ডলারের শক্তিশালী অবস্থানও স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি করেছে। ডলার শক্তিশালী হলে ডলার-মূল্যে নির্ধারিত ধাতু অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য আরও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, ফলে চাহিদা কমে যায়।
আমেরিকান গোল্ড এক্সচেঞ্জের বাজার বিশ্লেষক জিম উইকফ বলেন, দীর্ঘদিন উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার প্রত্যাশা স্বর্ণের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বন্ড ইল্ড বৃদ্ধি থেমে গেলে বা সুদের হার স্থিতিশীল হলে কিংবা কমতে শুরু করলে স্বর্ণের বাজারে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে।
এদিকে, সপ্তাহান্তে ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন হামলার পর ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে ইরানের আলোচক দল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানিয়েছে তাসনিম সংবাদ সংস্থা। এই পরিস্থিতিতে তেলের দাম আরও বেড়েছে, যা মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কাকে নতুন করে উসকে দিয়েছে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়াতে পারে; এমন প্রত্যাশাও জোরদার হয়েছে।
সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, বাজারে ধারণা করা হচ্ছে, বছর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত একবার সুদের হার বাড়ার প্রায় ৫৬ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও স্বর্ণ সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়, তবে উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে এটি চাপের মুখে পড়ে, কারণ এতে কোনো সুদ বা মুনাফা পাওয়া যায় না।
স্যাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন বলেন, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে এবং জ্বালানি সংকট কমতে শুরু করলে বিনিয়োগকারীরা আবারও সেই মৌলিক বিষয়গুলোর দিকে মনোযোগ দেবেন, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের বাজারকে সমর্থন করে। আগামী বছর জুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণের নিট ক্রেতা হিসেবে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও পতন দেখা গেছে। স্পট রুপার দাম ১.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৩.৯৬ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ০.৪ শতাংশ কমে ১,৯০৮.৯১ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৮ শতাংশ কমে ১,৩৪৩.০৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।- রয়টার্স