শান্তা ইসলাম ,নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনা সদর উপজেলার মৌগাতি ইউনিয়নের জামাটি গ্রামে নুর মোহাম্মদ হত্যাকাণ্ডের জের ধরে পাঁচটি পরিবারে চালানো হয়েছে ভয়াবহ সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট। হামলাকারীরা প্রায় সোয়া কোটি টাকার সম্পদ লুটে নিয়ে তছনছ করে দিয়েছে ঘরবাড়ি, পুকুর, গবাদিপশু ও ঘরোয়া মালামাল। অভিযোগ অনুযায়ী, মাতু মিয়া, মনু মিয়া, মজনু মিয়া এবং মইজ উদ্দিনের পরিবারের পাঁচটি ঘর সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলে দুর্বৃত্তরা।
১০টি পুকুর থেকে প্রায় ৮০ লাখ টাকার মাছ তুলে নিয়ে যায়। সঙ্গে মোটরসাইকেল, সোনার অলংকার, নগদ অর্থ, আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক্স পণ্য ও ঘরোয়া জিনিসপত্রও লুট করা হয়। ভুক্তভোগীরা জানান, মনু মিয়ার দুটি, মাতু মিয়ার দুটি, মজনু মিয়ার একটি এবং মইজ উদ্দিনের একটি ঘর সম্পূর্ণ তছনছ করা হয়েছে। এছাড়া দুই পরিবারের পুকুর ও দুইটি গরুও লুট হয়। ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করে বলেন, মোফাজ্জল হোসেন, তরিকুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, শবিকুল ইসলাম, আব্দুল, শিপনসহ আরও ১৫–২০ জন সশস্ত্র অবস্থায় হামলায় অংশ নেয়। সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা ঘটনাটির সত্যতা স্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৩০ আগস্ট রাতে নুর মোহাম্মদ হত্যা মামলার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই প্রতিপক্ষরা পাঁচ পরিবারে তাণ্ডব চালিয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের। অভিযোগকারীরা জানান, “হত্যাকাণ্ড কে করেছে আমরা জানি না। কিন্তু আমাদের ভয় দেখিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। সেই সুযোগে আমাদের সব লুটপাট করে নিয়ে গেছে।”পাট মইজ উদ্দিন বলেন, “আমার দুইটি ঘর, দুইটি পুকুর আর দুইটি গরু লুট করে নিয়েছে।
বাড়িতে ফেরার সাহস নেই, আবার হামলা হতে পারে।” মজনু মিয়ার আর্তি , “এই ঘটনার জেরে আমাদের সব শেষ হয়েছে। পরিবার নিয়ে কোথায় থাকবো বুঝতে পারছি না। নিরাপত্তা চাই, ন্যায়বিচার চাই।” হামলার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাঁচ পরিবারের শিশু, নারী–পুরুষ সবাই প্রাণনাশের ভয়ে বিভিন্ন আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।
নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারছে না কেউই। থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও পথে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তাদের। এদিকে, উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো উচ্চস্বরে দাবি জানাচ্ছে , “লুটপাটকারীদের বিচার চাই, নিরাপত্তা চাই।”
কিউএনবি/আয়শা/২৯ নভেম্বর ২০২৫,/সন্ধ্যা ৬:৫০