পান্তা ভাত
সৈয়দ সময় ভোরের কুয়াশা ভেজা শীতল বাতাসে মাটির ঘ্রাণে জেগে ওঠে নদীমাতৃক দেশ, কলস ভরা জলের পাশে ঢাকনা তুলে রাখা গতকালের সাদা ভাত, আজ সে পান্তা অমলিন বাংলার ইতিহাস। শালিক ডাকে, দোয়েল গায়, পল্লী পথের ধুলোমাখা সুরে মিশে থাকে দাদির স্মৃতি নোনতা লবণ, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজের টুকরো, এ যেন রসনার নয়, আত্মার আহার।
পান্তা ভাত তুমি শুধু খাদ্য নও, তুমি বাংলার সহজ সরল জীবনের প্রতীক, কৃষকের ঘামে ভেজা ধানের সুবাস, জলমগ্ন মাঠের নিরব সুরের অনুবাদ। বৈশাখী রোদে যখন জ্বলে ওঠে প্রান্তর, কপালে ঘাম ঝরে তখনই তুমি দাও শীতল প্রশান্তি, এক মুঠো ভাতে খুঁজে পাই মাটির সঙ্গে মানুষের চিরন্তন বন্ধন। হাটের কোলাহল, ঢোলের তালে তালে নতুন বছরের আহ্বান, পান্তা-ইলিশে রাঙা উৎসবের দিন তুমি তখন উৎসবেরও প্রাণ, আবহমান বাংলার গর্বিত পরিচয়।
পান্তা ভাত, তোমার সরলতায় লুকিয়ে আছে অসংখ্য অজানা কবিতার পঙক্তি যা লিখে যায় নদী, মাঠ, আর মানুষের হৃদয়, যা কোনো কালি নয়, বিশ্বাসে লেখা। আজও যখন মাটির থালায় তোমাকে দেখি, মনে হয় এই তো আমার দেশ, আমার শিকড়, আমার চিরন্তন গান পান্তা ভাতের ভেতরেই জেগে থাকে বাংলার অমর আত্মা। ১২ এপ্রিল ৩০২৬ কবি ও সাংবাদিক সৈয়দ সময় কুড়পাড় , নেত্রকোনা ।
কিউএনবি/আয়শা/১৩ এপ্রিল ২০২৬,/রাত ১১:৫৫