স্পোর্টস ডেস্ক : নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না বাংলাদেশ। ভেন্যু পরিবর্তন হলে শ্রীলংকায় খেলতে চেয়েছিল টাইগাররা। কিন্তু বাংলাদেশ দলের সেই প্রস্তাব নাকোচ করে দিয়ে বিশ্বকাপ থেকেই টাইগারদের বাদ দিয়ে দেয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
হাইব্রিড মডেল ভঙ্গের শাস্তি
পাকিস্তানের দাবি মেনেই ভারতের মাটিতে আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হাইব্রিড মডেল এনেছে আইসিসি। অর্থাৎ, পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলছে। সেই মতো সূচি হয়েছে। কিন্তু যদি পাকিস্তান খেলতে না চায়, তাহলে সেই চুক্তি ভঙ্গ হবে। সে ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আর কোনও প্রতিযোগিতায় হাইব্রিড মডেলের দাবি করতে পারবে না পাকিস্তান। যেখানে খেলা হবে, সেখানেই খেলতে হবে তাদের।
বছরে ৩১৬ কোটি টাকা লোকসান
আইসিসির কোনও বড় প্রতিযোগিতার আগে বিশ্বক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে চুক্তি হয় পূর্ণ সদস্য দেশের। অর্থাৎ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে আইসিসির সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চুক্তি হয়েছে। শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপ বয়কট করলে চুক্তিভঙ্গ করবে পাকিস্তান।
প্রতি বছর পাকিস্তানকে লভ্যাংশ হিসেবে ৩১৬ কোটি টাকা দেয় আইসিসি। তারা ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে, পাকিস্তান বিশ্বকাপ বয়কট করলে লভ্যাংশ কেটে নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে ৩১৬ কোটি টাকা লোকসান হবে নকভিদের ক্রিকেট বোর্ডের। পাকিস্তান ক্রিকেটের অগ্রগতির নেপথ্যে আইসিসির এই টাকার গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্বকাপে না খেললে বড় ক্ষতি হবে পাকিস্তান ক্রিকেটের।
আইসিসির নির্বাসনের শাস্তি
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, তাদের সরকার যা বলবে, তা-ই মেনে চলবে তারা। অর্থাৎ, বিশ্বকাপ বয়কট করা-না করার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি সরকারের। সে ক্ষেত্রে ক্রিকেটে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে পাকিস্তানকে নির্বাসিত করতে পারে আইসিসি। ঠিক যেমন ভাবে অতীতে জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলংকাকে আইসিসি নির্বাসিত করেছিল, তেমনটাই হতে পারে পাকিস্তানের সঙ্গে। এমনকি, আইসিসির নির্দেশ মেনে এশিয়া কাপ থেকেও পাকিস্তানকে নির্বাসিত করতে পারে এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিল।
একঘরে পাকিস্তান ক্রিকেট
পাকিস্তান বিশ্বকাপ বয়কট করলে ভবিষ্যতে তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার আগে ভাববে বিভিন্ন দেশ। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ়ের সূচিও আইসিসি তৈরি করে। ভবিষ্যতে কোনও দেশ পাকিস্তানে খেলতে যাওয়ার আগে বা পাকিস্তানকে ডাকার আগে ভাববে। ফলে বিশ্বকাপে না খেললে ক্রিকেটে একঘরে হয়ে যেতে পারে পিসিবি।
সংশয়ে পাকিস্তান সুপার লিগ
পাকিস্তান সুপার লিগে যেটুকু আকর্ষণ, তা বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য। কিন্তু পাকিস্তান বিশ্বকাপ বয়কট করলে বিভিন্ন দেশ তাদের খেলোয়াড়দের পাকিস্তান সুপার লিগে খেলার অনুমতি (এনওসি) না-ও দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে পাকিস্তান সুপার লিগের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় বাড়বে।
বিশ্বকাপ বয়কটের আগে এই সব ভাবনা রয়েছে পাকিস্তান বোর্ডের মাথায়। সেই কারণেই হয়তো সময় নিচ্ছে তারা। বিশ্বকাপ-বিতর্কে বাংলাদেশকে সমর্থন করলেও বয়কট করা যে অতটা সহজ নয় তা বুঝতে পারছেন নকভিরা।
কিউএনবি/খোরশেদ/২৭ জানুয়ারী ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:০০