ডেস্ক নিউজ : শীত মৌসুমে নিত্যপণ্যের বাজারে দামের ওঠানামার মধ্যে ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সরবরাহ ভালো থাকায় ডিমের চাহিদা কমেছে, ফলে খুচরা বাজারে এক ডজন ডিমের দাম কমে এসেছে। তবে ডিমের দামে এই স্বস্তির বিপরীতে মাছ ও মুরগির বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। আগের কয়েক সপ্তাহের মতোই মাছের দাম চড়া রয়েছে, আর মুরগির বাজার রয়েছে স্থিতিশীল অবস্থায়।

এদিকে মাংসের বাজারে গরু ও খাসির দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। গরুর মাংস আগের মতোই ৭৫০ থেকে ৯৫০ টাকা, খাসির মাংস ১,২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহ বা মাসের ব্যবধানে এ দাম অপরিবর্তিত থাকলেও, ক্রেতারা বলছেন, অপরিবর্তিত মানে স্থিতিশীল নয়- এখনকার এই দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
অন্যদিকে মুরগির বাজারে দামে কোনো বড় পরিবর্তন নেই। আজকের বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দাম ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি। বিক্রেতারা বলছেন, মুরগির সরবরাহ ও চাহিদা-দুটোই প্রায় সমান থাকায় দাম আগের জায়গাতেই স্থির রয়েছে।

বনশ্রী এ ব্লক কাঁচাবাজারের বাজারের মুরগি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, শীতের কারণে খামারিরা মুরগি দীর্ঘদিন ধরে রাখতে চান না। নিয়মিত বাজারে মুরগি আসছে। আবার বড় ধরনের চাহিদাও নেই। তাই দামে তেমন কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। তবে ক্রেতাদের কেউ কেউ মনে করছেন, মুরগির দাম আরও কমার সুযোগ আছে। বাজারে মুরগি কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, বছরের শুরুতে ব্রয়লার ১৫০–১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তখন তো ব্যবসায়ীরা লোকসানে ছিলেন না। এখন দাম কমছে না কেন, সেটা বোঝা যায় না। দোকানে তো মুরগির ঘাটতি চোখে পড়ে না।
মাছের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, আগের কয়েক সপ্তাহের মতোই দাম চড়া অবস্থায় রয়েছে। সরবরাহ থাকলেও দামে তেমন কোনো স্বস্তি নেই। বাজারে কোরাল মাছ ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, আইড় ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, সরপুঁটি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং শিং ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। রুই ও কাতলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে।

চাষের মাছের মধ্যে পাঙাশ ও সিলভার কার্প ২০০ থেকে ২৮০ টাকা, বড় সাইজের তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সামুদ্রিক মাছের মধ্যে বড় আকারের চিংড়ি ৭৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ছোট চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে আজকের বাজারে ইলিশের দামও চড়া রয়েছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং দুই কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছ কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আল মামুন বলেন, মাছের বাজারে দরদাম করার সুযোগ প্রায় নেই। যে দাম বলা হয়, সেই দামেই কিনতে হয়। ডিমের দাম কমেছে, সেটা ভালো। কিন্তু মাছের দামে কোনো স্বস্তি না থাকায় বাজেট মেলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ডিমের ক্ষেত্রে সরবরাহ বাড়া ও বিকল্প পণ্যের উপস্থিতি দামে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। তবে মুরগির বাজারে সেই চাপ তৈরি হয়নি। ফলে ডিমে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, মুরগির বাজারে ক্রেতারা এখনো অপেক্ষার মধ্যেই রয়েছেন, দাম কমার আশায়।
কিউএনবি/আয়শা/১৬ জানুয়ারী ২০২৬,/দুপুর ২:৫০