শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম

রাঙামাটিতে মারমা নারীকে গণধর্ষণে জড়িতদের বিচারের দাবিতে পিসিসিপি’র মানববন্ধন

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৬৫ Time View

আলমগীর মানিক,রাঙামাটি : রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে স্বজাতি কর্তৃক প্রতিবন্ধী মারমা নারীকে গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত তিন নরপশুর বিচারের দাবি ও স্থানীয় কার্বারীদের প্রথাগত বিচারের নামে উক্ত ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার প্রতিবাদে (২০ অক্টোবর) সোমবার বিকেলে রাঙামাটি শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) রাঙামাটি জেলার নেতাকর্মীরা।

বিক্ষোভ সমাবেশে পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজ এর সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মোশাররফ হোসেন এর সঞ্চালনায় উক্ত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পিসিসিপি রাঙামাটি জেলার সাধারণ সম্পাদক মো: আলমগীর হোসেন, ৩৫ কাঠুরিয়া স্মৃতি সংসদ এর আহ্বায়ক শাখাওয়াত হোসেন, পিসিএনপি রাঙামাটি জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক মো: হুমায়ুন কবির’সহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।

বিক্ষোভ সমাবেশে পিসিসিপি নেতৃবৃন্দ বলেন, রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়নের চংড়াছড়ি মুখ এলাকায় এক প্রতিবন্ধী মারমা নারীকে স্বজাতি তিন যুবকের হাতে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ধারাবাহিক যৌন নির্যাতনের ফলে ওই নারী বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই বাচ্চার দায় কে নিবে? এই বাচ্চার অভিভাবক কে হবে?? নির্মম এই ঘটনায় অভিযুক্ত অনুচিং মারমা (৫০), কালা মারমা (৫৫) ও মং উ মারমা (৩৫ দের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

এ ঘটনায় গত ১৭ অক্টোবর স্থানীয় প্রথাগত রীতিতে একটি সামাজিক বিচার অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযুক্ত তিনজনকে ভিকটিমের জন্য মোট ৩ লাখ টাকা এবং সমাজের নামে শুকর ক্রয়ের জন্য অতিরিক্ত ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, একই বিচারে ভিকটিমকেও “সমাজের নিয়ম ভঙ্গের” দায়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। যা কখনো ন্যায় বিচার হতে পারে না মন্তব্য করে নেতৃবৃন্দ বলেন, ওই এলাকা একটি প্রভাবশালী আঞ্চলিকদল জেএসএসের সশস্ত্রবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকায় ভিকটিম পরিবারটি আতঙ্কের কারণে আইনের আশ্রয় নিতে পারছে না। এমনকি সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বাঁধার কারণে ভিকটিমকে উদ্ধার করা যায়নি।

পিসিসিপি নেতৃবৃন্দ বলেন, “এই ঘটনা পাহাড়ে সামাজিক বিচারের নামে নারীর প্রতি সহিংসতার এক ভয়াবহ উদাহরণ। অপরাধীদের অর্থদন্ড দিয়ে দায়মুক্তি দেওয়া বিচার ব্যবস্থা নয়, বরং অবিচার।”এই নৃশংস ঘটনার পরও পাহাড়ের প্রভাবশালী উপজাতি সংগঠনগুলো ইউপিডিএফ, জেএসএস কিংবা কেএনএফ এরা কেউ-ই কোনো নিন্দা বা প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

চাকমা রাণী ইয়েন ইয়েন, মাইকেল চাকমা’সহ তথাকথিত সুশীল চেতনাবাজরা সবাই চুপ, এখন তাদের চেতনা দাঁড়ায় না, প্রতিবাদ আসেনা তাদের কন্ঠে! অথচ, কোনো বাঙালির বিরুদ্ধে পাহাড়ি নারীর প্রতি অভিযোগ উঠলেই এসব সংগঠন ও ব্যক্তিরা তাৎক্ষণিকভাবে আন্দোলন, প্রচার ও অপপ্রচারে নেমে পড়ে, যা অনেক সময় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

খাগড়াছড়িতে মিথ্যা ধর্ষণের ইস্যু নিয়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে দিলেও রাঙামাটিতে মারমা প্রতিবন্ধী মেয়েটি প্রকৃতপক্ষে ধর্ষণ হলেও সকলেই চুপ।  “এই দ্বিমুখী নীরবতা প্রমাণ করে, পাহাড়ে মানবাধিকারের প্রশ্নটি অনেক সময় রাজনীতির ছায়াতলে চাপা পড়ে যায়।” বলেও জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২০ অক্টোবর ২০২৫,/সন্ধ্যা ৭:২২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit