ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : নির্বাচনের সময় শিক্ষার্থীদের উপর বহুমুখী চাপ নিরসনে সকল চাকরির পরীক্ষা স্থগিত করার দাবিতে সহযোগিতা চেয়ে প্রধান ৩ টি রাজনৈতিক দল-বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন চাকরি প্রার্থীরা। গতকাল ২৫ জানুয়ারি রোববার রাতে এসব দলের কেন্দ্রীয় অফিসে স্মারকলিপি প্রদান করেন চাকরি প্রত্যাশীরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাকরি প্রত্যাশী শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান,সজীব ফরাজী, মো রাজিব ও সাদেকুজ্জামান সাদিক ।
লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, “রাষ্ট্রের সচেতন নাগরিক হিসেবে দীর্ঘ ১৭ বছর পরে আমাদের দেশে যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে তাতে ভোটদান ও জুলাই যোদ্ধা হিসেবে গণভোটের হ্যাঁ এর পক্ষে প্রচারণায় এবং নির্বাচনী উৎসবে অংশগ্রহণ করতে চাই।একই সাথে ৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ এ অনুষ্ঠিতব্য ৫০ তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অনেকেই নির্বাচনী ট্রেনিং এবং দায়িত্ব পালন করবে”তারা আরো জানান, “সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সরকারি প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগে উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা আগামী ২৮শে জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়ে ৫০ তম বিসিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে অনেকেই অংশগ্রহণ করতে পারবে না।”
চাকরি প্রার্থীরা অভিযোগ করেন,”নির্বাচনী প্রচারণার সময় সব দলের দিনরাত বিরামহীন মাইকিং, মিছিল-মিটিংয়ের কারণে মানসিক স্থিতিশীলতা ও পড়াশোনার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণায় দেশব্যাপী মারামারি-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে এবং সামনের দিনগুলোতে এটি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।লাখ লাখ পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও কেন্দ্রে প্রবেশের নিশ্চয়তা এই মুহূর্তে হুমকির মুখে।”
চাকরি প্রার্থীরা জানান,”নির্বাচনকালীন নির্বাহী আদেশ প্রদান করে নির্বাচন কমিশন চাইলেই ৫০ তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অবিলম্বে স্থগিত করতে পারে।অতীতে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে ৪৫ তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা এবং কয়েকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কারণে ৪৬ তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিত করার নজির রয়েছে।এই বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো যেন নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানায়।
চাকরি প্রার্থীদের পক্ষে লিখিত আবেদন জমা আসা সজীব ফরাজী বলেন,”আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচার প্রচারণার কারণে ৫০ তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার্থীরা ত্রিমুখী সংকটে পড়েছে।এজন্য পরীক্ষার্থীরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে পরীক্ষা দিতে চায়।”উল্লেখ্য যে,এর আগে ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন এবং ২০ জানুয়ারি পাবলিক সার্ভিস কমিশন অফিসে গিয়ে পৃথক দুটি স্মারকলিপি প্রদান করেন চাকরি প্রার্থীরা।
কিউএনবি/আয়শা/২৬ জানুয়ারী ২০২৬,/বিকাল ৪:৪১