নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্বাচনকালীন সময়ে প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগের ভাইভা,এবং নির্বাচনী ট্রেনিং একসঙ্গে থাকায় বিপাকে পড়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা ।নির্বাচনী প্রচারণায় শব্দদূষণ ও ভোটারদের কাছে পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে গিয়ে বহুমুখী চাপের মুখে পড়ায় নির্বাচনের সময় সকল ধরনের চাকরি পরীক্ষা স্থগিত রাখার দাবিতে নির্বাচন কমিশন অফিসে লিখিত আবেদন করেছেন বিসিএস প্রত্যাশী চাকরী প্রার্থীরা।
আজ ২৪ জানুয়ারি(২০২৬) শনিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন অফিসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম এন্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী জালাল আহমদের নেতৃত্বে চাকরি প্রার্থীদের একটা প্রতিনিধি দল এই এই লিখিত আবেদন জমা দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাকরি প্রত্যাশী শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান,সজীব ফরাজী, তাবাসসুম তন্বী, খায়রুন নাহার প্রমুখ। এ সময় নির্বাচনী ট্রেনিং আছেন এমন অন্তত ৭জন ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার্থীর লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
তারা হলেন -১)মিলিকা ইসলাম,(২) ডা:কাজী দিলশাদ,(৩) হাফছা জাহান,(৪) সুবীর সরকার,( ৫)নুসরাত জাহান,(৬) সজিব মিয়া এবং (৭) জান্নাতুল বাকী। লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, “রাষ্ট্রের সচেতন নাগরিক হিসেবে দীর্ঘ ১৭ বছর পরে আমাদের দেশে যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে তাতে ভোটদান ও জুলাই যোদ্ধা হিসেবে গণভোটের হ্যাঁ এর পক্ষে প্রচারণায় এবং নির্বাচনী উৎসবে অংশগ্রহণ করতে চাই।একই সাথে ৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ এ অনুষ্ঠিতব্য ৫০ তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অনেকেই নির্বাচনী ট্রেনিং এবং দায়িত্ব পালন করবে”
তারা আরো জানান, “সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সরকারি প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগে উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা আগামী ২৮শে জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়ে ৫০ তম বিসিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে অনেকেই অংশগ্রহণ করতে পারবে না।”চাকরি প্রার্থীরা অভিযোগ করেন,”নির্বাচনী প্রচারণার সময় সব দলের দিনরাত বিরামহীন মাইকিং, মিছিল-মিটিংয়ের কারণে মানসিক স্থিতিশীলতা ও পড়াশোনার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণায় দেশব্যাপী মারামারি-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে এবং সামনের দিনগুলোতে এটি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।লাখ লাখ পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও কেন্দ্রে প্রবেশের নিশ্চয়তা এই মুহূর্তে হুমকির মুখে।”
চাকরি প্রার্থীরা জানান,”নির্বাচনকালীন নির্বাহী আদেশ প্রদান করে নির্বাচন কমিশন চাইলেই ৫০ তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অবিলম্বে স্থগিত করতে পারে।অতীতে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে ৪৫ তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা এবং কয়েকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কারণে ৪৬ তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিত করার নজির রয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলন (২০১৮ এবং ২০২৪) এর আইন ও আদালত সেলের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্বে থাকা জালাল আহমদ জানান,”নির্বাচনকালীন সময়েই ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা থাকায় তরুণ ভোটারদের ওপর তীব্র মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে।
একদিকে জাতীয় নির্বাচনে নাগরিক দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি, অন্যদিকে কঠিন প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষার চাপ—এই দ্বিমুখী পরিস্থিতি তরুণদের স্বাভাবিক মনোযোগ ও নির্বাচনে অংশগ্রহণকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।এবারের নির্বাচনে গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর জন্য নির্বাচনের প্রচারণার দিন ২১ জানুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সকল চাকরি পরীক্ষা স্থগিত করা অত্যন্ত জরুরী।”চাকরি প্রার্থীদের পক্ষে লিখিত আবেদন জমা আসা সজীব ফরাজী বলেন,”আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচার প্রচারণার কারণে ৫০ তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার্থীরা ত্রিমুখী সংকটে পড়েছে।এজন্য পরীক্ষার্থীরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে পরীক্ষা দিতে চায়।”উল্লেখ্য যে,এর আগে ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন এবং ২০ জানুয়ারি পাবলিক সার্ভিস কমিশন অফিসে গিয়ে পৃথক দুটি স্মারকলিপি প্রদান করেন চাকরি প্রার্থীরা।
কিউএনবি/আয়শা/২৪ জানুয়ারী ২০২৬,/রাত ৮:৪০