেন—

فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ

‘অতএব তুমি তোমার মুখমণ্ডল মসজিদুল হারামের দিকে ফিরিয়ে নাও।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৪৪)

কিবলা সম্পর্কে সফরের বিশেষ বিধান

  • যানবাহনে কিবলামুখী হওয়ার সুযোগ থাকলে নামাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কিবলামুখী থাকা জরুরি।
  • যানবাহন দিক পরিবর্তন করলে মুসল্লিও সামর্থ্য অনুযায়ী কিবলার দিকে ফিরে যাবেন।
  • যদি কিবলামুখী হওয়ার কোনো সুযোগ না থাকে এবং যানবাহন থেকে নামাও সম্ভব না হয়, তাহলে যেদিকে সম্ভব সেদিকেই নামাজ আদায় করা যাবে।
  • রুকু ও সিজদা যথাযথভাবে করা গেলে পরে নামাজ পুনরায় পড়ার প্রয়োজন নেই।
  • ইশারার মাধ্যমে নামাজ আদায় করলে সতর্কতামূলকভাবে পরে পুনরায় আদায় করা উত্তম।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আমল

হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত—

كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُصَلِّي عَلَى رَاحِلَتِهِ حَيْثُمَا تَوَجَّهَتْ بِهِ

‘নবী (সা.) তাঁর বাহনের ওপর (নফল) নামাজ আদায় করতেন, বাহন যেদিকেই চলুক না কেন।’ (বুখারি ১০৯৬, মুসলিম ৭০০)এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, প্রয়োজন ও সফরের পরিস্থিতি বিবেচনায় শরিয়ত সহজতার পথ গ্রহণ করেছে। ইসলাম কখনো মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য বিধান আরোপ করেনি; বরং সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহর ইবাদত করার শিক্ষা দিয়েছে। সফরে থাকলেও নামাজের গুরুত্ব কমে না, তবে পরিস্থিতির কারণে আদায়ের পদ্ধতিতে কিছুটা শিথিলতা দেওয়া হয়েছে।

তাই একজন সচেতন মুসলমানের কর্তব্য হলো— যেখানেই থাকুন না কেন, নামাজের সময় হলে তা গুরুত্বের সঙ্গে আদায় করা এবং কিবলামুখী হওয়ার সুযোগ থাকলে তা বজায় রাখা। আর যখন তা সম্ভব না হয়, তখন শরিয়তের প্রদত্ত সহজতার সুযোগ গ্রহণ করে আল্লাহর সামনে বিনীতভাবে দাঁড়িয়ে যাওয়া। কারণ মুমিনের পরিচয় হলো— সে কোনো অবস্থাতেই তার রবের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে না।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৯ জুন ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:৪৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit