তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : পৃথিবীর জলবায়ু কীভাবে বদলেছে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের ধারণায় নতুন তথ্য এসেছে। নাসার অর্থায়নে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সূর্যের মহাকাশযাত্রারও সম্পর্ক থাকতে পারে। এমনকি অতীতে বরফযুগ তৈরির পেছনেও এর ভূমিকা থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
এতদিন বরফযুগের কারণ হিসেবে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, গ্রিনহাউস গ্যাসসহ পৃথিবীর বিভিন্ন পরিবর্তনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো। নতুন গবেষণা বলছে, মহাকাশের পরিবেশও পৃথিবীর জলবায়ুর ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সূর্য থেকে বের হওয়া শক্তিশালী কণার তৈরি একটি বিশাল সুরক্ষাবলয় পুরো সৌরজগতকে ঘিরে রয়েছে। এর নাম ‘হেলিওস্ফিয়ার’। এটি মহাকাশের ক্ষতিকর কণা ও বিকিরণ থেকে পৃথিবীকে অনেকটা রক্ষা করে।
নাসার ‘শিল্ড’ সেন্টারের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, গত ১ কোটি ৪০ লাখ বছরে সূর্য অন্তত তিনবার মহাকাশের অত্যন্ত ঘন ও ঠান্ডা গ্যাস-ধুলিকণার অঞ্চলের মধ্য দিয়ে গেছে। এসব অঞ্চলের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় হেলিওস্ফিয়ার চাপে ছোট হয়ে যেতে পারে। ফলে পৃথিবী মহাকাশের বিভিন্ন কণা ও বিকিরণের প্রভাবে বেশি উন্মুক্ত হয়ে পড়ে।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, তখন মহাকাশের ঠান্ডা হাইড্রোজেনসহ বিভিন্ন কণা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢুকে আর্দ্রতা বাড়াতে পারে। এতে আবহাওয়ার ধরন বদলে গিয়ে পৃথিবীতে দীর্ঘমেয়াদি শীতলতা তৈরি হতে পারে, এমনকি বরফযুগও আসতে পারে।
সমুদ্রের গভীরের মাটি, চাঁদের মাটি এবং অ্যান্টার্কটিকার প্রাচীন বরফে মহাকাশ থেকে আসা ধুলিকণা পাওয়ার বিষয়টিও এই ধারণার সঙ্গে মিলে যায়।
তবে গবেষণাটি এখনো একটি সম্ভাবনার কথা বলছে। তারপরও বিজ্ঞানীদের কাছে এটি পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন একটি দিক তুলে ধরেছে। অর্থাৎ, পৃথিবীর জলবায়ু শুধু পৃথিবীর ভেতরের পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে না; মহাকাশে সূর্যের দীর্ঘ যাত্রাও এর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
কিউএনবি/অনিমা/২৬ অগাস্ট ২০২৬,/বিকাল ৪:২০