শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
হ্যালান্ড-চের্কির জোড়া গোলে প্যালেসের মাঠে ম্যানসিটির দাপুটে জয় শিল্পকলায় শেষ হলো দুই দিনব্যাপী নজরুল অনুষ্ঠানমালা নেপালের বন্যায় ২৫০ মাইল দূরেও মিলছে লাশ, মর্গেও জায়গা নেই ইউক্রেনে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের কথা ভাবছেন পুতিন: রিপোর্ট লিবিয়ার রাজনৈতিক বিভাজনের অবসানে কাতারের প্রতিশ্রুতি এই প্রথম ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে ব্যারিস্টার পদধারী  বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ ৩৩৮ এজেন্সির ফ্যাসিবাদী সরকারের জ্বালানি নীতির কারণেই বর্তমান সংকট: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী সিমনের পরীক্ষা নিয়ে রাফিনিয়া-লোপেজের গোলে জিতল বার্সেলোনা প্রতিভা থাকলেই হবে না, বিশ্বকাপ খেলতে রোহিতকে যা করতে হবে

কালীগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সদস্যদের অনাস্থা,অনিয়ম ও স্বৈরাচারিতার অভিযোগ

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি ।
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৭৫ Time View

‎জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না ন্না,  ‎​লালমনিরহাট প্রতিনিধি : ‎​লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও স্বৈরাচারিতার অভিযোগ এনেছেন পরিষদের সকল সদস্য। চেয়ারম্যানের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে গত ২৫ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন তারা। পরিষদের সকল সদস্যই এই অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন।

‎​সদস্যদের অভিযোগে জানা গেছে, চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন সরকারি বিধি উপেক্ষা করে একক সিদ্ধান্তে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের প্রকল্প গ্রহণ করেন। নিয়ম অনুযায়ী সদস্যদের নিয়ে সভা ও রেজুলেশনের মাধ্যমে প্রকল্প গ্রহণের কথা থাকলেও তিনি তা মানতে নারাজ। ইউনিয়ন পরিষদের রেজুলেশন ছাড়াই তিনি উপজেলা কমিটির কাছে প্রকল্প উপস্থাপন করে বরাদ্দ নেন এবং নিজেই তা বাস্তবায়ন করেন। ‎অভিযোগ উঠেছে, এসব প্রকল্পে নামমাত্র কাজ করে তিনি লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়াও ত্রাণসহ বিভিন্ন সরকারি অনুদান বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

‎​এসব অনিয়ম নিয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে ১৫ থেকে ২০টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা। ‎শৈলমারী চরের জহির রায়হান জানান, তাদের বিদ্যালয় মাঠে মাটি ভরাটের জন্য বরাদ্দ এলেও চেয়ারম্যান এক ফোঁটা মাটিও ফেলেননি। এ বিষয়ে তিনি ইউএনও-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ​ভিজিডি কার্ড বিতরণ ও নারী সদস্যকে লাঞ্ছনা ‎​ভিজিডি কার্ড বিতরণেও চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। কার্ড পরিষদে বিতরণ না করে তিনি নিজ বাড়িতে নিয়ে যান।

সেখানে সুফলভোগীদের কার্ড দিতে গড়িমসি করায় সংরক্ষিত মহিলা সদস্য শিউলি বেগম প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যান তাকে মারপিট করে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ শিউলি বেগমের। তিনি এই ঘটনার বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ​সংরক্ষিত মহিলা সদস্য শিউলি বেগম বলেন, “ভিজিডি কার্ড আটকিয়ে চেয়ারম্যান টাকা দাবি করেন। এর প্রতিবাদ করায় নিজ বাড়িতে সকলের সামনে আমাকে মারপিট ও লাঞ্ছিত করেছেন। একক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় সভা চলা অবস্থায় সকল সদস্যকে নোংরা ভাষায় গালমন্দ করে পরিষদ থেকে বের করে দিয়েছেন। আমরা সকলে তার প্রতি অনাস্থা এনেছি।”
‎​
‎​চলতি অর্থ বছরে টিআর-কাবিখা প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রেও গুরুতর অনিয়মের আশ্রয় নেন চেয়ারম্যান। তিনি ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় সভা আহ্বান করে ১৫ সেপ্টেম্বর নোটিশ জারি করেন। কিন্তু সেই সভার আগেই ১৫ সেপ্টেম্বর প্রায় ১৪ লাখ ৬০ হাজার ২৩৪ টাকা, ১০.৫০ মেট্রিক টন চাল ও ১০.৫০০ মেট্রিক টন গমের বরাদ্দসহ প্রকল্প রেজুলেশন ছাড়াই গোপনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর পাঠান।

​নোটিশ অনুযায়ী ২১ সেপ্টেম্বর সদস্যরা সভায় বসলে চেয়ারম্যান একক সিদ্ধান্তে প্রকল্প গ্রহণের কথা বললে বিতর্ক শুরু হয়। এ সময় চেয়ারম্যান সকল সদস্যকে গালমন্দ করে এবং লোকজন দিয়ে হেনস্থা করে পরিষদ থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ সদস্যদের। পরবর্তীতে সদস্যরা জানতে পারেন, সভার আগেই প্রকল্প অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সদস্যরা ইউএনও-কে বিষয়টি অবহিত করে বিচার চান। কোনো ফল না পেয়ে গত ২৫ সেপ্টেম্বর তারা চেয়ারম্যানের প্রতি অনাস্থা প্রস্তাব তুলে ইউএনও বরাবর লিখিত আবেদন করেন।

​ভোটমারী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহবুব সরোয়ার জানান, সভার আগে প্রকল্প উপস্থাপনের বিষয়টি তার অজানা। তিনি আরও বলেন, চলতি অর্থ বছরের টিআর-কাবিখা (প্রথম কিস্তির) রেজুলেশন এখন পর্যন্ত করা হয়নি। চেয়ারম্যান একাই সভার নোটিশ করেছেন এবং প্রকল্প পাঠিয়েছেন। ‎​অনাস্থা প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সদস্যরা স্বাক্ষর না করলে তো উন্নয়ন থেমে থাকবে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। সকল প্রকল্প দেখে কর্তৃপক্ষ অর্থ ছাড় দিয়েছেন। একটি গ্রুপের উস্কানিতে সদস্যরা অনাস্থা এনেছেন।”

​এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা বলেন, “ভোটমারী ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ এসেছে। সকল অভিযোগ তদন্ত চলছে। একই সাথে অনাস্থার বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কিউএনবি/আয়শা/১৬ অক্টোবর ২০২৫,/বিকাল ৫:৪০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit