বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১০ নতুন ধারা বাংলাদেশ’র শান্তাসহ ৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ উত্তরাঞ্চলের তিন জেলার উন্নয়নে একটি মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ভারতের অর্থনীতি ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে: নির্মলা সীতারামন ‘তাকে ছাড়া গজনি সফল হতো না’, প্রদীপ রাওয়াতকে আমির খানের শ্রদ্ধাঞ্জলি ‘গ্রেফতারের নাটক সাজিয়ে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা’, বিধানসভায় বিজয়কে একহাত নিলেন উদয়নিধি হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০৮৩ আরেকটি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জামায়াত আমিরের সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশা গ্রেপ্তার জুলাই আহত যোদ্ধা মিতুর খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

কৈশোরের ঈদ ও কাগজের টুপি

রাজনীতিবিদ ও লেখক।
  • Update Time : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬
  • ১৩২ Time View

কিশোর বেলার ঈদ উৎসবের আমেজ আর কখনই অনুভূত হয়না। সেই কবে না শৈশবে ঈদের দিনের অপেক্ষায় প্রহর গুনতাম। কবে আসবে ঈদ। ছোটবেলা থেকে রোজা করার অভ্যেস ছিল। রোজা পালনের কঠিন অনুশাসন ছিল এরকম -ঢোক পর্যন্ত গেলা যাবেনা। দুপুরের পর থেকে গলা খটখটে শুষ্ক হয়ে যেত। বুকের ছাতি যেন ফেটে যায়।

সে সময় ঘড়ি খুব কম ছিল। পড়ন্ত বিকেলে মাটিতে রোদের ছাঁয়ায় দাগ দিতাম। একটু একটু করে সে দাগ পশ্চিমে বাড়তে থাকে। আমরা প্রহর গুনতাম ইফতারের সময়ের জন্যে। মাটিতে সূর্যের আলোর প্রক্ষেপন মাপার এই প্রক্রিয়া দেখে বাড়ির লোকজন হাসাহাসি করত। বড় ভাবী বলত, রোজা রাখতে এত কষ্ট হলে রোজা থাকার দরকার নেই।

রোজার মাঝামাঝিতে ঈদের পোশাক বানানোর প্রক্রিয়া শুরু হতো। বাজারে যেয়ে থান কাপড় কিনে দর্জির দোকানে দেয়া হতো। আমরা দর্জির কাছে মাপ দিয়ে আসতাম। দর্জি যেন নির্দিষ্ট সময়ের আগে জামা পাজামা দিতে পারে এজন্যে প্রতিদিন একবার করে দর্জির দোকানে যেয়ে তাগাদা দিয়ে আসতাম।

অবশেষে একদিন ঈদ এসে দরজায় কড়া নাড়তো। ইফতারের আগের মুহূর্তে আকাশে চাঁদ আবিষ্কারের নেশায় আমরা মেঘের ফাঁকে চাঁদ খুঁজতাম।

ঈদের আগের রাত বা চাঁদ রাতে একদঙ্গল কিশোরের মাঠ সাজানোর এক অহর্নিশ প্রতিযোগিতা শুরু হতো। কলা গাছ কেটে ঈদগাহ মাঠের গেট বানানো হতো। সুতলিতে ত্রিভুজাকৃতির রঙিন কাগজ আঠা দিয়ে লাগিয়ে দেয়া হতো। এভাবেই পুরো ঈদগাহ মাঠকে আমরা বর্ণিল রূপ দিতাম।

ঈদের দিনের সকাল বেলায় প্রধান আকর্ষণ ছিল তোপৎধনী। জখড়িয়া পাড়া থেকে লোহার কামান আসতো। কামানে বারুদ ঢুকিয়ে তোপৎধনী দেয়া হতো। বারুদে আগুন দেয়ার আগেই কানে আঙ্গুল চেপে ধরতাম। মাটি কাঁপিয়ে বিকট আওয়াজে সারা গ্রাম কেঁপে উঠত।

ঈদের পোশাক পরে মাথায় দিতাম কাগজের টুপি। সস্তার পুরান নিউজপেপারে রং লাগিয়ে টুপি বানানো হতো। ঈদের আগের দিন সে কাগজের টুপি কিনে এনে আমাদের দেয়া হতো। রাজমুকুটের ন্যায় সে টুপি পড়ে আমরা ঈদগাহ মাঠে যেতাম। এই টুপি ওয়ান টাইম ইউজড হতো।

ঈদ আসে ঈদ যায়। কিশোর বেলার সেই ঈদ আর আসেনা। সেই ঈদের আমেজও আর খুঁজে পাইনা। তারপরেও ঈদের শুভেচ্ছা সকলকে। ঈদ মুবারক।

পাঞ্জাবি : প্রিয় ছোটভাই সাইদুর আর মোহাইমেন লাল পাঞ্জাবিটা গিফট করেছে। আরেক ছোটভাই আশরাফ ঘিয়ে রংগের পাঞ্জাবিটা দিয়েছে। ঈদের দিনে ওদের পাঞ্জাবিই পড়েছি।

 

 

লেখকঃ লুৎফর রহমান একজন রাজনীতিবিদ ও লেখক। তিনি নিয়মিত লেখালেখির পাশাপাশি ইলেক্ট্রনিক নিউজ মিডিয়ার সম্পাদক ও প্রকাশক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র লুৎফর রহমান ৮০ এর দশকের স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতে চারটি রাজনৈতিক উপন্যাস লিখেছেন, যা দেশ বিদেশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় জীবনের খন্ডচিত্র এঁকে তিনি এখন ব্যাপক পরিচিত পাঠক মহলে। গঠনমূলক ও ইতিবাচক লেখনীতে তিনি এক নতুন মাত্রা সংযোজন করতে সক্ষম হয়েছেন।

 

 

কিউএনবি/বিপুল /২৫/০৩/২০২৬/দুপুর ২.৫৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit