আন্তর্জাতিক ডেক্স : ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে পত্নীসহ আটকের চাঞ্চল্যকর অভিযানে প্রধান ভূমিকায় দেখা গেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে রহস্যময় এবং দুর্ধর্ষ বাহিনী ‘ডেল্টা ফোর্স’ কে। বিশ্ব রাজনীতিতে এই গ্রেফতার নিয়ে যখন বিতর্কের ঝড় বইছে, তখন সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন—কারা এই ডেল্টা ফোর্স? কেন তারা সাধারণ কমান্ডোদের চেয়ে আলাদা?
পেন্টাগন বা মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে এই বাহিনীর অস্তিত্ব খুব একটা প্রকাশ করতে চায় না। এদের কোনো নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম নেই। অভিযানের সময় তারা সাধারণ মানুষের পোশাকে বা শত্রু দেশের বাহিনীর ছদ্মবেশে চলাফেরা করতে পারে। এদের সদস্যদের পরিচয় সবসময় গোপন রাখা হয়। এমনকি তাদের প্রশিক্ষণের ধরন সম্পর্কেও বাইরের পৃথিবীর মানুষ খুব কমই জানে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেল্টা ফোর্সের সদস্যরা কেবল শারীরিকভাবেই শক্তিশালী নন, তারা প্রযুক্তিতেও বিশ্বের সেরা। ড্রোন প্রযুক্তি, সাইবার হ্যাকিং এবং অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে তারা স্বয়ংসম্পূর্ণ। নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের মতো হাই-ভ্যালু টার্গেট দমনে তারা কয়েক মাস আগে থেকে নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে এবং মুহূর্তের মধ্যে অভিযান শেষ করতে পারদর্শী।
ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে আটক: ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে খুঁজে বের করার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এই বাহিনীর। আবু বকর আল-বাগদাদি নিধন: আইএসের শীর্ষ নেতা বাগদাদিকে হত্যার অভিযানেও তারা নেতৃত্ব দিয়েছিল। জিম্মি উদ্ধার: বিশ্বজুড়ে বহু দেশে মার্কিন নাগরিকদের উদ্ধারে তারা নীরবে কাজ করে গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভেনেজুয়েলার মতো একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রধানকে ধরার পেছনে ডেল্টা ফোর্সকে ব্যবহার করার অর্থ হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কঠোর কোনো সামরিক বার্তা দিচ্ছে। এই বাহিনী সাধারণত তখনই ব্যবহৃত হয়, যখন সাধারণ কূটনৈতিক বা গোয়েন্দা তৎপরতা ব্যর্থ হয়।
কিউএনবি/মহন/০৪ জানুয়ারি ২০২৬,/দুপুর ১:৪৬