আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট কে স্ত্রী সহ তার প্রাসাদ থেকে ধরে নিয়ে আসা ডেল্টা ফোর্স আসলে কারা? কতটা শক্তিশালী? চলুন দেখি..
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা ফোর্স বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী এবং রহস্যময় বিশেষ বাহিনী। তারা বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক এবং কাস্টমাইজড অস্ত্র ব্যবহার করে। তাদের প্রযুক্তির নাগাল সাধারণ সেনাবাহিনী পায় না। ডেল্টা ফোর্সে যোগ দেওয়া বিশ্বের কঠিনতম কাজগুলোর একটি। শত শত আবেদনকারীর মধ্যে মাত্র ৩-৫% টিকে থাকে। ডেল্টা ফোর্সের সদস্যরা একাধারে প্যারাশুটিং, স্কুবা ডাইভিং, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ এবং একাধিক ভাষা ও সংস্কৃতিতে দক্ষ হয়। যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত সেরাদের সেরা যোদ্ধা বাছাই করে এই ফোর্সে আনা হয়।
অর্থাৎ জলে স্থলে অন্তরীক্ষে তারা অভিযানে অত্যন্ত দক্ষ এবং নিখুঁত নিশানা করে। ২০০৩ সালে ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে তারাই ধরেছিল। ২০১৯ সালে সিরিয়ায় আইএস প্রধান বাগদাদিকে শেষ করার অপারেশনটি ডেল্টা ফোর্স পরিচালনা করেছিল। ডেল্টা ফোর্সের ইতিহাস ও অপারেশনগুলো এতই রোমাঞ্চকর যে হলিউডের বহু সিনেমা যেমন: Black Hawk Down তাদের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে।
এদের বলা হয় “Quiet Professionals”। এরা অনেক বেশি গোপনীয়তা বজায় রাখে এবং সাধারণত লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে টার্গেটেড অপারেশন করে। তাদের ইউনিফর্ম দেখেও সনাক্ত করা সম্ভব হয় না। অভিযানে তারা প্রায়ই সাধারণ মানুষের পোশাক বা দাড়ি রেখে কাজ করে যাতে ভিড়ের মধ্যে মিশে যেতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তথ্য বলছে, ডেল্টা ফোর্সের অস্তিত্ব দীর্ঘকাল গোপন রাখা হয়েছিল। এদের প্রধান কাজগুলো হলো, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে জিম্মিদের উদ্ধার করা।
শত্রু শিবিরের ভেতরে ঢুকে তথ্য সংগ্রহ বা গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা। বড় মাপের সন্ত্রাসী বা শত্রু নেতাদের আটক বা খতম করা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নেভি সিলসহ সামরিক কিছু নথিপত্র দেখা যায়, এই বিশেষ বাহিনীর সদস্য সংখ্যা মাত্র 500 থেকে ১০০০ জন। পেন্টাগন বা মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ দীর্ঘকাল ডেল্টা ফোর্সের অস্তিত্ব অস্বীকার করে এসেছে। তারা একে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে ডাকে।
ডেল্টা ফোর্সের কোনো সরাসরি নিয়োগ নেই। কেউ চাইলেই সিভিলিয়ান থেকে ডেল্টা ফোর্সে যেতে পারবে না। এর সদস্যরা মূলত আসে মার্কিন সেনাবাহিনীর “Army Rangers” এবং “Special Forces (Green Berets)” থেকে। অর্থাৎ, তারা আগে থেকেই যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত সেরাদের সেরা যোদ্ধা।
বলা হয়ে থাকে, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে, ডেল্টা ফোর্সের একটি ইউনিট মাত্র ৪ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে সেখানে পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত থাকে। তাদের নিজস্ব বিমান বহর এবং অত্যন্ত গোপন যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে যা সাধারণ রাডারে ধরা পড়ে না।
১৯৮৯ সালে পানামার স্বৈরশাসক ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে ধরার সময় ডেল্টা ফোর্স একটি জেলখানায় হানা দিয়ে মার্কিন নাগরিক কার্ট মিউজকে উদ্ধার করে। এই অপারেশনটি এতই নিখুঁত এবং দ্রুত ছিল যে, শত্রুপক্ষ বুঝে ওঠার আগেই ডেল্টা টিম হেলিকপ্টারে করে জিম্মিকে নিয়ে উধাও হয়ে যায়।
ঠিক একই রকম ঘটনা ঘটেছে মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যে বিশ্বে। ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট এর বাসভবনে ঢুকে যখন তাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছিল তখন সেখানকার সেনাবাহিনী বুঝতেও পারেনি। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন দেশের নেতারা। সমালোচনা উঠেছে মার্কিন এই বিশেষ বাহিনী নিয়ে।
মার্কিন অভিযানে যুক্তরাজ্য “কোনওভাবেই জড়িত ছিল না” বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার। জানান, নিকোলাস মাদুরোকে ‘আটক’ করার বিষয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে কথা বলেননি।
কিউএনবি/আয়শা/০৩ জানুয়ারী ২০২৬,/রাত ৯:৩৩