বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৫৪ অপরাহ্ন

পিসিবির সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টানলেন আজহার আলী

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৬০ Time View

স্পোর্টস ডেস্ক : পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক আজহার আলী পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)-এর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। পিসিবি কর্মকর্তাদের কাছে তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং এতদিন দায়িত্বে থাকা যুব উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক ও জাতীয় দলের নির্বাচকের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। পিসিবি কর্তৃপক্ষ যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি। এছাড়া তিনি পদত্যাগের পর তার পদ কাকে দেওয়া হবে এ প্রসঙ্গেও কোনো পরিকল্পনা দেশটির ক্রিকেট বোর্ড জানায়নি।

ভারতের সাবেক ব্যাটার রাহুল দ্রাবিড় যেমন ভারতের জন্য ছিলেন নির্ভরযোগ্য নাম্বার থ্রি, তেমনই পাকিস্তানের হয়ে এই ভূমিকা পালন করেছেন আজহার আলী। পরিসংখ্যানে দ্রাবিড় এগিয়ে থাকলেও পাকিস্তান দলে আজহারের গুরুত্বও কম নয়। প্রতিটি সফরে তিনি ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। মিসবাহ উল হকের সময়ও তিনি দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন।

শিশু বয়সে ক্রিকেটের শুরুটা করেছিলেন লেগস্পিনার হিসেবে। যুব ক্রিকেটে প্রথম ডাক পান স্পেশালিস্ট লেগস্পিনার হিসেবে। অনূর্ধ্ব-১৭ পর্যায়ে এসে তিনি সিদ্ধান্ত নেন ব্যাটার হিসেবে খেলবেন। এরপর নিজেকে বদলে ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে খেলতে শুরু করেন। ১৯ বছর বয়সে তিনি স্কটল্যান্ডে গিয়ে হান্টলি ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে খেলতে শুরু করেন।

ক্যারিয়ারের প্রথম বড় টার্ন আসে ২০০৭-০৮ মৌসুমে। কায়েদে আজন্ম ট্রফিতে ৫০.২৫ গড়ে ৫০৩ রান করেন। পরের মৌসুমে দলকে ফাইনালে নিয়ে যান এবং চ্যাম্পিয়ন হওয়া ম্যাচে যথাক্রমে ৯৯ ও ২৫ রান করেন। এরপর ডাক পান পাকিস্তান দলের অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য, যেখানে প্রায় ৪০ গড়ে রান সংগ্রহ করেন।

আজহার আলী এমন কয়েকজন পাকিস্তানি ক্রিকেটারের মধ্যে একজন, যাদের ওডিআই অভিষেকের আগে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল। ২০১০ সালে লর্ডসে অজিদের বিপক্ষে টেস্টে অভিষেক ঘটে তার। দ্বিতীয় টেস্টেই ১৮০ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৫১ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেন।

পরের ইংল্যান্ড সফরে প্রথম দুই টেস্টে তেমন অবদান না রাখলেও তৃতীয় টেস্টে অপরাজিত ৯২ রানের ইনিংস খেলেন। ২০১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তার ইস্পাত মানসিকতার প্রমাণ দেন। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ইউনিস খানের সাথে চতুর্থ ইনিংসে প্রতিরোধ গড়ে দলকে ড্র এনে দেন। পরের টেস্টেও দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৯০ রান করেন।

ওডিআইতে আজহারের ক্যারিয়ার মসৃণভাবে এগোয়নি। তবে মিসবাহের অবসরের পর নেতৃত্বের দায়িত্ব কাঁধে নেন। তার অধীনে পাকিস্তান নয় বছর পরে শ্রীলঙ্কা সফরে সিরিজ জেতে। ২০১৩ সালে বাজে একটা বছর কাটান; সাত টেস্টে গড় রান ২০ এর নিচে থাকে। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চতুর্থ ইনিংসে ১৩৭ বলে ১০৩ রান করে আবারও ফর্মে ফেরেন তিনি।

২০১৬ সালে তিনি টেস্টে প্রথম ব্যাটার হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরি করেন। দুবাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪৬৯ বলে ৩০২ রান করেন। হানিফ মোহাম্মদ, ইনজামাম উল হক এবং ইউনুস খানের পর তিনি চতুর্থ পাকিস্তানি ব্যাটার হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছেন। ওই বছর ওপেনার হিসেবে ৯৮২ রান করেন, যা মহসিন খানের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ হারের পর ওডিআই অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেন। অধিনায়কত্ব না থাকলেও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, সেমিফাইনাল ও ফাইনালে যথাক্রমে ইংল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে ফিফটি করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান।

সাদা বলের ক্রিকেটকে ২০১৮ সালে বিদায় দেন আজহার। টেস্ট থেকে ২০২২ সালে অবসর নেন। টেস্টে ৯৭ ম্যাচে ১৯টি সেঞ্চুরি ও ৩৫ হাফসেঞ্চুরিতে ৭১৪২ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি। ৫৩টি ওডিআইয়ে তিনটি সেঞ্চুরি ও ১২ হাফ সেঞ্চুরিতে তার ঝুলিতে আছে ১৮৪৫ রান।

 

কিউএনবি/আয়শা/১৯ নভেম্বর ২০২৫,/রাত ১০:১৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit